পুলিশ সূত্রে খবর, সোনম তাঁর স্বামীকে খুন করতে যে তিনজন ভাড়াটে খুনিকে নিয়ে এসেছিলেন, তাঁদের একজন বিশাল সিং চৌহান প্রথম কোপ মারার সঙ্গে সঙ্গে রক্তাক্ত হয়ে চিৎকার করতে থাকেন রাজা।

সোনম ও রাজা
শেষ আপডেট: 18 June 2025 13:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের পর মেঘালয়ে হানিমুনে গিয়েছিলেন ইন্দোরের নবদম্পতি রাজা রঘুবংশী (Raja Raghuvanshi) এবং সোনম রঘুবংশী (Sonam Raghuvanshi)। কিন্তু নতুন সম্পর্কের ইতি ঘটল রক্তাক্ত খুনে। রাজাকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় সোনম ও তাঁর প্রেমিককে। এবার এই হত্যাকাণ্ডে (Raja Raghuvanshi Murder Case) সোনম রঘুবংশীর ভূমিকা নিয়ে সামনে এল আরও ভয়াবহ তথ্য।
পুলিশ সূত্রে খবর, সোনম তাঁর স্বামীকে খুন করতে যে তিনজন ভাড়াটে খুনিকে নিয়ে এসেছিলেন, তাঁদের একজন বিশাল সিং চৌহান প্রথম কোপ মারার সঙ্গে সঙ্গে রক্তাক্ত হয়ে চিৎকার করতে থাকেন রাজা। সেই সময়েই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান সোনম। এরপর রাজার (Raja Raghuvanshi Murder Case) মৃত্যু নিশ্চিত হলেই ঘটনাস্থলে ফেরেন তিনি। তখনই বাকিদের সঙ্গে সোনমও দেহ লোপাটের কাজ শুরু করেন।
স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) মেঘালয়ের (Meghalaya Murder Case) সোরাহ এলাকায় সমস্ত অভিযুক্তকে নিয়ে গিয়ে ঘটনাস্থলের পুনর্গঠন করলে এই তথ্য সামনে আসে। ১১ মে বিয়ে হয়েছিল রাজা ও সোনমের। এরপরই হানিমুনের উদ্দেশে মেঘালয় যান। ২৩ মে নিখোঁজ হন দম্পতি। ২ জুন রাজার মৃতদেহ উদ্ধার হয় তাঁদের হোম স্টের থেকে কিছু দূরের একটি খাদ থেকে।
রাজাকে খুনের ছকে সোনমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাঁর প্রেমিক রাজ কুশওয়াহা এবং তিনজন ভাড়াটে খুনি- বিশাল সিং চৌহান, আকাশ রাজপুত এবং আনন্দ কুর্মি। মাংস কাটা হয় এমন একটি ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল রাজাকে। তদন্ত চলাকালীন ঘটনাস্থল থেকে সেই ধারাল অস্ত্রটিও উদ্ধার করা হয়। প্রথমে পুলিশ ভেবেছিল একটি অস্ত্রই ব্যবহার হয়েছে। কিন্তু মঙ্গলবার ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় স্পষ্ট হয়, খুনের জন্য দুটি 'দা' ব্যবহার হয়েছিল।
গোটা ঘটনার পর উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) গাজিপুরের একটি ভাড়াবাড়িতে আত্মগোপন করেছিলেন সোনম। গত ৮ জুন নিজেই থানায় আত্মসমর্পণ করেন। এর মধ্যেই আকাশ, বিশাল ও আনন্দকে উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে গ্রেফতার হন রাজ কুশওয়াহাও।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, জিতেন্দ্র রঘুবংশী সম্পর্কে সোনমের ভাই (কাজিন) খুনিদের প্রথম দফায় টাকা দিয়েছিলেন। সোনমের ভাই গোবিন্দ জানিয়েছেন, সোনমের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেই তাঁর গোটা পরিবারর রাজার পরিবারের পাশে থাকবে।
এদিকে, রাজার দাদার অভিযোগ, সোনমের বাবা-মা, দাদা-বৌদি খুনের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকতে পারেন। সত্য সামনে আনতে তাঁদের নারকো টেস্টের দাবি জানিয়েছেন তিনি।