রাহুল গান্ধী তাঁর দিকে হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলেও বিট্টু করমর্দন করতে অস্বীকার করেন। সংসদের মকরদ্বারের সামনে বিরোধী দলনেতার এবং এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এহেন আচরণ খবরের বিষয় হয়ে উঠেছে।

ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি হয়, যখন সাসপেন্ড হওয়া সাংসদরা এবং রাহুল গান্ধী সংসদের সিঁড়িতে একটি ভিডিওর জন্য পোজ দিচ্ছিলেন।
শেষ আপডেট: 4 February 2026 12:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: “হ্যালো, আমার বিশ্বাসঘাতক বন্ধু”। বুধবার সংসদে (Parliament) রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় প্রাক্তন কংগ্রেসি, বর্তমানে বিজেপি মন্ত্রী রভনীত বিট্টুর তীব্র বাগযুদ্ধ। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিট্টু (Ravneet Bittu) রাহুলকে বলেন, দেশ কি দুশমন। এমনকী রাহুল গান্ধী তাঁর দিকে হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলেও বিট্টু করমর্দন করতে অস্বীকার করেন। সংসদের মকরদ্বারের সামনে বিরোধী দলনেতার এবং এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এহেন আচরণ খবরের বিষয় হয়ে উঠেছে।
বুধবার ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কংগ্রেস তাদের সাসপেন্ডেড সাংসদদের নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে বসে মকরদ্বারের সিঁড়িতে। ভিতরে তখনও ব্যাপক হইহট্টগোল চলছে শাসক ও বিরোধীদের মধ্যে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সময় চেঁচামেচি চরমে ওঠে। তখন স্পিকার ওম বিড়লা দুপুর ২টো পর্যন্ত লোকসভা মুলতুবি করে দেন। এদিকে, বাইরে বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের দলনেতা রাহুল।
ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি হয়, যখন সাসপেন্ড হওয়া সাংসদরা এবং রাহুল গান্ধী সংসদের সিঁড়িতে একটি ভিডিওর জন্য পোজ দিচ্ছিলেন। সেই সময় কটাক্ষ ছুঁড়ে দেন বিট্টু— যিনি একসময় কংগ্রেসের সাংসদ ছিলেন। তিনি বলেন, “ইয়ে কারগিল কি জঙ্গ জিত কে আয়ে হ্যায়” অর্থাৎ, “মনে হচ্ছে এরা কারগিল যুদ্ধ জিতে ফিরেছে।”
এই মন্তব্যের জবাবে রাহুল বলেন, “এই যে, এক বিশ্বাসঘাতক পাশ দিয়ে যাচ্ছে।” বিট্টু এগিয়ে এলে রাহুল আবার বলেন, “মুখটা দেখুন, একেবারে বেইমানের মুখ।” এরপর তিনি হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলেন, “হ্যালো ভাই, আমার বিশ্বাসঘাতক বন্ধু। চিন্তা কোরো না, তুমি আবার কংগ্রেসে ফিরে আসবে।” এই বলে তিনি হাত মেলাতে এগোলে বিট্টু তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং রাহুলকে বলেন, “দেশের শত্রু।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে, ২৬ মার্চ রভনীত বিট্টু কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে (BJP) যোগ দেন। দল বদলের সময় তিনি কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির সদস্য হন এবং নতুন দলের হয়ে নির্বাচনে লড়েন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি জয়ী হতে পারেননি।