প্রাণের ভয়ে স্বামীকে নিয়ে তিনি হাভেরিতে থাকছিলেন। চলতি মাসের শুরুতেই তাঁরা গ্রামে ফিরে আসেন এবং স্বামীর পরিবারের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। মান্যা তখন ছ’মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

শেষ আপডেট: 22 December 2025 15:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাতপ্রথার নিষ্ঠুরতায় ফের এক প্রাণের বলি। কর্নাটকের হুব্বালিতে ভিনজাতে বিয়ে করার ‘অপরাধে’ (Inter-caste marriage) পরিবারের লোকজনের মারধরে মৃত্যু হল এক ১৯ বছরের তরুণীর। জানা গিয়েছে, তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। অভিযোগ, পরিবারের সদস্যরাই লোহার রড, পাইপ ও কৃষিকাজের সরঞ্জাম দিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর এবং গর্ভস্থ ছ’মাসের শিশুর (inter-caste marriage honour killing)।
মৃত তরুণীর নাম মান্যা। ঘটনাটি ঘটেছে হুব্বালি রুরাল তালুকের ইনাম–বীরাপুর গ্রামে। মারধরের পর তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি (pregnant woman killed Karnataka)।
গ্রেফতার তিন, অভিযুক্তদের মধ্যে বাবাও
ধারওয়াড় জেলার পুলিশ সুপার গুঞ্জন আর্য সাংবাদিকদের জানান, এই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম প্রকাশগৌড়া পাটিল, বীরনগৌড়া পাটিল ও অরুণগৌড়া পাটিল। গ্রেফতারদের মধ্যে মান্যার বাবাও রয়েছেন।
পুলিশ সুপার বলেন, “সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আরও ৭–৮ জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মান্যার মৃত্যুর পর গ্রামীণ থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।”
কীভাবে ঘটল হামলা?
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, রবিবার রাতে মান্যাকে পাইপ ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত লোহার সরঞ্জাম দিয়ে মারধর করা হয়। শরীরের একাধিক জায়গায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। সেই আঘাতই শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভিনজাতের বিয়েই ‘অপরাধ’
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে নিজের গ্রামেরই এক অন্য জাতের যুবককে বিয়ে করেছিলেন মান্যা। পরিবার এই বিয়ে কোনও ভাবেই মেনে নেয়নি। প্রাণের ভয়ে স্বামীকে নিয়ে তিনি হাভেরিতে থাকছিলেন। চলতি মাসের শুরুতেই তাঁরা গ্রামে ফিরে আসেন এবং স্বামীর পরিবারের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। মান্যা তখন ছ’মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
রবিবার প্রথমে মান্যার পরিবার গ্রামের কৃষিজমিতে কাজ করা তাঁর স্বামী ও শ্বশুরের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। তবে তাঁরা কোনওমতে সেখান থেকে পালিয়ে যান। এই ব্যর্থতায় আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা।
বাড়িতে ঢুকে লোহার রডে মারধর
পুলিশ জানিয়েছে, সন্ধ্যার দিকে অভিযুক্তরা মান্যার বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তখন সেখানে ছিলেন মান্যা। তাঁকে বাঁচাতে যাঁরা এগিয়ে এসেছিলেন, তাঁদেরও মারধর করা হয়।
এক পুলিশ আধিকারিক জানান, “প্রথমে মেয়ের স্বামী ও শ্বশুরের উপর মাঠে হামলা চালানো হয়। পরে বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে নিজের মেয়েকেই আক্রমণ করা হয়।”
গুরুতর আহত অবস্থায় মান্যাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে মৃত্যু হয় তাঁর গর্ভস্থ ছ’মাসের শিশুরও।
হুব্বালি রুরাল পুলিশ স্টেশনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আরও গ্রেফতার হতে পারে।