দলীয় ও যুব মোর্চা সূত্রে খবর, কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলি, মোট দশটি সাংগঠনিক জেলায় নির্দেশ পৌঁছেছে ইতিমধ্যেই। প্রত্যেক জেলাকে দেওয়া হয়েছে অন্তত ৫০০ বাইকের লক্ষ্যমাত্রা।

অমিত শাহ।
শেষ আপডেট: 24 December 2025 16:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর শেষের দু’দিন ফের কলকাতা সফরে আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। আর তাঁর এই সফর ঘিরেই অভিনব পরিকল্পনা করেছে রাজ্য বিজেপি। সূত্রের দাবি, সাধারণ সফর নয়, শাহের কনভয়কে ঘিরে গড়ে উঠতে চলেছে বিশাল বাইক মিছিল (5,000 bike convoy , Kolkata)। আগে এমন ছবি দেখা যায়নি বলেই দাবি পদ্ম শিবিরের (BJP, West Bengal)।
দলীয় ও যুব মোর্চা সূত্রে খবর, কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলি, মোট দশটি সাংগঠনিক জেলায় নির্দেশ পৌঁছেছে ইতিমধ্যেই। প্রত্যেক জেলাকে দেওয়া হয়েছে অন্তত ৫০০ বাইকের লক্ষ্যমাত্রা। ফলে শাহের গাড়ির সামনে ও পিছনে মিলিয়ে বাইকের সংখ্যা দাঁড়াতে পারে চার থেকে পাঁচ হাজারের কাছাকাছি।
যদিও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের চূড়ান্ত সফরসূচি এখনও রাজ্য বিজেপির হাতে পৌঁছোয়নি। তাই সরকারি ঘোষণা হয়নি। কিন্তু প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি থাকছে, এমনই ইঙ্গিত দলীয় সূত্রের।
শাহের ২৯ ডিসেম্বর রাতেই কলকাতায় নামার সম্ভাবনা। সে ক্ষেত্রে শাহ কলকাতায় নামার পর বিমানবন্দর থেকে নিউটাউন পর্যন্ত বাইক মিছিলের শোভাযাত্রা দিয়ে এই পরিকল্পনার সূচনা হতে পারে। আবার পরিকল্পনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে—মিছিল যদি ৩০ ডিসেম্বর সকালে হয়, তা হলে নিউটাউন থেকে বিধাননগর সেক্টর ফাইভের দলীয় দফতর পর্যন্ত যাবে কনভয়, সঙ্গে বাইকবাহিনী। যাত্রাপথও কিছুটা ঘুরিয়ে নেওয়ার ভাবনা—হলদিরাম মোড়, ভিআইপি রোড, উল্টোডাঙা, হাডকো মোড়, ইএম বাইপাস ছুঁয়ে পৌঁছবে সেক্টর ফাইভে।
তবে নিরাপত্তা-বিধির কড়াকড়ি মাথায় রেখে পরিকল্পনা বদলাতেও পারে খানিকটা। সঙ্কীর্ণ গলিতে একসঙ্গে কয়েক হাজার বাইক ঢোকা সম্ভব নয় বলে, দলীয় দফতরের গলির মুখ পর্যন্তই থাকবে মিছিল—তার পর কনভয় ঢুকবে ভিতরে, বাইকগুলো এগিয়ে যাবে মূল রাস্তা ধরে।
দলের একাংশের দাবি—দিনের আলোয় মিছিল হলে জনসংযোগের সুযোগ বেশি। অন্যদিকে আরেক গোষ্ঠীর যুক্তি—রাতে বিমানবন্দর-নিউটাউন রোডে হাজার হাজার বাইকের হেডলাইটের ঝলক, দৃশ্যটাকেই করে তুলবে ‘বছরশেষের স্মরণীয় মুহূর্ত’।
গত এক দশকে সবচেয়ে বেশি বার বাংলায় এসেছেন অমিত শাহ। কিন্তু তাঁর সফর ঘিরে এত বড় বাইক মিছিলের পরিকল্পনা আগে হয়নি। বিজেপির ব্যাখ্যা—এই সফরে জনসভা বা প্রকাশ্য কর্মসূচি নেই, সবই সাংগঠনিক বৈঠক। তাই বাইক মিছিলকে দেখা হচ্ছে জনসংযোগ ও শক্তিপ্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব।