
শেষ আপডেট: 28 February 2024 11:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মারা গেলেন টি সুথেন্দ্ররাজা। ডাক নাম সন্থান। ১৯৯১-এ রাজীব হত্যাকাণ্ডে অন্যতম দোষী সাব্যস্ত আসামি সন্থান বুধবার সকালে চেন্নাইয়ের রাজীব গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ৫৬ বছর বয়সি সন্থান লিভারের গুরুতর অসুখে ভুগছিলেন।
ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, তাঁর মৃত্যুতে ফের মানবাধিকার নিয়ে বিশ্বে প্রশ্নের মুখে পড়ল ভারত। ২০২২-এর ১১ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট রাজীব হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত সব আসামিকেই মুক্ত করে দেয়। শীর্ষ আদালতের বক্তব্য ছিল, আসামিদের জেল রেকর্ড দেখে এই সিদ্ধান্ত করা হয়েছে।
তাঁর আগে সনিয়া গান্ধী, রাহুল, প্রিয়ঙ্কারা সরকার ও আদালতকে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছিলেন দোষীদের জেলে পচিয়ে মারার পক্ষপাতী নন তাঁরা। ওই আসামিদের মুক্ত করে দেওয়া হোক। জেলে গিয়ে মূল আসামি নলিনীর প্রতি সমবেদনাও জানিয়ে আসেন প্রিয়ঙ্কা।
কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার শীর্ষ আদালতের রায়ের সঙ্গে সহমত হয়নি। তবে আদালতের নির্দেশ মতো প্রধান আসামি নলিনী-সহ ওই মামলায় জেলবন্দি সকলকেই মুক্ত করে দেয়। ব্যতিক্রম সন্থান-সহ আরও তিন আসামি। তারা আসলে তামিলভাষী শ্রীলঙ্কার জাফনার বাসিন্দা। এলটিটিই জঙ্গি গোষ্ঠীর প্রাক্তন এই চার সদস্যকে ভারত সরকার জেল থেকে মুক্তি দিলেও ত্রিচি কারাগারের স্পেশ্যাল সেলে আটকে রাখে। কারণ, রাজীব হত্যা মামলায় ৩২ বছর পর মুক্তি পেলেও তাঁদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের মামলা বহাল ছিল।
তাঁদের মুক্তির দাবিতে তামিলনাড়ুর বিজেপি বিরোধী সব দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলি দাবি তুললেও কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত থেকে নড়েনি। সেই সেল থেকে দিন সাতেক আগে সস্থান খোলা চিঠিতে জানান, ‘বহু দিন সূর্যের আলো দেখিনি।’ গোটা বিশ্বের তামিল জনতার উদ্দেশে তাঁদের মুক্তির জন্য আওয়াজ তোলার আর্জি জানান চিঠিতে।
সূত্রের খবর, সেই চিঠির প্রেক্ষিতে তাঁকে পুরোপুরি মুক্ত করার ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছিল। চেন্নাইয়ের রিজিওন্যাল ফরেন রেজিস্ট্রেশন অফিস সন্থানদের শ্রীলঙ্কায় ফেরার অনুমতি দেয়। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই বুধবার সকালে মারা গেলেন তিনি।