তদন্তে নেমে পুলিশের একটি কল রেকর্ড পেয়েছে। এর থেকে জানা গিয়েছে, ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত সোনম ও সঞ্জয় ১১৯ বার ফোনে কথা বলেছেন। বিয়ের আগে দুজনের ঘন ঘন যোগাযোগ সন্দেহ তৈরি করছে। বর্তমানে সঞ্জয়ের ফোন বন্ধ রয়েছে।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 18 June 2025 18:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজা রঘুবংশীর হত্যাকাণ্ডে উঠে এল এক নতুন নাম- সঞ্জয় বর্মা (Sanjay Berma)। মেঘালয়ে হানিমুনে গিয়ে খুন হয়েছেন ইন্দোরের ব্যবসায়ী (Raghu Raghuvanshi Murder Case)। স্ত্রী সোনম রঘুবংশী, তাঁর প্রেমিক রাজ কুশওয়াহা-সহ আরও তিনজনকে আগেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় প্রথমবার সঞ্জয়ের নাম সামনে এল।
তদন্তে নেমে পুলিশের একটি কল রেকর্ড পেয়েছে। এর থেকে জানা গিয়েছে, ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত সোনম ও সঞ্জয় ১১৯ বার ফোনে কথা বলেছেন। বিয়ের আগে দুজনের ঘন ঘন যোগাযোগ সন্দেহ তৈরি করছে। বর্তমানে সঞ্জয়ের ফোন বন্ধ রয়েছে।
১১ মে: ইন্দোরে বিয়ে হয় রাজা ও সোনমের।
২১ মে: দম্পতি শিলং পৌঁছায়, একটি গেস্ট হাউজে থাকতে শুরু করে।
২২ মে: শিলংয়ের কিটিং রোড থেকে একটি স্কুটি ভাড়া নিয়ে সোহরার দিকে যান।
২৩ মে: নিখোঁজ হন রাজা ও সোনম।
২৪ মে: সোহরা এলাকায় স্কুটিটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
২ জুন: খাদে রাজার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়।
৭ ও ৮ জুন: উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরে আত্মসমর্পণ করেন সোনম। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়।
অভিযুক্তদের নিয়ে ইতিমধ্যেই ঘটনার পুনর্নির্মাণ করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, রাজাকে প্রথমে একটি ম্যাচেতি (স্থানীয় ভাষায় দাও) দিয়ে আঘাত করে বিশাল সিং চৌহান। স্বামীর চিৎকার শুনেই পালিয়ে যান সোনম। পরে স্বামীর মৃত্যু নিশ্চিত হলে ফেরেন এবং দেহ লোপাটে সাহায্য করেন।
পুলিশ সূত্রে আগেই জানা গিয়েছিল, সোনম ও তাঁর প্রেমিক রাজ কুশওয়াহা এই খুনের মূল ষড়যন্ত্রকারী। বিয়ের আগে থেকেই দুজনের সম্পর্ক ছিল। রাজাকে খুন করতে বিশাল চৌহান, আকাশ রাজপুত ও আনন্দ কুর্মি- এই তিনজনকে ভাড়া করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, একটি নতুন সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে, যেখানে রাজাকে (Raghu Raghuvanshi Murder Case) তাঁর বাড়ির সামনে দেখা যাচ্ছে। জানা গিয়েছে, হানিমুনে যাওয়ার আগে এটিই ছিল বাড়িতে তাঁর শেষ মুহূর্ত।
৭২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রাজা একটি স্লিং ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে ফোনে কথা বলতে বলতে বের হচ্ছেন। মনে হচ্ছে তিনি অ্যাপ-ভিত্তিক একটি গাড়ি বুক করেছেন এবং তার অপেক্ষায় রয়েছেন। গেটের সামনে একটি সাদা ট্রলিব্যাগও রাখা ছিল।
ফোন শেষ করার পরে, এক ব্যক্তি বাইকে করে সেখানে আসেন। রাজা তখন বাড়ির ভেতরে গিয়ে ট্রলিব্যাগটি নিয়ে এসে বাইকের পাশে রাখেন। এরপর তাকে ওটিপি শেয়ার করতে দেখা যায়, যা সম্ভবত অ্যাপ-রাইডের জন্য। তারপর তিনি বাইকে ওঠেন এবং ট্রলিব্যাগটি চালক ও নিজের মাঝখানে রেখে রওনা দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওতে দেখা সাদা ট্রলিব্যাগটি সেই ব্যাগের মতোই, যেটি মেঘালয়ের একটি হোমস্টে থেকে উদ্ধার হয়েছিল। পুলিশ আরও জানায়, রাজা যখন বাড়ি ছাড়েন, তখন সোনম তার শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন না। তিনি সরাসরি তাঁর বাপের বাড়ি থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন।