ছেলে মহাকাশে সফলভাবে পোঁছে যাওয়ার পর আনন্দের জোয়ারে বাকিদের সঙ্গে মেতে ওঠেন দু’জনেই।

শেষ আপডেট: 25 June 2025 18:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সপ্তম বারের বাধা টপকে অবশেষে মহাকাশের উদ্দেশে পাড়ি দিলেন ভারতের শুভাংশু শুক্লা। স্ক্রিনে ছেলের মহাকাশযাত্রার লাইভ দেখতে দেখতে চোখে জল বাবা-মায়ের। এ যে আনন্দাশ্রু, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ছেলের এই সাফল্যের আনন্দ ধরে নিজেদের ধরে রাখতে পারলেন না গর্বিত বাবা-মা। ছেলে মহাকাশে সফলভাবে পোঁছে যাওয়ার পর আনন্দের জোয়ারে বাকিদের সঙ্গে মেতে ওঠেন দু’জনেই। ক্যামেরায় রীতিমতো ‘হ্যাপি ডান্সের’ মুহূর্ত ধরা পড়ে তাঁদের। আনন্দের মুহূর্ত হবে না-ই বা কেন! চার দশক পর এক অনন্য ইতিহাসের পাতায় লেখা হচ্ছে ভারতের নাম।
এই ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণের মুহূর্তে সিটি মন্টেসরি স্কুলের কানপুর রোড ক্যাম্পাসে বিশ্ব ঐক্য কনভেনশন সেন্টারের (WUCC) অডিটোরিয়ামে জড়ো হয়েছিলেন তাঁর পরিবার, বন্ধু, শিক্ষক, সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ও বিস্ময়ে ভরা ছাত্রছাত্রীদের এক বিশাল সমাগম। রকেট উৎক্ষেপণের সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে ছড়িয়ে পড়ে হাততালি, আনন্দধ্বনি, আর হঠাৎ করেই কেউ কেউ ভাঙড়ায় মেতে ওঠেন।
সর্বভারতীয় এক সংবাদসংস্থাকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় শুভাংশুর বাবা শম্ভু শুক্লা বলেন, ‘এটা শুধু আমাদের নয়, গোটা দেশের জন্যই এক গর্বের মুহূর্ত। কী বলব বুঝতে পারছি না। আমার আশীর্বাদ সবসময় ওর সঙ্গে।’
মা আশা শুক্লা বললেন, ‘এই মুহূর্তে আমি শুধু খুশি। জানি ও সফল হবে। তবে অপেক্ষা করছি, ও যেন নিরাপদে ফিরে আসে। যদিও জানি, পৃথিবীতে ফিরে এলেও ওর এই যাত্রার আবেগ কাটিয়ে আমাদের মধ্যে ফিরতে একটু সময় লাগবে।’
এদিন মিশনের কন্ট্রোল রুমে পাঠানো প্রথম বার্তায় শুক্লা বলেন, এই অভিযান শুধু আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের উদ্দেশে যাত্রা নয়, ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির সূচনা।
‘নমস্কার, আমার প্রিয় দেশের মানুষ। কী মজার যাত্রা! ৪১ বছর পর আমরা আবার মহাকাশে পাড়ি দিলাম। দারুণ লাগছে! এখন আমরা পৃথিবীকে প্রতি সেকেন্ডে সাড়ে ৭ কিমি গতিতে প্রদক্ষিণ করছি। তেরঙা আমার কাঁধে রয়েছে। যা আমাকে বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে, আমি আপনাদের সকলের সঙ্গে আছি। আমি চাই আপনারাও সকলে আমার এই যাত্রার সঙ্গী হন। আপনাদের বুক নিশ্চই গর্বে ফুলে উঠবে। মহাকাশে ভারতের মানুষ পাঠানোর স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। জয় হিন্দ! জয় ভারত!’
উল্লেখ্য, রাকেশ শর্মার পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে মহাকাশে পাড়ি দিলেন শুভাংশু শুক্লা (Subhangshu Sukhla)। বুধবার ভারতীয় সময় দুপুর ১২টার কিছু পর সফল উৎক্ষেপণ হয় তাঁর মহাকাশযানের। জাতীয় প্রতিরক্ষা অ্যাকাডেমির প্রাক্তনী শুভাংশু ২০০৬ সালে ভারতীয় বায়ুসেনায় ফাইটার পাইলট হিসেবে যোগ দেন। তাঁর বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা প্রায় ২,০০০ ঘণ্টার, যেখানে তিনি চালিয়েছেন সু-৩০ এমকেআই, মিগ-২১, জাগুয়ার, ডর্নিয়ার-সহ একাধিক যুদ্ধবিমান।
প্রসঙ্গত, Axiom Mission 4 (Ax-4) মিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন নাসার অভিজ্ঞ মহাকাশচারী পেগি হুইটসন। শুভাংশু শুক্লা (Subhangshu Shukla) ছাড়াও এই অভিযানে রয়েছেন পোল্যান্ডের স্লাভোস উজনানস্কি-ভিসনিয়েভস্কি এবং হাঙ্গেরির তিবোর কাপু, যাঁরা দু’জনেই মিশন স্পেশালিস্ট হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। এই অভিযানটি শুধু ভারতের জন্য নয়, নাসা (NASA), ইসরো (ISRO), ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (European Space Agency) মতো আন্তর্জাতিক মহাকাশ সংস্থাগুলোর মিলিত প্রয়াস। এই ধরনের বাণিজ্যিক মহাকাশ অভিযান আগামী দিনে মানুষের মহাকাশ অভিযানে এক নতুন দিশা দেখাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।