বড় ধাক্কা পার্টির সাংসদ রাঘব চাড্ডার জন্য। রাজ্যসভার ডেপুটি লিডারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

রাঘব চাড্ডা
শেষ আপডেট: 2 April 2026 15:27
দ্যা ওয়াল ব্যুরো: আবগারি দুর্নীতিতে জড়িয়ে দিল্লির মসনদ হারিয়েছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal)। আদালত থেকে এই মামলায় মুক্তি পাওয়ার পরে যখন রাজনীতির মূল স্রোতে ফিরছিল আপ (AAP), ঠিক তখনই বড় ধাক্কা পার্টির সাংসদ রাঘব চাড্ডার (Raghav Chadha) জন্য। রাজ্যসভার ডেপুটি লিডারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁকে। তাঁর জায়গায় এই পদে এসেছেন পাঞ্জাবের সাংসদ অশোক মিত্তল।
২০২৩ সাল থেকে এই পদে ছিলেন রাঘব চাড্ডা। রাজ্যসভার সচিবালয়কে এই পরিবর্তনের বিষয়ে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে আপ। পাশপাশি, রাঘব চাড্ডা বলার জন্য আর কোনও সময় যাতে বরাদ্দ না করা হয় সেই বিষয়েও সচিবালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পরেই আম আদমি পার্টির সাংসদকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এবার তিনি কি বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন? দলের সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত এবং তাঁর দীর্ঘ নীরবতা এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
সম্প্রতি আবগারি দুর্নীতি মামলায় স্বস্তি পেয়েছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এরপর দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সমাজ মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। কেজরিওয়ালের সমর্থনে পর পর প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন সবাই। কিন্তু সেই সময়ে চাড্ডার নীরবতা নজরে আসে সকলেরই। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, এই নীরবতা কেবল চাড্ডার ব্যক্তিগত অবস্থান নয়, বরং তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেরও ইঙ্গিত।
সাম্প্রতিক অতীতে, দলীয় কাজ থেকেও কিছুটা দূরে থাকার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, দলের বৈঠক, সাংবাদিক সম্মেলন, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কাজেও অনুপস্থিত থেকেছেন। এই ঘটনা তাঁর দল ছাড়ার জল্পনাকে আরও বাড়িয়েছে। তবে আপের তরফে এই বিষয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। দলের কিছু নেতা মনে করছেন, রাঘবের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কিন্তু, তাঁর সাংগঠনিক পদ খোয়ানো এবং নীরবতা জল্পনা বাড়িয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী শিবিরের ভাঙন ও দলবদলের প্রবণতা নতুন নয়। কিন্তু রাঘব চাড্ডার মতো তরুণ এবং গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে ঘিরে এই ধরনের জল্পনা ভবিষ্যতে আপের সংগঠন ও কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে, রাজধানীর রাজনীতিতে এখন প্রশ্ন একটাই রাঘব চাড্ডার এই নীরবতা কি কৌশলী পদক্ষেপ? নাকি বড় কোনও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পূর্বাভাস?