প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পাহাড় থেকে ওইদিন হঠাৎই পাথর নেমে আসতে শুরু করে, কিছু বুঝে ওঠার আগেই অনেকে চাপা পড়ে যায়। সবাই প্রাণ বাঁচাতে ছুটছিল। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে ওই চার জন চাপা পড়ে যান।

ঘটনাস্থলের ছবি
শেষ আপডেট: 28 August 2025 14:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু ও কাশ্মীরের বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের পথে ভয়াবহ ধসে প্রাণ গেল এক পরিবারের চার ভাইয়ের। রাজস্থানের সুজানগড় (চুরু) ও নাগৌর জেলার বাসিন্দা ওই চার জন মঙ্গলবার দুপুরে অর্ধকুমারী মন্দিরের কাছে ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়েন। এ ছাড়াও ধোলপুর জেলার তিন যুবক এখনও নিখোঁজ। প্রশাসন জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় ২৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হওয়ায় জম্মুর নানা এলাকায় একের পর এক ধস ও ফ্ল্যাশফ্লাডের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পরিবার সূত্রে খবর, মৃত চার ভাই ঘুরতে গেছিলেন কাশ্মীর। শ্রীনগরে বেশ কিছুদিন কাটানোর পর গেছিলেন বৈষ্ণোদেবী দর্শনে। কিন্তু মঙ্গলবার বিকেল ৩ টে নাগাদ অর্ধকুমারী মন্দির লাগোয়া ইন্দ্রপ্রস্থ ভোজনালয়ের কাছে আচমকাই পাহাড় থেকে বিশাল পাথর ও কাদা-মাটি নীচে নেমে আসতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যে চাপা পড়েন চার জন। তাঁদের চিহ্নিত করা গিয়েছে,অরবিন্দ (৩৫), আনন্দ প্লাজা মার্কেট, সুজানগড়ের ব্যবসায়ী, অনিল (৪৩), নতুন বাজার, সুজানগড়ের ব্যবসায়ী ও অরবিন্দের দাদা; গজনান্দ (৩২), সরোথিয়া বাজারের ব্যবসায়ী এবং সন্দীপ (৩৫), নাগৌরের ব্যবসায়ী। অরবিন্দ ও অনিল দুই ভাই এবং গজনান্দ ও সন্দীপ তাঁদের খুড়তুতো ভাই। স্থানীয় মহলে তাঁরা সকলে পরিচিত ব্যবসায়ী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পাহাড় থেকে ওইদিন হঠাৎই পাথর নেমে আসতে শুরু করে, কিছু বুঝে ওঠার আগেই অনেকে চাপা পড়ে যায়। সবাই প্রাণ বাঁচাতে ছুটছিল। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে ওই চার জন চাপা পড়ে যান।
অন্যদিকে, ধোলপুর জেলার সম্পু শহরের পাঁচ যুবকও একই সময়ে ধসে চাপা পড়েন। জম্মু ফেরার পথে কিষণপুর-ডোমেল রোডের গর্নাই লোটা এলাকায় ধস নামায় প্রবল জলস্রোতে ভেসে যায় তিন জন। প্রাংশু, যশ এবং শিব এখনও নিখোঁজ। তবে আদিত্য এবং দীপক স্রোতের সঙ্গে ভেসে গিয়ে গাছ আঁকড়ে বেঁচে যান। এনডিআরএফ ও স্থানীয় পুলিশ তাঁদের উদ্ধারে নেমেছে।
এই মুহূর্তে বৈষ্ণোদেবীর পথে দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৩০ ছাড়িয়েছে। রাজস্থানের একাধিক ভক্তও প্রাণ হারিয়েছেন। লাগাতার বৃষ্টি ও দুর্যোগের কারণে উদ্ধারকাজে সমস্যা হচ্ছে বলে জানাচ্ছে প্রশাসন।