জাতীয় নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সেই আলোচনায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁর বক্তব্য রাখার অধিকার আছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 4 February 2026 08:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভায় নিজের বক্তব্য রাখার সুযোগ না পাওয়ায় কঠোর আপত্তি জানালেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। মঙ্গলবার তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখে অভিযোগ জানান, জাতীয় নিরাপত্তা (National Security) নিয়ে কথা বলার অধিকার থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, সংসদের দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে তাঁকে ইচ্ছে করেই থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi writes to Lok Sabha Speaker) লিখেছেন, রাষ্ট্রপতির অভিভাষণ নিয়ে আলোচনার সময় তিনি সোমবার বক্তব্য রাখতে ওঠেন। সেই সময় ভারত-চিন সংঘাতের (India-China Conflict) প্রসঙ্গে তিনি একটি ম্যাগাজিনের নিবন্ধ উল্লেখ করতে চাইলে স্পিকার তাঁকে ওই নথির সত্যতা প্রমাণ করতে বলেন। রাহুল জানান, সংসদের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনও সদস্য কোনও নথির উল্লেখ করতে চাইলে তার সত্যতা প্রমাণ করা এবং দায়িত্ব নেওয়াই নিয়ম এবং তিনি তা করেছিলেন।
রাহুলের আরও অভিযোগ, নিয়ম মেনে নথি তুলে ধরার পরেও স্পিকারের (Lok Sabha Speaker) দায়িত্ব সেখানেই শেষ হওয়ার কথা। এরপর সদস্য বক্তব্য রাখতে পারেন এবং সরকার প্রয়োজন হলে জবাব দেয়। কিন্তু এবার সেই প্রক্রিয়া মানা হয়নি। বরং তাঁকে বক্তব্য রাখতে দেওয়া হয়নি, যা সংসদের রীতি ও গণতান্ত্রিক অধিকারের বিপরীত।
তিনি চিঠিতে বলেন, “আজ আমাকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এটি কেবল রীতি ভঙ্গ নয়, বরং এটাও ভাবনার বিষয় যে ইচ্ছে করেই জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুতর বিষয়ে আমাকে কথা বলতে বাধা দেওয়া হল।”
রাহুল গান্ধীর দাবি, রাষ্ট্রপতির অভিভাষণে জাতীয় নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সেই আলোচনায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁর বক্তব্য রাখার অধিকার আছে (Opposition rights Lok Sabha)।
এছাড়া, স্পিকারকে তাঁর দায়িত্ব সম্পর্কে কংগ্রেসের সাংসদ মনে করিয়ে দেন, সংসদের সব সদস্যের অধিকার রক্ষা করা, বিশেষত বিরোধী দলের সদস্যদের কথা বলার সুযোগ নিশ্চিত করা, স্পিকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
“সরকারের চাপে স্পিকার প্রথমবারের মতো বিরোধী দলনেতাকে রাষ্ট্রপতির অভিভাষণ নিয়ে আলোচনায় কথা বলতে দিলেন না, এটি আমাদের সংসদীয় ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। এটি গণতন্ত্রের উপর কলঙ্ক।” চিঠিতে এই অভিযোগও করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা।
মঙ্গলবার সকালে রাহুল লোকসভায় প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম এম নরবাণের অপ্রকাশিত 'স্মৃতিকথা' নিয়ে লেখা একটি আর্টিকেলের কপি সত্যতা যাচাই করে তা জমা দেন। কিন্তু তবুও সমাধান হয়নি। বরং উত্তেজনা বাড়ায় অধিবেশন কিছুক্ষণ স্থগিত থাকে।
পরে রাহুল আবার জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু তুলতে চাইলেও সভাপতিত্বকারী সদস্য কৃষ্ণ প্রসাদ তেনেতি তাঁর বক্তব্য এড়িয়ে গিয়ে অন্য সাংসদের বক্তব্য গ্রহণ করেন। তিনজন বিরোধী সাংসদ প্রতিবাদে বক্তব্য রাখতে অস্বীকার করলে আলোচনা এগোয় টিডিপি সাংসদ হরিশ বালায়োগীর বক্তব্য দিয়ে।