২০ বছর পর ফের একসঙ্গে ভোটের ময়দানে রাজ ও উদ্ধব ঠাকরে। মারাঠি আবেগকে সামনে রেখে বিএমসি নির্বাচনে জোট বেঁধে মুম্বইয়ের মেয়র পদ দখলের লক্ষ্য দুই ভাইয়ের।

রাজ-উদ্ধব
শেষ আপডেট: 24 December 2025 18:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় দুই দশক পরে আবার একই মঞ্চে, একই লক্ষ্যে-ভোটের লড়াইয়ে নামতে চলেছেন উদ্ধব ঠাকরে (Uddhav Thackeray) ও রাজ ঠাকরে (Raj Thackeray)। বুধবার মুম্বইয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা হল, আসন্ন বৃহন্মুম্বই পুরসভা বা বিএমসি (BMC) নির্বাচনে জোট বেঁধেই লড়বে শিবসেনা (ইউবিটি) (Shiv Sena UBT) এবং মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা বা এমএনএস (MNS)। কোন দল কতটি আসনে প্রার্থী দেবে, তা এখনও খোলসা হয়নি। তবে ঐক্যের বার্তা দিয়ে রাজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, জোটের মনোনীত প্রার্থীই হবেন মুম্বইয়ের পরবর্তী মেয়র।
এই জোট নিছক নির্বাচনী সমঝোতা নয়, বরং মরাঠি আবেগকে সামনে রেখে শক্তি প্রদর্শনের ছক। জনসংখ্যা ও বাজেটের নিরিখে দেশের বৃহত্তম পুরসভা বিএমসির ভোট আগামী ১৫ জানুয়ারি। একই দিনে মহারাষ্ট্রের আরও ২৭টি পুরসভাতেও নির্বাচন হওয়ার কথা। সেই ভোটের আগেই ঠাকরে পরিবারের দুই ভাই একজোট হয়ে রাজনীতির ময়দানে নামার ঘোষণা করলেন।
সাংবাদিক বৈঠকে রাজ জানালেন, মুম্বইয়ের মেয়র হবেন একজন মারাঠা। তাঁর কথায় স্পষ্ট, “মারাঠি মানুষই এই শহরের মালিক।” পাশে বসে তুতো ভাই উদ্ধব ফের শোনান পুরনো স্লোগান,‘বটেঙ্গে তো কটেঙ্গে’ (Divided we fall)। আত্মবিশ্বাসী গলায় তিনি বলেন, “মুম্বই আমাদের সঙ্গেই থাকবে।” দুই ভাই-ই নিশানা করেন বিজেপি (BJP) এবং শিবসেনা (শিন্ডে) (Shiv Sena Shinde)-কে। যাঁরা এই দুই শাসকদলে অসন্তুষ্ট, তাঁদের জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানান তাঁরা।
স্বাভাবিক ভাবেই পাল্টা কটাক্ষ ছুড়েছে বিজেপি। পদ্মশিবিরের দাবি, ভোটে হারার ভয় থেকেই উদ্ধব-রাজের এই জোট। পাশাপাশি একে ‘পরিবারবাদ’-এর উদাহরণ বলেও আক্রমণ করা হয়েছে।
এই ভোট রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালের জুনে শিবসেনা ভাঙনের পরে এই প্রথম বিএমসির নির্বাচন হতে চলেছে। ২০১৭ সালে শেষ বার বিএমসি ভোটে ২২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৮৪টিতে জিতে বৃহত্তম দল হয়েছিল অবিভক্ত শিবসেনা। প্রথমে বিজেপির সমর্থনে পুরসভা চললেও, ২০১৯ সালের বিধানসভা ভোটের পরে এনডিএ (NDA) ছেড়ে কংগ্রেস (Congress) ও এনসিপি (NCP)-র সমর্থনে পুরসভা চালান উদ্ধব। মেয়াদ শেষ হলে ২০২২ সালের মার্চে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়।
উল্লেখযোগ্য, চলতি বছরের ৫ জুলাই প্রথমবার কাছাকাছি আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন উদ্ধব ও রাজ। ৩০ অক্টোবর মুম্বইয়ে ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে যৌথ সম্মেলন করেন তাঁরা। নভেম্বরে বালাসাহেব ঠাকরের (Balasaheb Thackeray) ত্রয়োদশ মৃত্যুবার্ষিকীতেও শিবাজি পার্কের সভা থেকে ঐক্যের ডাক দেন।
রাজনৈতিক ইতিহাস মনে করিয়ে দেয়, ২০০৬ সালে রাজ শিবসেনা ছেড়ে এমএনএস গড়েন। তখনও বালাসাহেব সক্রিয় রাজনীতিতে। প্রকাশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে না গেলেও, উদ্ধবের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। এক সময় বালাসাহেবের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী ছিলেন তিনিই। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি রাজনীতিতে প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি। আজ, প্রায় ২০ বছর পরে, সেই ইতিহাসের বৃত্ত যেন নতুন করে ঘুরে দাঁড়াল-মরাঠি আবেগ আর ঐক্যের ডাক নিয়ে, উদ্ধব-রাজ একসঙ্গে।