অনেক ডাকঘরে কর্মী সঙ্কট, অপর্যাপ্ত ফর্ম ও চেকবই, খারাপ বা অভাবপূর্ণ প্রিন্টিং মেশিন—এ সবই পরিষেবার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। নতুন প্রযুক্তি চালু হওয়ার চেষ্টা থাকলেও, তা মুখ থুবড়ে পড়েছে। এর ফল, দীর্ঘ লাইন, দেরিতে পরিষেবা এবং গ্রাহকের অসন্তোষ।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 16 August 2025 08:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের প্রত্যেক প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার পোস্ট অফিসের মাধ্যমে ৪০ কোটি নাগরিকের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম ডাক বিভাগ (Postal Department)। অথচ দেশের বৃহত্তম এই ব্যাঙ্কিং পরিষেবা (Country's largest banking system) এখন তীব্র আর্থিক সঙ্কটের মুখোমুখি!
ডাক বিভাগের সম্প্রতি প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ডাক বিভাগের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৪,৫৫৩ কোটি টাকা। নরেন্দ্র মোদীর শাসনামলে এই ক্ষতির হিসাব যোগ করলে তা ১.৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি পৌঁছবে বলে মত দফতরের কর্তাদের।
ডাক বিভাগ বর্তমানে মূলত পার্সেল ব্যবসার ওপর নির্ভর করছে। চিঠি-পত্রের প্রচলিত ব্যবসা প্রায় উঠে গেছে। এখন প্রধান আয়ের উৎসই হয়ে উঠেছে সরকারি সঞ্চয় প্রকল্পের কমিশন এবং পোস্টাল জীবন বীমা। তবে গ্রাহকরা জানাচ্ছেন, দিনের শেষে তারা যে পরিষেবা পাচ্ছেন, তা যথেষ্ট নয়।
সমস্যা শুধু কর্মীদের কারণে নয়। অনেক ডাকঘরে কর্মী সঙ্কট, অপর্যাপ্ত ফর্ম ও চেকবই, খারাপ বা অভাবপূর্ণ প্রিন্টিং মেশিন—এ সবই পরিষেবার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। নতুন প্রযুক্তি চালু হওয়ার চেষ্টা থাকলেও, তা মুখ থুবড়ে পড়েছে। এর ফল, দীর্ঘ লাইন, দেরিতে পরিষেবা এবং গ্রাহকের অসন্তোষ।
দফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, খরচের বড় অংশ চলে যায় কর্মীর বেতন ও অফিস পরিচালনায়। আয় তুলনায় কম হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে, দেশের বৃহত্তম এই ব্যাঙ্কিং পরিকাঠামোকে আর্থিকভাবে বাঁচানো সম্ভব কি না।