এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য, দ্রুত পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস বা পিএনজি (PNG)-এর নেটওয়ার্ক বাড়ানো এবং এলপিজির উপর নির্ভরতা কমানো (PNG vs LPG India)।

সরবরাহে স্থিতিশীলতা: পিএনজি-র বড় সুবিধা
শেষ আপডেট: 22 March 2026 20:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি অনিশ্চয়তার আবহে গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এবং চাহিদা নিয়ন্ত্রণে রাখতে একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্র (gas supply policy India)। তারই অংশ হিসেবে সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন (CGD) প্রকল্পগুলিকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে (City Gas Distribution speeds up India)।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, পেট্রোলিয়াম ও বিস্ফোরক নিরাপত্তা সংস্থা (Petroleum and Explosives Safety Organisation) বা PESO তাদের বিভিন্ন আঞ্চলিক দফতরকে নির্দেশ দিয়েছে, সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন প্রকল্পের আবেদনগুলি ১০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। এর লক্ষ্য, দ্রুত পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস বা পিএনজি (PNG)-এর নেটওয়ার্ক বাড়ানো এবং এলপিজির উপর নির্ভরতা কমানো (PNG vs LPG India)।
বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে পিএনজি-তে জোর
শুধু পরিকাঠামো নয়, ব্যবহারেও বদল আনতে চাইছে কেন্দ্র। শহরাঞ্চলের বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের যেমন রেস্তোরাঁ, হোটেল, শিল্প ইউনিটকে ধাপে ধাপে এলপিজি (LPG) থেকে পিএনজি-তে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কারণ এই বড় গ্রাহকরাই এলপিজির সবচেয়ে বড় ব্যবহারকারী।
কেন্দ্র ইতিমধ্যেই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে, যাতে সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন (CGD) পাইপলাইন বসানোর অনুমোদন দ্রুত দেওয়া হয় (city gas distribution India)। এর জন্য রাস্তা কাটার খরচ বা পুনর্গঠনের চার্জ মকুব করার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি, দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে নোডাল অফিসার নিয়োগের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও, সাধারণ গ্রাহকদের এলপিজি-র বদলে পিএনজি ব্যবহারে উৎসাহিত করছে সরকার।
পিএনজি বনাম এলপিজি: কোনটা এগিয়ে?
ভারতে রান্নার জ্বালানি হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার এখনও সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হলেও, পিএনজি ধীরে ধীরে জনপ্রিয় বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে।
প্রসঙ্গত, পিএনজি পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি বাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে যায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ১.৫৯ কোটি পরিবার পিএনজি ব্যবহার করছে।
সরবরাহে স্থিতিশীলতা: পিএনজি-র বড় সুবিধা
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যেখানে এলপিজি ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে, সেখানে পিএনজি ব্যবহারকারীরা তুলনামূলকভাবে কিছুটা নিশ্চিন্ত। এর অন্যতম কারণ হল দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন। বর্তমানে ভারতে দৈনিক প্রায় ১৮৯ মিলিয়ন মেট্রিক স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার হয়, যার প্রায় ৫০ শতাংশই দেশেই উৎপাদিত।
রেটিং সংস্থা ICRA-র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রশান্ত বসিষ্ঠর কথায়, “দেশীয় গ্যাস উৎপাদন সরবরাহ ব্যবস্থাকে একটা সুরক্ষা দেয়। আরও বেশি মানুষ পিএনজি-তে এলে চাহিদা সামলানো এলপিজির তুলনায় অনেক সহজ হবে।”
গৃহস্থালিতে সরবরাহ স্বাভাবিক
এই পরিবর্তনের মাঝেও আপাতত গৃহস্থালির এলপিজি সরবরাহে কোনও প্রভাব পড়েনি। ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে ‘ড্রাই-আউট’ বা গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ার কোনও খবর নেই, ডেলিভারিও স্বাভাবিক গতিতেই চলছে।
ডেলিভারি অথেনটিকেশন কোড (DAC) ব্যবস্থার মাধ্যমে অধিকাংশ বুকিং সম্পন্ন হচ্ছে। আতঙ্কে অতিরিক্ত বুকিংয়ের প্রবণতাও এখন অনেকটাই কমেছে।
ধাপে ধাপে বাড়ছে বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ
অন্যদিকে, বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহও বাড়ানো হয়েছে পর্যায়ক্রমে। প্রথমে ২০% সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা হয়। ১৮ মার্চ আরও ১০% যোগ করা হয়, ২১ মার্চ আরও ২০% বাড়ানো হয়। ফলে মোট সরবরাহ এখন দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে।
এই অতিরিক্ত সরবরাহ মূলত যেসব ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেখানেই দেওয়া হচ্ছে—যেমন রেস্তোরাঁ, ধাবা, হোটেল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্যান্টিন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট, ডেয়ারি এবং কমিউনিটি কিচেন।
অগ্রাধিকার তালিকায় কারা?
রাজ্য সরকার বা স্থানীয় সংস্থার পরিচালিত ভর্তুকিযুক্ত খাবারের দোকানগুলিও এই অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। পাশাপাশি, পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ৫ কেজির ছোট সিলিন্ডারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এই নতুন বরাদ্দ নীতি কার্যকর করেছে। অন্যত্র সরকারি তেল বিপণন সংস্থাগুলিই সরবরাহ সামলাচ্ছে।
গত আট দিনে বাণিজ্যিক গ্রাহকেরা মোট প্রায় ১৫,৪৪০ টন এলপিজি সংগ্রহ করেছেন।
হাসপাতাল-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অগ্রাধিকারেই
সবশেষে, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে এখনও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। মোট সরবরাহের প্রায় অর্ধেকই এই দুই ক্ষেত্রের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, একদিকে পিএনজি-তে ঝোঁক বাড়ানো, অন্যদিকে এলপিজি সরবরাহ সামলে রাখা - এই দ্বিমুখী কৌশলের মাধ্যমেই জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় এগোচ্ছে কেন্দ্র।