Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'নিষিদ্ধ' ভারতীয় গানে প্রয়াত আশা ভোঁসলেকে শেষ শ্রদ্ধা! পাক চ্যানেলকে শোকজ, সমালোচনা দেশের ভিতরেই হরমুজ মার্কিন নৌ অবরোধে কোণঠাসা ইরান! তেল রফতানি প্রায় থমকে, দিনে ক্ষতি ৪৩৫ মিলিয়ন ডলারIPL 2026: আইপিএল অভিষেকে সেরা বোলিং পারফরম্যান্স! কে এই সাকিব হুসেন? ৪৯ লাখের টিকিট থাকা সত্ত্বেও বোর্ডিং বাতিল! বিমান সংস্থার সিইও-র বিরুদ্ধে FIR-এর নির্দেশ আদালতেরশ্রমিকদের বিক্ষোভে অশান্ত নয়ডা! পাক-যোগে ষড়যন্ত্র? তদন্তে পুলিশ, ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩০০ নিজেকে ‘যিশু’ সাজিয়ে পোস্ট! তীব্র বিতর্কের মুখে ছবি মুছলেন ট্রাম্প, সাফাই দিয়ে কী বললেন?IPL 2026: পয়লা ওভারেই ৩ উইকেট, স্বপ্নের আইপিএল অভিষেক! কে এই প্রফুল্ল হিঙ্গে?ইরান-মার্কিন বৈঠক ব্যর্থ নেতানিয়াহুর ফোনে! ট্রাম্পের প্রতিনিধিকে কী এমন বলেছিলেন, খোলসা করলেন নিজেইWeather: পয়লা বৈশাখে ঘামঝরা আবহাওয়া! দক্ষিণবঙ্গে তাপপ্রবাহের হলুদ সতর্কতা, আবার কবে বৃষ্টি?হরমুজ ঘিরে ফেলল মার্কিন সেনা! ইরানের 'শ্বাসরোধ' করতে ঝুঁকির মুখে আমেরিকাও, চাপে বিশ্ব অর্থনীতি

পুশব্যাক: হঠাৎ কেন সুর নরম কেন্দ্রের, বিজেপির, ৯ মাসে ১৫৮৯ বাংলাদেশিকে ফিরিয়েছে দিল্লি পুলিশ

গত বছরের গোড়ায় এই অভিযান শুরুর পর অভিযোগ উঠেছিল বেশ কয়েকজন ভারতীয়কে (Indians) বাংলাদেশি বলে পুশব্যাক করা হয়েছে। যদিও দিল্লি পুলিশের দাবি, তারা যে বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠিয়েছে তাদের নাগরিকত্ব ভাল ভাবে যাচাই করার পর ফেরানো সিদ্ধান্ত হয়।

পুশব্যাক: হঠাৎ কেন সুর নরম কেন্দ্রের, বিজেপির, ৯ মাসে ১৫৮৯ বাংলাদেশিকে ফিরিয়েছে দিল্লি পুলিশ

৯ মাসে দেড় হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে 'পুশব্যাক'

অর্পিতা দাশগুপ্ত

শেষ আপডেট: 23 March 2026 08:40

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিগত নয় মাসে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) ১৫৮৯ জন বাংলাদেশিকে স্বদেশে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে। রাজধানীর পুলিশের দাবি, তাদের কাছে উপযুক্ত নথিপত্র ছিল না। আইনের দৃষ্টিতে তারা অনুপ্রবেশকারী।

দিল্লি পুলিশ আরও জানিয়েছে, গতবছরের জুন থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে এই অনুপ্রবেশকারীদের (infiltrator) ফেরত পাঠানো হয়েছে। তার আগের সাত মাসে অর্থাৎ ২০২৪ এর নভেম্বর থেকে গত বছরের মে মাসের মধ্যে ফেরত পাঠানো হয়েছিল মাত্র ৭২০ জনকে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, এই অনুপ্রবেশকারীদের বেশিরভাগকেই পুশব্যাক (Pushback) করা হয় ত্রিপুরার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে।

লক্ষণীয় হল, এমন বিপুল সংখ্যায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরানো নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার, এমনকী বিজেপিও খুব বেশি হইচই চাইছে না। দিল্লি পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে তাদের সাম্প্রতিক সাফল্য নজিরবিহীন।। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করা হয়েছিল।

গত বছরের গোড়ায় এই অভিযান শুরুর পর অভিযোগ উঠেছিল বেশ কয়েকজন ভারতীয়কে (Indians) বাংলাদেশি বলে পুশব্যাক করা হয়েছে। যদিও দিল্লি পুলিশের দাবি, তারা যে বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠিয়েছে তাদের নাগরিকত্ব ভাল ভাবে যাচাই করার পর ফেরানো সিদ্ধান্ত হয়।

প্রশ্ন উঠেছে, বিজেপি (BJP) এবং কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে আর আগের মতো সরব নয় কেন? রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে কৌশলগত কারণে কেন্দ্রের শাসক দল ও সরকার আপাতত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরানোর বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি আলোচনা চাইছে না। এর পিছনে মূলত দুটি কারণ কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথমত পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে অনুপ্রবেশকারী বিজেপির এক নম্বর হাতিয়ার হলেও পুশব্যাক নিয়ে পদ্ম শিবির ও কেন্দ্রীয় সরকারকে বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছিল বেশ কিছু ভারতীয়কে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ায়। ওই ইস্যুকে হাতিয়ার করে বাংলায় জোরালো প্রচারে নামে তৃণমূল কংগ্রেস। বিতর্ক আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) ও কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশে বেশ কয়েকটি পরিবারকে বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয় ভারত সরকার। বাংলাদেশের আদালত তাদেরকে ভারতীয় বলে চিহ্নিত করেছিল। তাদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের দুটি পরিবার ছিল।

কিন্তু আসন্ন নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026) বিজেপির (BJP) কৌশল হল তৃণমূলের (TMC) সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরানো। কেন্দ্রের শাসক দল মনে করছে, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর পুশব্যাক নিয়ে বিতর্ক, জটিলতা তৈরি হলে সংখ্যালঘু ভোটের পূর্ণ মেরুকরণ হবে তৃণমূলের পক্ষে। তাতে ভেস্তে যাবে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরানোর কৌশল।

দ্বিতীয় কারণটি বাংলাদেশের সরকার বদল। পুশব্যাক বা অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের ঠেলে তাদের দেশে পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারির গোড়া থেকে তাতে খানিকটা রাশ টেনে দেওয়া হয়। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি থেকে যেভাবে লাগাতার অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিদের পুশব্যাক করা হচ্ছিল তা বন্ধ আছে।

এর প্রধান কারণ বাংলাদেশে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন। ভোটের আগেই স্পষ্ট ছিল সে দেশে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিএনপি। ভারত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই বলে আসছিল তারা নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে আগ্রহী। তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই ভারতের তরফে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বন্ধুত্বের বার্তা দেওয়া হয়েছে। মনে করা হচ্ছে বাংলাদেশের নতুন সরকারকে এখনই পুশব্যাক নিয়ে অস্বস্তিতে ফেলতে চাইছে না নয়া দিল্লি। বরং দিল্লির তরফে চেষ্টা হচ্ছে নানাভাবেই বন্ধুত্বের বার্তা জোরালো করার। মনে করা হচ্ছে সেই কারণেই দিল্লি পুলিশ বিপুল সংখ্যায় বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে সমর্থ হলেও তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপি আর আগের মত গলাবাজি করতে চাইছে না।


```