তদন্তে উঠে এসেছে, একতরফা প্রেম থেকেই এই অপরাধের সূত্রপাত। ওই চিকিৎসকের কাছ থেকে প্রায় ৩ হাজার ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করা হয়েছে, যা গোপনে রেকর্ড করা হয়েছিল।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 21 March 2026 20:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্লিনিকে গোপন ক্যামেরা বসানো ছিল জানতেন না মহিলা সহকর্মী। সুযোগের 'সদব্যবহার' করে ব্যক্তিগত মুহূর্ত রেকর্ডও করেছিলেন, পরে সেগুলি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করতেন তিনি (hidden camera clinic crime)। এমনকি ২৫ লক্ষ টাকাও দাবি করা হয়েছিল। এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযুক্ত হলেন এক চিকিৎসক। ঘটনাটি গুজরাটের রাজকোটের (Rajkot doctor hidden camera case)।
অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম কমল নন্ধা। তদন্তে উঠে এসেছে, একতরফা প্রেম থেকেই এই অপরাধের সূত্রপাত। ওই চিকিৎসকের কাছ থেকে প্রায় ৩ হাজার ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করা হয়েছে, যা গোপনে রেকর্ড করা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজকোটের সাধু বাসওয়ানি রোডের একটি ক্লিনিকের ডেলিভারি রুমে বাল্বের হোল্ডারের ভিতরে স্পাই ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। আলো জ্বালালেই ক্যামেরা চালু হয়ে যেত এবং সমস্ত ফুটেজ মেমরি কার্ডে রেকর্ড হত। অভিযুক্ত নিয়মিত সেই কার্ড বদলে বদলে সমস্ত ভিডিও সংগ্রহ করতেন। তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সাল থেকেই এই কাজ চলছিল।
তদন্তকারীরা প্রায় ৩,০০০-রও বেশি ভিডিও উদ্ধার করেছেন, যা দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি ও ব্ল্যাকমেলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই ভিডিওগুলিতে অভিযোগকারী চিকিৎসক ও এক মহিলা সহকর্মীর ব্যক্তিগত মুহূর্ত ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগ, এই ভিডিওগুলির কিছু অংশ স্থানীয় কয়েকজন মধ্যস্থতাকারী এবং নিজেকে সাংবাদিক বলে পরিচয় দেওয়া কিছু ব্যক্তির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছিল। তারপর ওই ফুটেজ প্রকাশ্যে এনে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ২৫ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে।
এই ঘটনায় তদন্ত করছে রাজকোট সাইবার ক্রাইম থানা। ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ক্রাইম) জানিয়েছেন, অভিযুক্তের কাছে ক্লিনিকে অবাধ যাতায়াতের সুযোগ ছিল, যার সুযোগ নিয়েই সে ক্যামেরা বসায়। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে ব্ল্যাকমেলের মাত্রা বাড়তে থাকে, বারবার হুমকি ও মানসিক চাপ তৈরি করা হচ্ছিল।
এই ঘটনায় মোট ১২ জনের নাম উঠে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, ভয় দেখানো এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, যারা ভিডিও ছড়াতে বা ব্যবহার করতে যুক্ত ছিল, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এক মহিলা চিকিৎসকের প্রতি অভিযুক্তের একতরফা প্রেম থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত। ওই মহিলা চিকিৎসক নাকি অভিযোগকারী চিকিৎসকের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। এই পরিস্থিতি মেনে নিতে না পেরে অভিযুক্ত নাকি এই ভিডিওগুলিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এগোচ্ছে এবং আরও গ্রেফতার হতে পারে। একইসঙ্গে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলিকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।