ঠিক এক মাস আগে অর্থাৎ ১২ জুনে হওয়া দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জনেরই মৃত্যু হয়। প্রাণ হারান মেডিক্যাল কলেজের ৯ ছাত্র ও আশপাশের এলাকার অনেকে। তোলপাড় হয় গোটা দেশ।

কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী
শেষ আপডেট: 12 July 2025 14:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে ভয়াবহ দুর্ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট। শনিবার ভোর থেকে এনিয়ে রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে। বিমান সংস্থার গাফিলতি ও বিমানে যান্ত্রিক গোলযোগ নিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। এই পরিস্থিতিতে বিবৃতি দিলেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী। জানিয়ে দিলেন, এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়।
কিন্জারাপু রাম মোহন নাইডু শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, 'আমাদের দেশের পাইলট ও ক্রুরা শ্রেষ্ঠ। সিভিল অ্যাভিয়েশনের মেরুদণ্ড। তাঁদের প্রচেষ্টাকে কুর্নিশ না জানিয়ে উপায় নেই। তাই এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে চূড়ান্ত রিপোর্ট আসা পর্যন্ত।'
প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ১২ জুন সকালে উড়ে যাওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ে। সে সময় ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে শোনা যায়, এক পাইলট জিজ্ঞেস করছেন, 'তুমি জ্বালানি বন্ধ করে দিলে কেন?' উত্তরে অপর পাইলট বলছেন, 'আমি কিছুই করিনি।'
রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিমানটি ওড়ার পরই সর্বোচ্চ ১৮০ নট গতি নেয় এবং ঠিক তার পরপরই প্রথম ইঞ্জিন ও দ্বিতীয় ইঞ্জিনের জ্বালানি কাটা হয় মাত্র এক সেকেন্ডের ব্যবধানে। জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইঞ্জিনও বন্ধ হয়ে যায়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমানটি মেঘানীনগর এলাকার বিএজে মেডিক্যাল কলেজের আবাসনে ভেঙে পড়ে। রিপোর্ট আরও বলছে, ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেছে বুঝতে পেরে, চালানোর চেষ্টা করেছিলেন পাইলট। কিন্তু সে সময়টুকু তিনি আর পাননি।
ঠিক এক মাস আগে অর্থাৎ ১২ জুনে হওয়া দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জনেরই মৃত্যু হয়। প্রাণ হারান মেডিক্যাল কলেজের ৯ ছাত্র ও আশপাশের এলাকার অনেকে। তোলপাড় হয় গোটা দেশ। একাধিক তত্ত্ব সামনে এসেছে শেষ এক মাসে। সকলে শুধু অপেক্ষা করেছিলেন প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্টের।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বিমানটিতে যে জ্বালানি ভরা হয়েছিল, তার নমুনা পরীক্ষা করে DGCA-র ল্যাবরেটরিতে কোনও ত্রুটি পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ জ্বালানির গুণগত মানে সমস্যা ছিল না।
মন্ত্রী নাইডু শেষে বলেন, 'এই ধরনের দুর্ঘটনায় নানা টেকনিক্যাল বিষয় থাকে। তাই প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে কিছু বলা খুব তাড়াহুড়োর কাজ হবে। আমরা চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষা করছি।'