প্রথমে কোটি টাকার টেনিস অ্যাকাডেমি, তারপর মিউজিক ভিডিও, আবার টেনিস অ্যাকাডেমিই না থাকা, সব মিলিয়ে জোড়ালো হচ্ছে খুনের রহস্য।

বাঁ দিকে রাধিকা, ডানদিকে ঘটনাস্থলে তদন্তকারী আধিকারিকরা
শেষ আপডেট: 12 July 2025 18:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টেনিস খেলোয়াড় রাধিকা যাদব খুনের তদন্তে নয়া মোড়। গুরুগ্রাম পুলিশ শনিবার জানাল, রাধিকার কোনও নিজস্ব টেনিস অ্যাকাডেমিই ছিল না। বরং বিভিন্ন জায়গায় কোর্ট ভাড়া করে তিনি তরুণদের প্রশিক্ষণ দিতেন। আর সেখানেই আপত্তি ছিল তাঁর বাবা দীপক যাদবের।
প্রথমে পুলিশ জানিয়েছিল, রাধিকা নিজের একটি টেনিস অ্যাকাডেমি চালাতেন। যাতে কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন তাঁর বাবা। সেখান থেকে হওয়া আয় বাবা-মেয়ের সম্পর্কের টানাপড়েনের মূল কারণ। তবে নতুন তথ্য বলছে, আসলে তিনি নিজের নামে কোনও প্রতিষ্ঠান চালাতেন না।
পুলিশ সূত্রে খবর, দীপক বারবার মেয়েকে অনুরোধ করেন এই প্রশিক্ষণ দেওয়া বন্ধ করতে। কিন্তু রাধিকা তাতে রাজি না হওয়াতেই বাড়তে থাকে দ্বন্দ্ব। শেষমেশ বৃহস্পতিবার সকালে গুরুগ্রামের বাড়িতে রাধিকা যখন রান্নাঘরে ছিলেন, তখন তাঁকে লক্ষ্য করে চার রাউন্ড গুলি করে খুন করেন দীপক।
রাধিকার শেষকৃত্য শুক্রবার তাঁর পৈতৃক গ্রাম ওয়াজিরাবাদে সম্পন্ন হয়।
তদন্তকারীরা জানান, দীপক নিজেই তাঁর অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, গ্রামের মানুষ তাঁকে 'মেয়ের টাকায় সংসার করা বাবা' বলে অপমান করত। সেই অপমানই তিনি সহ্য করতে পারছিলেন না। অথচ আত্মীয়রা জানিয়েছে, দীপকের আর্থিক অবস্থা যথেষ্ট ভাল। ভাড়ার আয়েই প্রতি মাসে ১৫-১৭ লক্ষ টাকা রোজগার ছিল। তাই মেয়ের উপার্জনের উপর নির্ভর করার প্রশ্নই ওঠে না।
এ ছাড়াও, রাধিকার একটি মিউজিক ভিডিও নিয়েও বহু বিতর্ক তৈরি হয়। অনেকেই মনে করছিলেন, সেটাই হয়তো খুনের কারণ। তবে শনিবার পুলিশ জানায়, সেই ভিডিওর সঙ্গে এই খুনের কোনও যোগ নেই। ভিডিওটি ২০২৩ সালে আপলোড করা হয়েছিল, ঘটনার অনেক আগেই। এই প্রসঙ্গে সেক্টর ৫৬ থানার ইনস্পেক্টর বিনোদ কুমার জানান, অভিযুক্ত নিজেই বারবার বলেছে, সে মেয়েকে প্রশিক্ষণ দিয়ে রোজগার করতে দিতে চায়নি। ভিডিওর সঙ্গে এই খুনের কোনও সরাসরি সংযোগ নেই।
গায়ক ইনাম উল হক জানান, ভিডিও প্রকাশের পর রাধিকা নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে ডিঅ্যাক্টিভেট করেছিলেন। তখন তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'আমি এখন কাজ নিয়ে ব্যস্ত, তাই কিছুদিনের জন্য ইনস্টাগ্রাম বন্ধ রেখেছি।'
প্রথমে কোটি টাকার টেনিস অ্যাকাডেমি, তারপর মিউজিক ভিডিও, আবার টেনিস অ্যাকাডেমিই না থাকা, সব মিলিয়ে জোড়ালো হচ্ছে খুনের রহস্য। ঠিক কী কারণে দীপক যাদব নিজের মেয়েকে মেরে ফেললেন, তা বলবে তদন্ত। কিন্তু যেটা স্পষ্ট এই সবকিছুর মধ্যে, তা হল মানসিক স্বাস্থ্য ও তার যত্ন নেওয়া।