মাঝপথে গিয়ে অঞ্জলি মোবাইলে লোকেশন জানিয়ে দেন সঞ্জয়কে। আগেই ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে ছিল সঞ্জয় এবং তার দুই সহযোগী- রোহিত ও বাদল।
.jpg.webp)
রাজস্থান হত্যাকাণ্ড
শেষ আপডেট: 9 February 2026 11:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় স্বামীকে খুন তরুণীর। রাজস্থানের (Rajasthan Murder Case) এই ঘটনার সঙ্গে অনেকেই মিল পাচ্ছেন মেঘালয়ে রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ডের (Meghalaya Honeymoon Murder Case)। পুলিশ তদন্তে জানতে পেরেছে, প্রেমিকের সঙ্গে চক্রান্ত করেই স্বামীকে খুন করার পরিকল্পনা করেছিলেন তরুণী। সাত বছর আগের প্রেমের সম্পর্কে ভাঙন, এক বছর আগে আবার যোগাযোগ হয় দুজনের, নতুন করে সম্পর্ক তৈরি হয় দুজনের, যার মাশুল গুনতে হল আশিস কুমারকে।
২০১৮ সাল, একটি বিয়েবাড়িতে ওয়েটারের কাজ করছিলেন সঞ্জয় (Sanjay)। সেখানেই পরিচয় হয় ২৩ বছরের অঞ্জলির সঙ্গে। দু’জনের কথাবার্তা হয়, নম্বরও শেয়ার করেন। কিন্তু তখন অঞ্জলির (Anjali) নিজের মোবাইল ফোন না থাকায় যোগাযোগ মাঝপথেই বন্ধ হয়ে যায়।
২০২৪ সালে, ফোন কেনার পর আবার সঞ্জয়ের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন অঞ্জলি। ধীরে ধীরে কথা বাড়তে থাকে, তৈরি হয় সম্পর্ক। কিন্তু মেয়ের জীবনে কী চলছে তা না জেনেই অঞ্জলির পরিবার অন্য পাত্র ঠিক করে ফেলে। গত বছর ৩০ অক্টোবর আশিস কুমারের (Ashish Kumar) সঙ্গে বিয়ে হয় অঞ্জলির। বিয়ের পর অঞ্জলি স্বামীর সঙ্গে রাওলা এলাকায় থাকছিলেন, কিন্তু সেখানে তিনি সুখী ছিলেন না। নিজের বাড়ি সদুলশহর থেকে রাওলার ২২৫ কিলোমিটার দূরত্বও তাঁর মানসিক চাপ (Mental Stress) বাড়াচ্ছিল।
এই অবস্থাতেই তিনি ফের নিয়মিত সঞ্জয়ের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে (WhatsApp) কথা বলতে থাকেন। পুলিশ জানিয়েছে, খুনের ১৬ দিন আগে অঞ্জলি বাপের বাড়ি গিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে আশিসকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। বিয়ের পরে তাঁরা দেখা করেননি ঠিকই, কিন্তু ফোনে ঘনঘন কথা হতো। খুনের দিনই দু'জনে ৫ থেকে ৭ বার ফোনে কথা বলেছিলেন।
৩০ জানুয়ারি রাতে, খাওয়ার পর অঞ্জলি পরিকল্পনা মতো আশিসকে হাঁটতে বেরনোর জন্য ডাকেন। মাঝপথে গিয়ে মোবাইলে লোকেশন জানিয়ে দেন সঞ্জয়কে। আগেই ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে ছিল সঞ্জয় এবং তার দুই সহযোগী- রোহিত ও বাদল।
অঞ্জলির ইশারাতেই তিনজন আশিসের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে, পরে মাফলার দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় যুবককে (Rajasthan Murder Case)। পুরো ঘটনাকে ‘লুটপাট’ বলে দেখাতে অঞ্জলি নিজের কানের দুল আর স্বামীর ফোন খুনিদের হাতে তুলে দেন এবং নিজেই রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়ার অভিনয় করেন।
রাস্তা দিয়ে যাওয়া লোকজন পুলিশে খবর দিলে দু’জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আশিসকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মাথায় গুরুতর চোট এবং শ্বাসরোধে মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হয় তদন্তকারীরা।
এরপরই প্রকাশ্যে আসে খুনের আসল পরিকল্পনা। অঞ্জলি, সঞ্জয়-সহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনজন পুরুষকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজত ও অঞ্জলিকে ২ দিনের হেফাজত শেষে ইতিমধ্যেই বিকানের জেলে পাঠানো হয়েছে।