লোকসভা ভোটের পর বৃহস্পতিবার, এই প্রথম নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার বিরোধী রণকৌশল রূপায়ণে বৈঠকে বসতে চলেছে ইন্ডিয়া জোট। সেখানে বিহার সহ গোটা ভারতে কমিশনের নতুন তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হবে।

রায়বরেলির সাংসদ রাহুল মহারাষ্ট্র ও কর্নাটক ভোটের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন।
শেষ আপডেট: 7 August 2025 22:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলেছিলেন ‘অ্যাটম বোমা’ ফাটাবেন। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের ‘কারচুপি’ নিয়ে হাটের মাঝে পরমাণু বোমাই ফাটালেন রাহুল গান্ধী। লোকসভা ভোটের পর বৃহস্পতিবার, এই প্রথম নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার বিরোধী রণকৌশল রূপায়ণে বৈঠকে বসতে চলেছে ইন্ডিয়া জোট। সেখানে বিহার সহ গোটা ভারতে কমিশনের নতুন তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হবে। তার আগেই এদিন দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিরোধী দলনেতা হিসাব কষে কষে এবং নিখুঁত তথ্য তুলে ধরে বুঝিয়ে দিলেন কী করে একটার পর একটা ভোটে ‘কারচুপি’ হয়েছে।

ভোটার তালিকা সংশোধনীতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে রায়বরেলির সাংসদ রাহুল মহারাষ্ট্র ও কর্নাটক ভোটের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে রাহুল এক এক করে অনিয়ম-কারচুপির উদাহরণ দেন। এর মধ্যে সব ধরনের ভোটার কারচুপির কথা বলেন তিনি। রাহুলের কথায়, মহারাষ্ট্র ভোটের ফল দেখার পর আমাদের সন্দেহ সত্যে পরিণত হয় যে, ভোটচুরি হয়েছে।
তিনি বলেন, বিজেপির সঙ্গে সাঁট বেঁধে নির্বাচন কমিশন মহারাষ্ট্রের ভোট লুট করেছে, আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি সেকথা। অন্যদিকে, কর্নাটকের দৃষ্টান্ত দিয়ে বলেন, বিভিন্ন বুথে একই লোকের নাম ছিল। অনেক জায়গায় তালিকা থেকে ভোটারের ছবিই উধাও হয়ে ছিল। আরও অনেক জায়গায় ভুয়ো ঠিকানা ছিল। রাহুলের দাবি, কর্নাটকের শুধুমাত্র মহাদেবপুর আসনেই ১ লক্ষ ভোট চুরি করা হয়েছে কারচুপি করে।

মহাদেবপুরের ভোটার তালিকা দেখিয়ে রাহুল বলেন, এখানে মোট ভোটার সংখ্যা সাড়ে ৬ লক্ষ। ১ লক্ষ ভোট চুরি হয়েছে। কংগ্রেসের গোপন তদন্ত বলছে, ১ লক্ষ ভুয়ো ঠিকানা এবং বিশাল সংখ্যক ভোটারের নাম একাধিক বুথে ছিল। কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ তদন্ত বলছে, লোকসভা ভোটে আমরা ১৬টি আসনে জিততাম। কিন্তু জিতেছি মাত্র ৯টিতে।
বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল কেন্দ্রের বিবরণ দিয়ে রাহুল বলেন, এই কেন্দ্রে কংগ্রেস পেয়েছে ৬,২৬,২০৮টি ভোট। বিজেপি পেয়েছিল ৬,৫৮,৯১৫ ভোট। হারজিতের ব্যবধান ছিল ৩২,৭০৭ ভোট। অন্যদিকে, মহাদেবপুরা বিধানসভা আসনে দুই দলের তফাত ছিল ১,১৪,০৪৬ ভোট। ফলে এইভাবে এক লক্ষ ভোট চুরি হয়েছে। এবং পাঁচভাবে এই ভোট চুরি হয়েছে, দাবি রাহুলের।
রাহুলের দাবি, মহারাষ্ট্রের ভোটার তালিকায় আনুমানিক ৪০ লক্ষ ভুয়ো ভোটার রয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই হল একই লোকের বিভিন্ন নাম-ঠিকানায় নাম থাকা। অনেক জায়গায় একই ঠিকানায় ৩০-৪০ জন ভোটারের নামও পাওয়া গিয়েছে। হরিয়ানার ভোটে কংগ্রেসের হারের জন্যও রাহুল ভোটার তালিকাকেই দোষী সাব্যস্ত করেন। কারণ এখানেও নির্বাচন কমিশন ভোটারদের তথ্য জানাতে বৈষম্য করেছে।

ডুপ্লিকেট ভোটার-১১,৯৬৫। একই ভোটারের নাম বারবার রয়েছে তালিকায়। ভুয়ো ঠিকানা ৪০,০০৯ জনের। বহুজনের ঠিকানা আসল নয়, কিংবা ঠিকানা মেলেনি অথবা ঠিকানার মূল্যায়ন হয়নি। একই ঠিকানায় বহু ভোটারের সংখ্যা ১০,৪৫২। তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঠিকানাও রয়েছে বলে দাবি রাহুলের। বিরোধী দলনেতার আরও অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ডিজিটাল ভোটার তালিকা দিতে অস্বীকার করেছে। বিধি বদলে দেওয়ায় সিসিটিভির ছবি সকলকে দেওয়া হয়নি এবং নির্বাচন কমিশন আসলে লুকোতে চাইছে কী?