একই সঙ্গে রাহুল এও দাবি করেছেন, নতুন যে তথ্য সামনে তিনি আনবেন সেটা দেখার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আর মুখ দেখানোর জায়গাও থাকবে না।

রাহুল গান্ধী এবং নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 1 September 2025 18:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকায় (Voter List) কারচুপির অভিযোগে ফের কেন্দ্রে থাকা বিজেপি সরকারের (BJP) বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Congress Leader Rahul Gandhi)। সোমবার পাটনায় শেষ হল 'ইন্ডি' জোটের ‘ভোট অধিকারের যাত্রা’। সেখানেই বিজেপিকে তোপ দেগে রাহুল বলেন, “যা আসছে সেটা পরমাণু বোমার থেকেও ভয়ঙ্কর - একটা হাইড্রোজেন বোমা (Hydrogen Bomb)। খুব শিগগিরই ভোট চুরির সত্যিটা সামনে আসবে।”
রাহুলের কথায়, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন মিলে পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকায় জালিয়াতি করেছে। কখনও আসল ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও নকল বা মৃত ভোটার যোগ হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, “আমি যে ‘ভোট চোর, গদ্দি ছোড়’ স্লোগান তুলেছি, আজ সেটা চিন থেকে আমেরিকা পর্যন্ত প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।”
একই সঙ্গে রাহুল এও দাবি করেছেন, নতুন যে তথ্য সামনে তিনি আনবেন সেটা দেখার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) আর মুখ দেখানোর জায়গাও থাকবে না।
অন্যদিকে বিজেপি পাল্টা আক্রমণ করেছে কংগ্রেসকে। পাটনা সাহিবের সাংসদ রবিশঙ্কর প্রসাদ (Ravishankar Prasad) প্রশ্ন তোলেন, “এত বড় বড় কথা বলছেন, কিন্তু নির্বাচন কমিশন যে হলফনামা চেয়েছিল সেটা দিচ্ছেন না কেন? যদি সত্যিই তথ্য থাকে, তবে আদালতের ভয় কিসের?” তিনি রাহুলকে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের অভিযোগও তোলেন।
কংগ্রেস অবশ্য স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোট কারচুপি প্রমাণ করার মতো তথ্য তাদের হাতে রয়েছে। বিশেষত বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল ও বিহারের একাধিক কেন্দ্রে ভোটার তালিকা নিয়ে অনিয়মের দিকেই তারা আঙুল তুলছে। যদিও ‘হাইড্রোজেন বোমা’র মতো চমকপ্রদ দাবি করলেও কংগ্রেস এখনই বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি।
মাঝে আবার নির্বাচন কমিশনও এই ইস্যুতে প্রশ্ন তুলেছিল রাহুল গান্ধীর দাবি নিয়ে। সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেছিলেন, 'প্রমাণ দিতে হবে অথবা দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এর বাইরে কোনও তৃতীয় পথ নেই। সাত দিনের মধ্যে প্রমাণ না এলে ধরে নিতে হবে অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।'
কমিশনের বক্তব্য, রাহুল গান্ধীর মন্তব্য আসলে সংবিধানের প্রতি অপমান। ‘ভোট চুরি’র মতো শব্দ ব্যবহার গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে খাটো করে। রাজনৈতিক দলগুলি অনেক সময় নিজেদের স্বার্থে কমিশনের কাঁধে বন্দুক রেখে ভোটারদের টার্গেট করে বলেও অভিযোগ করেন জ্ঞানেশ কুমার। কমিশনের দাবি, কিছু ভোটার দ্বিগুণ ভোট দেওয়ার আশঙ্কার কথা তুললেও কোনও প্রমাণ জমা পড়েনি।