মানি লন্ডারিং মামলায় রবার্ট বঢরার বিরুদ্ধে চার্জশিট, পাশে রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস। বললেন, ১০ বছরের ‘উইচ-হান্ট’।

রাহুল গান্ধী ও রবার্ট বঢরা। ফাইল চিত্র।
শেষ আপডেট: 18 July 2025 12:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রিয়েল এস্টেট সংক্রান্ত মানি লন্ডারিং (money laundering) মামলায় রবার্ট বঢরার (Robert Vadra) নামে চার্জশিট দায়ের করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED chargesheet)। এই ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)।
শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে রাহুল বলেন, 'গত ১০ বছর ধরে এই সরকার আমার ভগ্নীপতিকে হেনস্থা করে চলেছে। এই নতুন চার্জশিট সেই ধারাবাহিক ‘উইচ-হান্ট’-এরই অংশ (political witch hunt)।'
তিনি আরও লেখেন, 'আমি রবার্ট, প্রিয়ঙ্কা ও তাঁদের সন্তানদের পাশে রয়েছি। ওরা আবারও এক বিদ্বেষপূর্ণ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপবাদ ও হেনস্থার শিকার হচ্ছে। আমি জানি, ওরা যথেষ্ট সাহসী, ওরা সম্মান নিয়ে সমস্ত প্রতিকূলতার মোকাবিলা করবে। সত্যের জয় হবেই।'
My brother-in-law has been hounded by this government for the last ten years. This latest chargesheet is a continuation of that witch hunt.
I stand with Robert, Priyanka and their children as they face yet another onslaught of malicious, politically motivated slander and…— Rahul Gandhi (@RahulGandhi) July 18, 2025
রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের সঙ্গে মিলে যায় কংগ্রেস দলের অবস্থানও। দলের সাধারণ সম্পাদক রণদীপ সুরজেওয়ালা সাংবাদিকদের বলেন, 'এই জমি লেনদেনে কোনও অবৈধতার ছিটেফোঁটাও নেই। এখন কি জমি কেনাবেচা অপরাধ হয়ে গেছে?'
বৃহস্পতিবার দুপুরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট চার্জশিটটি দাখিল করে। সেখানে রবার্ট ও তাঁর কোম্পানি স্কাই লাইট হসপিটালিটি প্রাইভেট লিমিটেডের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ, ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুরগাঁওয়ের সেক্টর ৮৩-তে ৩.৫৩ একর জমি জাল নথির মাধ্যমে কেনা হয়েছিল।
ইডি দাবি করেছে, এই জাল নথির ভিত্তিতেই জমি কেনা ও পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। এরপর বঢরা তাঁর প্রভাব খাটিয়ে ওই জমির জন্য একটি বাণিজ্যিক লাইসেন্স জোগাড় করেন।
পাশাপাশি, ইডি রবার্ট বঢরা, তাঁর কোম্পানি স্কাই লাইট ও চার্জশিটে নাম থাকা অন্যান্য ব্যক্তিদের ৪৩টি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। এই সম্পত্তিগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ৩৭.৬৪ কোটি টাকা।
রবার্ট বঢরার অফিস থেকে প্রকাশিত এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়, 'এই চার্জশিট বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই ধারাবাহিক প্রতিফলন। তবে তিনি সবসময় যেমন করেছেন, তেমনই এবারও কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।'
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, 'তিনি আত্মবিশ্বাসী যে, সত্যই জয়ী হবে এবং তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হবেন। নিজের সম্মান রক্ষার জন্য আদালতে লড়াই চালিয়ে যাবেন।'
সব মিলিয়ে, এই মামলার রাজনৈতিক রং ক্রমশ তীব্রতর হচ্ছে। কংগ্রেস নেতারা একে বিজেপি সরকারের ‘বদলার রাজনীতি’ বলেই চিহ্নিত করছেন, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাদের আইনি কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এখন দেখার, এই মামলার পরিণতি কী দাঁড়ায় এবং আদালতে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত আসে।