প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্যানেলের ৮৮ মিনিটের বৈঠকে তথ্য ও ভিজিলেন্স কমিশনার নিয়োগে জাত-বৈষম্য চলছে বলে অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।

রাহুল গান্ধী, নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 11 December 2025 07:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বৈঠক নতুন নয়। রাহুল লোকসভার বিরোধী দল নেতা হওয়ার পর পদাধিকার বলে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একাধিক কমিটির বৈঠকে হাজির থাকতে হয় লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে। বুধবার প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতার এমনই একটি বৈঠক ৮৮ মিনিট ধরে চলে। তাঁদের এত দীর্ঘ বৈঠকের নজির নেই। স্বভাবতই বৈঠকে কী আলোচনা হল তা নিয়ে তুমুল কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
জানা গিয়েছে তথ্য কমিশনার এবং ভিজিলেন্স কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের কমিটির বৈঠক ছিল বুধবার। প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতা ছাড়াও তৃতীয় সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
সূত্রের খবর সেই বৈঠকে রাহুল গান্ধীর উত্থাপিত নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা দীর্ঘ সময় গড়িয়ে যায়। বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে রাহুল গান্ধী সরকারের কাছ থেকেই বেশ কিছু তথ্য পরিসংখ্যান সংগ্রহ করেছিলেন। বৈঠকে সেগুলি পেশ করে রাহুল প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে জাত বৈষম্য চলছে। সংখ্যালঘুদের উপরেও সুবিচার করা হচ্ছে না।
তথ্য ও ভিজিলেন্স কমিশনার নিয়োগের জন্য আবেদনকারীদের জাত ও ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে দিন কয়েক আগে সরকারকে চিঠি দিয়েছিলেন বিরোধীদল নেতা। বুধবার সকালেই সরকারের তরফে সেই তথ্য বিরোধী দল নেতাকে পৌঁছে দেওয়া হয়। তাতে দেখা যায় তপশিলি জাতি, উপজাতি অন্যান্য অনুন্নত শ্রেণি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় মিলিয়ে মোট ৭ জন আবেদন করেছেন। তাঁদের মধ্য থেকে আবার মাত্র একজনকে চূড়ান্ত বিবেচনার জন্য বাছাই করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে বৈঠকে এই বিষয়ে রাহুল গান্ধী জোরালো প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, তপশিলি এবং সংখ্যালঘু ওবিসিদের মধ্যে অনেক যোগ্য অফিসার রয়েছেন। কিন্তু নানাভাবে তাদেরকে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে দেওয়া হচ্ছে না।
রাহুল যে এই বৈঠকে সরব হতে পারেন তার আভাস মিলেছিল মঙ্গলবারই। ওইদিন লোকসভায় এক আলোচনায় রাহুল প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটিগুলিতে কীভাবে বিরোধী দলনেতার ভূমিকাকে গুরুত্বহীন করে রাখা হয়েছে তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন এই ধরনের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এবং একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকেন। তাঁদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। বিরোধী দলনেতার বক্তব্যকে কোন গুরুত্ব দেওয়া হয় না।
বুধবারের বৈঠকে রাহুল বলেন চূড়ান্ত পর্বের বাছাইয়ের জন্য যে অফিসারদের নাম নির্বাচন করা হয়েছে তাঁদের অনেকেরই অতীত ভাল নয়। অর্থাৎ সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা নিয়ম-কানুন লঙ্ঘন করেছেন বলে বিরোধী দলনেতার অভিযোগ।
এর আগে লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা হিসেবে প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী এই ধরনের কমিটির বৈঠকে অংশ নিতেন। তাঁর সময়ও বেশ কিছু নিয়োগ নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিরোধী নেতার বিরোধ প্রকাশে চলে এসেছিল। ২০২০ এবং ২০২৩-এ তথ্য কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত বৈঠকে অধীর চৌধুরী সরকারের মনোনীত অফিসারদের বিরুদ্ধে গুরুতর আপত্তি নথিভূক্ত করেছিলেন। তবে তাঁর আপত্তি উড়িয়েই সরকার পছন্দের অফিসারদের নিয়োগ করে। রাহুল গান্ধী মঙ্গলবার লোকসভায় তাঁর বক্তব্যে কার্যত এই ধরনের কমিটির প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন। কংগ্রেসের অভিযোগ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদাধিকারী নিয়োগের বৈঠক এমনভাবে হচ্ছে যেন বিরোধী নেতার কাজ হল সরকারি সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেওয়া। এর বিরুদ্ধে রাহুল বহুদিন ধরেই সরব। তিনি বারে বারে বলছেন প্রশাসনের মধ্যেই জাতপাতের সমস্যা বিরাজ করছে। তথাকথিত নিম্নবর্গের অফিসারদের মর্যাদাপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে না।