ইডির দাবি— ই-মেল আদানপ্রদানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে ১.৯ মিলিয়ন পাউন্ড দামের ব্রায়ানস্টন স্কোয়ার সম্পত্তি কেনা, সংস্কার, লেনদেন, সবেতেই বঢরা ও তাঁর সহকারী মনোজ অরোরার যোগ।

প্রিয়ঙ্কা গান্ধী ও তাঁর স্বামী রবার্ট বঢরা
শেষ আপডেট: 20 November 2025 17:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রিটেন নির্ভর অস্ত্র ব্যবসায়ী সঞ্জয় ভান্ডারির (Sanjay Bhandari) সঙ্গে আর্থিক লেনদেন ও লন্ডনের বেনামি সম্পত্তি কেনাবেচা— এই অভিযোগেই কংগ্রেস নেতা প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর (Priyanka Gandhi) স্বামী ব্যবসায়ী রবার্ট বঢরার (Robert Vadra) বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করল ইডি (ED)
দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ (Delhi Rouse Avenue Court) আদালতে দাখিল হওয়া চার্জশিট নিয়ে ৬ ডিসেম্বর শুনানি হবে। রবার্টকে এ বছরের জুলাইতেই প্রায় পাঁচ ঘণ্টা জেরা করেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা।
লন্ডনের দু’টি দামী সম্পত্তি কেন্দ্রবিন্দুতে
ইডির অভিযোগ, লন্ডনের ব্রায়ানস্টন স্কোয়ার (১৯, Bryanston Square) এবং গ্রোজভেনর হিল কোর্ট— এই দু’টি বাড়ির প্রকৃত মালিক সঞ্জয় ভান্ডারি হলেও আর্থিক যোগসূত্র ছিল বঢরার।
সংস্থার দাবি, ২০০৯ সালে ব্রায়ানস্টন স্কোয়ারের সম্পত্তি ভান্ডারি কিনলেও টাকা আসে বঢরার মাধ্যমে। তাঁর নির্দেশেই বাড়ির সংস্কার হয়েছিল। লন্ডন সফরে ওই বাড়িতেই বহুবার উঠেছিলেন তিনি। এই সম্পত্তিগুলিকেই মানি লন্ডারিং (Money Laundering) আইনের আওতায় ‘proceeds of crime’ বলে দেখছে ইডি।
২০১৬ সালে আয়কর দফতরের চিঠি থেকেই তদন্ত শুরু। পরে ভান্ডারির অফিসে আয়কর হানার সময় যে ডিজিটাল ডেটা মিলেছিল, সেখানেই ঘুরে দাঁড়ায় গোটা মামলা।
ইডির দাবি— ই-মেল আদানপ্রদানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে ১.৯ মিলিয়ন পাউন্ড দামের ব্রায়ানস্টন স্কোয়ার সম্পত্তি কেনা, সংস্কার, লেনদেন, সবেতেই বঢরা ও তাঁর সহকারী মনোজ অরোরার যোগ। সংস্থার ভাষ্যে, সম্পত্তিটি বঢরাই “beneficially controlled” করতেন।
তবে বঢরার দাবি, “রাজনৈতিক চাপে হয়রানি করা হচ্ছে।” এনআরআই ব্যবসায়ী সি সি থাম্পির ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে ইডি। দুবাই-ভিত্তিক একটি সংস্থার মাধ্যমে যে লেনদেন হয়েছিল, সেখানে থাম্পির ভূমিকা নিয়েও তদন্ত এগোচ্ছে।
আগেও চার্জশিটের তালিকায় ছিলেন বঢরা। এ বছর জুলাইয়েই গুরগাঁও জমি-দুর্নীতি মামলায় রবার্ট বঢরা-সহ ১২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছিল ইডি। সেই মামলায় অভিযোগ— ২০০৭ সালে কংগ্রেস শাসিত হরিয়ানায় বঢরা পরিচালিত Skylight Hospitality ৩.৫ একর জমি কেনে ৭.৫ কোটি টাকায়। উন্নয়ন অনুমতি মেলার পর ২০১১ সালে জমিটি ডিএলএফ-কে বিক্রি হয় ৫৮ কোটিতে। আইএএস কর্মকর্তা অশোক খেমকার আপত্তির পরই ওঠে দুর্নীতির অভিযোগ।
বঢরা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপিন্দর হুডা দু’জনেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বঢরার কথায়, “বর্তমান সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই আমাকে নিশানা করছে।”