৮৮ মিনিটের ‘গোপন বৈঠক’! মোদী–রাহুলের মুখোমুখিতে কী নিয়ে বিস্তর আলোচনা?

নরেন্দ্র মোদী ও রাহুল গান্ধী
শেষ আপডেট: 10 December 2025 20:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর মধ্যে আজ অনুষ্ঠিত ৮৮ মিনিটের বৈঠক সংসদ ভবনের করিডরে জল্পনা ছড়িয়ে দিয়েছে। অধিবেশন চলাকালীন এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা ছিল নতুন প্রধান তথ্য কমিশনার (Chief Information Commissioner) নির্বাচনের আলোচনা। তবে এত দীর্ঘ সময় বৈঠক চলবে, তা কেউই আশা করেননি।
নিয়ম অনুযায়ী, তথ্য কমিশন, নির্বাচন কমিশন এবং ভিজিল্যান্স কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলির জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি সিলেকশন কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়। এই কমিটিতে থাকেন—প্রধানমন্ত্রী, তাঁর মনোনীত এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতা।
সূত্রের খবর, রাহুল গান্ধী আজকের বৈঠকে প্রস্তাবিত সব নিয়োগের বিরোধিতা করেছেন এবং তাঁর যা কিছুতে আপত্তি রয়েছে, সেটা লিখিতভাবে জমা দিয়েছেন। আগেও বিরোধী দলের প্রতিনিধি হিসেবে মল্লিকার্জুন খাড়্গে বা রাহুল গান্ধী এ ধরনের বৈঠকে অংশ নিলে নিয়োগ নিয়ে তাঁদের আপত্তি তুলেছেন, এমনটাই জানিয়েছেন সূত্রেরা।
তবে এবারের দীর্ঘ বৈঠক ঘিরে সংসদে গুঞ্জন ছিল আরও তীব্র। সবাই জানতে চাইছিলেন, এতক্ষণ ধরে ঠিক কী আলোচনা হল।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশনে (CIC) আটটি পদ খালি রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান তথ্য কমিশনারের পদও অন্তর্ভুক্ত। আরটিআই-সংক্রান্ত অভিযোগ ও আপিল নিষ্পত্তি করে এই কমিশন। ১৩ সেপ্টেম্বর অবসর নেওয়ার আগে হীরালাল সমারিয়া ছিলেন ভারতের Chief Information Commissioner। তাঁর অবসরের পর থেকে পদটি শূন্য। এখন মাত্র দুই তথ্য কমিশনার আনন্দী রামালিঙ্গম ও বিনোদ কুমার তিওয়ারি সমস্ত কাজ সামলাচ্ছেন।
CIC–এর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বর্তমানে মোট ৩০,৮৩৮টি মামলা অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে। তথ্য অধিকার আইনের ১২(৩) ধারা অনুযায়ী, Chief Information Commissioner ও Information Commissioner নিয়োগে সুপারিশ করার দায়িত্ব সিলেকশন কমিটির।
আজকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত মন্ত্রী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অমিত শাহ। সূত্রের দাবি, রাহুল গান্ধী দুপুর ১টায় প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পৌঁছান এবং বৈঠক শুরু হয় ১টা ০৭ মিনিটে। সময় যত গড়াতে থাকে, ততই সংসদে আলোচনা বাড়তে থাকে। এত লম্বা বৈঠকে কী এমন আলোচনা চলছে?
অবশেষে ৮৮ মিনিট পর রাহুল গান্ধী বেরিয়ে এলে জানা যায়, আলোচনার বিষয় ছিল শুধু Chief Information Commissioner নিয়োগ নয়, একসঙ্গে আটজন তথ্য কমিশনার এবং একজন Vigilance Commissioner নিয়োগ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।