
শেষ আপডেট: 4 November 2023 17:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ রাজ্যের ভোটের মধ্যে অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। স্বভাবতই মন্দির নির্মাণের কৃতিত্ব নিয়ে দড়ি টানাটানিও সমানতালে শুরু হয়েছে ভোটমুখী ছত্তীসগড়, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানায়। এরমধ্যে বিশেষ নজর কাড়ছে ছত্তীসগড় এবং মধ্যপ্রদেশ। এই দুই রাজ্যে বিজেপির তুলনায় কংগ্রেসের প্রচারে রামমন্দিরের কথা বেশি আসছে।
ছত্তীসগড়ের কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল অযোধ্যার রাম মন্দির নিয়ে সভার পর সভায় বলে চলেছেন, এর পিছনে বিজেপির কোনও কৃতিত্ব নেই। মন্দির তৈরি হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। অন্যদিকে, রাজ্যে তিনি রামের বনবাস যাত্রার গোটা পথটি পর্যটন প্রকল্প হিসাবে সাজিয়ে তুলছেন। এরজন্য কোনও আদালতের নির্দেশের প্রয়োজন হয়নি। ছত্তীসগড়ে সরকারি টাকায় কৌশল্যা মন্দির সংস্কারের কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন তিনি।
অন্যদিকে, দু’দিন আগে মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং দাবি করেন, বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের তুলনায় তিনি অনেক বেশি অর্থ অযোধ্যার মন্দিরের জন্য দান করেছেন। রাজ্যের আর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি কমলনাথ প্রচারে দাবি করেছেন অযোধ্যার রাম মন্দিরের জন্য তিনি ১১টি সোনার ইট দিয়েছেন ট্রাস্ট্রের তহবিলে।
সেই সঙ্গে রাম মন্দির নির্মাণে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ভূমিকা মনে করাচ্ছেন কমলনাথ। তাঁর বক্তব্য, ১৯৮৬ সালে প্রধানমন্ত্রী রাজবের নির্দেশে বাবরি মসজিদের তালা খোলানো হয়েছিল। তারফলেই হিন্দুরা রামলালাকে পুজো করার সুযোগ ফিরে পান। আজ যখন সেই অযোধ্যায় রাম মন্দির তৈরি হচ্ছে তখন রাজীবকে ভুলে যাওয়া উচিত হবে না। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা স্মরণ করা দরকার।
কমলনাথের এই কথা এখন মধ্যপ্রদেশের প্রতিটি সভায় কংগ্রেস প্রচার করছে। উদ্দেশ্য বিজেপির হিন্দুত্বের তাস ভোঁতা করে দেওয়া। কমলনাথ নিজেও একজন হিন্দুত্ববাদী কংগ্রেসি হিসাবে পরিচিত।
পাঁচ বছর আগে রাজ্য কংগ্রেসের ভার নেওয়ার পর থেকে তিনি দলকেও সেভাবেই তৈরি করেছেন। নিজের নির্বাচনী এলাকা ছিন্দওয়ারায় বিশাল হনুমান মন্দির এবং বজরংবলীর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে সাড়া ফেলে দিয়েছেন এই প্রবীণ কংগ্রেস নেতা।
রাজনীতিতে ‘রামভক্ত হনুমান’ হিসাবে পরিচিত কমলনাথ রাম মন্দির নির্মাণে রাজীবের ভূমিকা স্মরণ করে নরম হিন্দুত্বের পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিলেও বাবরি মসজিদ নিয়ে কংগ্রেসের মধ্যে অস্বস্তি আছে। ১৯৯২-এর ৬ ডিসেম্বর বাবরি ধ্বংসের সময় কেন্দ্রের ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেসের নরসিংহ রাও সরকারই। ফলে অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধনের দিন কংগ্রেস কী বলে সেটাই দেখার।
২০২০-র ৫ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাম মন্দিরের শিলান্যাস করেন। সেদিন প্রিয়ঙ্কা গান্ধী টুইটে দেশবাসীকে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর বাবা রাজীবের অবদানের কথা। প্রিয়ঙ্কা বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাজীবই বাবরি মসজিদের তালা খোলানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। কংগ্রেস দলগতভাব রাম মন্দির নিয়ে খুব বেশি মুখ খুলছে না। অযোধ্যা বিবাদ নিয়ে তারা শুধু সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়েই দায়িত্ব সারে।