সামান্য স্থানীয় সাংবাদিক হিসেবে উত্থানের সিঁড়িতে পা রাখা শুরু করেন শুক্লা।

রাজীব শুক্লা হতে চলেছেন ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সভাপতি।
শেষ আপডেট: 2 June 2025 15:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘আমার বন্ধুর সংখ্যা কত, তা গুনে বলতে পারব না। আমার বন্ধুর সংখ্যা দীর্ঘ। তার থেকে সহজ, আমার শত্রুর সংখ্যা গোনা। আর এখানেই শেষ নয়, আমার জীবনের লক্ষ্য হল, তাঁদেরই নাম আমার বন্ধুর খাতায় তোলা।‘ একবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন রাজীব শুক্লা। আরও বলেছিলেন আমার কাজ হল সমস্যা মেটানো। এহেন ‘সর্বঘটে কাঁঠালি কলা’ বলে বিখ্যাত বা কুখ্যাত রাজীব শুক্লা হতে চলেছেন ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সভাপতি।
কংগ্রেস জমানায় কংগ্রেসি, বিজেপি আমলে হিন্দু ব্রাহ্মণ। সিনেমা থেকে খেলার জগৎ সর্বত্র তিনি বিরাজমান। সেই রাজীব শুক্লার উত্থানের শুরুটা আরব্য রজনীর গল্পের মতোই বিস্ময়কর। সামান্য স্থানীয় সাংবাদিক হিসেবে উত্থানের সিঁড়িতে পা রাখা শুরু করেন শুক্লা। তারপর থেকে সময়ে-অসময়ে নানান রঙের টুপি উঠেছে তাঁর মাথায়। সংসদীয় বিষয়ক ও পরিকল্পনা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী। তখন তাঁর ‘বস’ ছিলেন বিজেপির প্রয়াত নেতা অরুণ জেটলি। ছিলেন সনিয়া, রাজীব, রাহুল-প্রিয়াঙ্কার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তখন কংগ্রেসের মুখপাত্র। আইপিএলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান, বিসিসিআইয়ের প্রাক্তন মার্কেটিং কমিটির সদস্য, উত্তরপ্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি, হকি ইন্ডিয়া লিগের প্রাক্তন বোর্ড সদস্য, রাজনৈতিক ভাষ্যকার তথা মিডিয়া ব্যারন।
টুপির মতো পোশাকেও তাঁর হরেকরকমের রূপ। রাজ্যসভায় ঢোকার সময় থাকত কুর্তা-পাজামা, আইপিএল ম্যাচের সময় জ্যাকেট-টাই, বিসিসিআইয়ের মিটিংয়ে সাফারি স্যুট এবং পেজ থ্রি পার্টিতে তাঁর ছবি বেরত টি শার্টের সঙ্গে কালো চশমা পরা। আর প্রতিটি বেশভূষায় তাঁর একটাই মুখ, একগাল হাসিতে সমস্যার সমাধান করা কিংবা শত্রুজয় করা। তাঁর গ্রুপ ছবি রয়েছে সনিয়া-রাহুলের সঙ্গে। শাহরুখ খানের কানে কানে কথা বলতে। ২০০২ সালে লর্ডসে খেলোয়াড়দের ব্যালকনিতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সেই অম্লান ছবিতেও তাঁর পাশে তালি বাজাচ্ছিলেন যিনি, তাঁর নাম রাজীব শুক্লা।
সেই রাজীব শুক্লা বসতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনের প্রধানের গদিতে। যাঁর কর্মজীবন শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক সাংবাদিকতা দিয়ে। তাঁর প্রথম নিজের নামে লেখা বেরিয়েছিল ১৯৭৮ সালে। কানপুর থেকে প্রকাশিত ‘রবিবার’ নামে একটি পত্রিকায়। বিষয় ছিল একটি ছোট্ট রেল দুর্ঘটনার খবর। এরপরেই তিনি শুরু করেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনাথপ্রতাপ সিংয়ের একটি জমি চুক্তি সংক্রান্ত অন্তর্তদন্তমূলক খবরের ধারাবাহিক লেখা। এই লেখা থেকেই তিনি কংগ্রেসের নেকনজরে আসেন এবং সেই দড়ি ধরেই প্রবেশ করেন ১০ জনপথে বা কংগ্রেসের চালিকাশক্তির আঙিনায়।
রাজীব গান্ধীর ভালবাসার পাত্র হয়ে ওঠা রাজীব শুক্লা তাঁর মৃত্যুর পর আরও কাছাকাছি চলে আসেন গান্ধী পরিবারের। শুক্লা তাঁর স্ত্রী অনুরাধা প্রসাদের সঙ্গে একটি প্রোডাকশন হাউস তৈরি করেন। অনুরাধা হলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদের বোন। এই প্রোডাকশন হাউসের হাতে রয়েছে বেশ কয়েকটি নিউজ ও এনটারটেনমেন্ট চ্যানেল। আর অনুরাধার সঙ্গেই হাত ধরাধরি করে রাজীব পৌঁছে যান শাহরুখ খান ও গৌরী খানের কাছাকাছি। নীতা ও মুকেশ আম্বানির অফিসঘরে। যোগাযোগ ঘনিষ্ঠ হয় ইন্ডিয়াবুলসের সমীর গেহলৌত, এইচএফসিএলের মহেন্দ্র নাহাতা এবং ব্রডকাস্টিং দেবতা স্টার ইন্ডিয়ার সঙ্গে।
রবিবার পত্রিকা এখন বন্ধ হয়ে গেলেও সাংবাদিক হিসেবে রাজীব শুক্লা দিল্লিতে উঠে আসেন ১৯৮৩ সালে। এরপরই তিনি এবিপি গ্রুপের ‘সানডে’ ম্যাগাজিনের রাজনৈতিক সম্পাদক এবং সানডে অবজারভারের সম্পাদক পদে বসেন। সেই সূত্রেই তিনি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের কর্ণধারদের হাতের কাছে পৌঁছে যান।
২০০০ সালে কংগ্রেস ভেঙে তৈরি হওয়া লোকতান্ত্রিক পার্টি গঠন করে প্রায় দ্বিগুণ ভোটে জেতেন রাজীব শুক্লা। হিন্দি দৈনিক কাগজ দৈনিক জাগরণের লখনউ ব্যুরো চিফ শুক্লার শ্বশুর ঠাকুর প্রসাদ ছিলেন জনসঙ্ঘের নেতা। সেই রাজীব শুক্লাই পুরনো সম্পর্ক ঝালিয়ে নিয়ে ২০০৪ সালে কংগ্রেসে যোগ দেন। এবং দল ও সরকারের মুখপাত্র নির্বাচিত হন। রাজীব শুক্লা বিসিসিআইয়ের সহ সভাপতি ছিলেন ৬ বছর।