মোদীর স্পষ্ট বার্তা, পরিস্থিতি ক্রমশ পরিবর্তনশীল এবং এর প্রভাব গোটা বিশ্বেই পড়ছে। তাই সাধারণ মানুষের উপর যাতে এর প্রভাব কম পড়ে, সে জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে যথাযথ সমন্বয় বজায় রাখতে হবে, যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কালোবাজারি বা মজুতদারি না হয়।

রবিবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 22 March 2026 22:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতের প্রেক্ষিতে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রবিবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিএস)-র বৈঠকে, আরব দুনিয়ায় সংঘাতের জেরে দেশের অভ্যন্তরে সম্ভাব্য প্রভাব এবং তা মোকাবিলার কৌশল (Modi economic measures) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় (CCS meeting India West Asia conflict)।
কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হল?
জানা গিয়েছে, বৈঠকে বিশ্ব পরিস্থিতি, এবং ইতিমধ্যে নেওয়া ও ভবিষ্যতে নেওয়ার পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে (India supply security plan)।
কৃষি, সার, খাদ্য সুরক্ষা, পেট্রোলিয়াম, বিদ্যুৎ, এমএসএমই, রফতানি, শিপিং, বাণিজ্য, অর্থনীতি এবং সাপ্লাই চেন - এই সমস্ত ক্ষেত্রের উপর সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়। পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদে বড় প্রভাব ফেলতে পারে - এই আশঙ্কা মাথায় রেখে তিন ধাপের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস যেমন খাদ্য, জ্বালানি ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হয়েছে।
আসন্ন খরিফ মরশুমে কৃষকদের সার চাহিদার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে। গত কয়েক বছরে পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তোলার ফলে সময়মতো সার সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যতে কোনও ঘাটতি এড়াতে বিকল্প উৎস থেকে সার সংগ্রহের পরিকল্পনাও আলোচনায় উঠে আসে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও আশ্বস্ত করা হয়েছে - দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে পর্যাপ্ত কয়লা মজুত রয়েছে, ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতির আশঙ্কা নেই।
রাসায়নিক, ওষুধ, পেট্রোকেমিক্যাল-সহ বিভিন্ন শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় আমদানির উৎস বহুমুখী করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভারতীয় পণ্যের জন্য নতুন রফতানি বাজার তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।
সমন্বিত পদক্ষেপে জোর
বিভিন্ন মন্ত্রকের প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলি আগামী দিনে সমস্ত অংশীদারের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবায়িত হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, একটি মন্ত্রী ও সচিবদের বিশেষ দল গঠন করতে হবে, যারা ‘হোল অফ গভর্নমেন্ট’ পদ্ধতিতে সমন্বিতভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি বিভিন্ন সেক্টরভিত্তিক গ্রুপ তৈরি করে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালানোর নির্দেশও দেন তিনি।
সাধারণ মানুষের স্বার্থে কড়া নির্দেশ
মোদী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, এই সংঘাত ক্রমশ পরিবর্তনশীল এবং এর প্রভাব গোটা বিশ্বেই পড়ছে। তাই সাধারণ মানুষের উপর যাতে এর প্রভাব কম পড়ে, সে জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।
তিনি আরও নির্দেশ দেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে যথাযথ সমন্বয় বজায় রাখতে হবে, যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কালোবাজারি বা মজুতদারি না হয়।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মাঝেও দেশের অর্থনীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে কেন্দ্র যে বহুস্তরীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে, এই বৈঠক তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত।
প্রসঙ্গত, পরিস্থিতি সামাল দিতে গত কয়েক দিনে মোদী সৌদি আরব, কাতার, ফ্রান্স-সহ ১০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এমনকি সরাসরি কথা বলেছেন ইজরায়েল ও ইরানের নেতাদের সঙ্গেও।
এদিকে ডলারের তুলনায় টাকার দাম পড়ছে হু হু করে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা স্পষ্ট হচ্ছে দেশজুড়ে। সব মিলিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। এই পরিস্থিতিতেই কেন্দ্রকে কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। জানিয়েছেন, পাঁচ রাজ্যের ভোটপর্ব শেষ হলেই দেশে পেট্রল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের দাম বাড়তে পারে। তাঁর অভিযোগ, এই সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রের কোনও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই।