তরুণীর কথায়, ' এক কোচ রাধিকাকে উত্যক্ত করেছিলেন। ওর বাবা একসময় তাঁকে গিয়ে খুনের হুমকি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, আর কিছু বললে গুলি করে দেব। আর আজ সেই মানুষটাই নিজের মেয়েকে গুলি করল! এটা মানা যায়?'

শেষ আপডেট: 14 July 2025 20:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরিয়ানার টেনিস প্লেয়ার রাধিকা যাদবকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর বাবা দীপক যাদবকে। তদন্তে উঠে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য (Radhika Yadav Murder case)। মেয়ের টাকায় সংসার চলে, আত্মীয় ও বন্ধুদের থেকে নানা অপমানজনক মন্তব্য শুনতে হত তাঁকে, সেই কারণেই ক্ষোভের বশে মেয়েকে গুলি করে খুন করেন তিনি (Haryana Murder case)।
জানা যায়, রাধিকার কাঁধের চোটে খেলোয়াড় হিসেবে কেরিয়ার থেমে যায়। তারপর তিনি কোচিং শুরু করেন। মেয়ের স্বপ্নকে বাঁচাতে ২ কোটি টাকা খরচ করে এক টেনিস অ্যাকাডেমি তৈরি করে দেন দীপক নিজেই। সেখানেই কাজ করতেন রাধিকা। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরেই দীপক যাদব মেয়েকে অ্যাকাডেমি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। কারণ, প্রতিবেশী ও আত্মীয়রা নাকি তিনি মেয়ের রোজগারে চলেন। যদিও রাধিকা অ্যাকাডেমি বন্ধ করতে রাজি হননি। এই নিয়ে অশান্তি বাড়তেই থাকে। শেষে অপমানের হাত থেকে বাঁচতে মেয়েকে খুন করেন দীপক (Radhika Yadav Murder case)।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাধিকার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী জানান, কীভাবে রাধিকাকে দিনের পর দিন তাঁর পরিবারের তরফেই মানসিক চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তিনি আরও বলেন, 'নিজের বাবাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসত রাধিকা। ও সবসময় বলত, আমার বাবা আমার জন্য এত কিছু করেছে, আমি কিছুতেই ওঁর স্বপ্ন ব্যর্থ হতে দেব না। ও অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যেতে চেয়েছিল। কোচিং চালিয়ে যেতে চেয়েছিল।'
কিন্তু একদিন সেই বাবার হাতেই প্রাণ গেল মেয়ের। তরুণীর কথায়, ' এক কোচ রাধিকাকে উত্যক্ত করেছিলেন। ওর বাবা একসময় তাঁকে গিয়ে খুনের হুমকি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, আর কিছু বললে গুলি করে দেব। আর আজ সেই মানুষটাই নিজের মেয়েকে গুলি করল! এটা মানা যায়?'
সম্প্রতি কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, রাধিকা নাকি ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার হতে চাইতেন, যা তাঁর বাবার পছন্দ হয়নি। কিন্তু রাধিকার বন্ধু সেই দাবি নস্যাৎ করে দেন। তাঁর দাবি, 'ও মেকআপ করতে ভালোবাসত, রিল করত। এখনকার দিনে সবাই করে। তার মানে এই নয় যে ও কোনও বাজে কাজ করত। ওর কোনও সম্পর্কও ছিল না। সম্পূর্ণভাবে কোচিংয়ে মন দিয়েছিল।”
রাধিকার বন্ধু আরও জানান, ঘটনার দিন তিনি ব্যস্ত ছিলেন, কিন্তু স্ন্যাপচ্যাটে রাধিকার শেষ মেসেজটি ছিল একটি ‘ব্ল্যাক স্ন্যাপ’। সাধারণত শুধুমাত্র স্ট্রিক বজায় রাখতে এই ধরণের স্ন্যাপ পাঠানো হয়। তিনি বলেন, 'সেই দিন রাধিকা কোচিং স্কুল যায়নি। ওর কিছু একটা সমস্যা হয়েছে এটা বুঝতে পারলে হয়তো আমি ওর সঙ্গে কথা বলতাম। এরজন্য আজও নিজেকে ক্ষমা করতে পারছি না।'