ভোট-পরবর্তী নীরবতা ভেঙে মুখ খুললেন জন সুরাজ (Jan Suraj Party) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন নির্বাচনী কৌশলী প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor)।

প্রশান্ত কিশোর
শেষ আপডেট: 23 November 2025 13:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহার ভোটে (Bihar Election) তাঁদের নতুন দল কার্যত ভরাডুবি। ২৪৩ আসনে ২৩৮টিতে লড়ে একটিতেও জয় নেই। ভোট-পরবর্তী নীরবতা ভেঙে মুখ খুললেন জন সুরাজ (Jan Suraj Party) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন নির্বাচনী কৌশলী প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor)। অভিযোগ তুললেন, বিহারে “কিছু একটা গোলমাল হয়েছে”, যদিও স্বীকার করলেন, হাতে কোনও প্রমাণ নেই।
সর্ববারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিকের দাবি, জন সুরাজ যাত্রার সময় জনগণের প্রতিক্রিয়া, প্রচারের শক্তি, ময়দানে থাকা, কিছুই ভোট-ফলাফলের সঙ্গে মেলেনি। তাঁর কথায়, “অপরাজেয় কিছু শক্তি কাজ করেছে। যেসব দলকে লোক চিনত না, তারা লক্ষ লক্ষ ভোট পেল!”
ইভিএম কারচুপির অভিযোগ তুলতে অনেকে চাপ দিলেও পিকে বলেন, “হারলে লোকেরা এসব বলে। প্রমাণ নেই। কিন্তু অনেক হিসেব মিলছে না। প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে, কিছু একটা বেইমানি হয়েইছে।”
আরও তোপ দেগে প্রশান্তের দাবি, ভোটের আগে হাজার হাজার মহিলাকে ‘টাকা বিলি’ করেছে এনডিএ শিবির। তাঁর কথায়, “ভোট ঘোষণার দিন থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত মেয়েদের ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, এনডিএ-কে ভোট দিলে দু’লক্ষ টাকা পর্যন্ত পাবেন— এ ছিল প্রথম কিস্তি!” তিনি আরও বলেন, “দেশে কোনও সরকারকে আমি এমনভাবে ৫০ হাজার মহিলার হাতে নগদ বিলি করতে দেখিনি।”
জন সুরাজের বিরুদ্ধে আরেকটা বড় প্রতিকূলতা, লালুপ্রসাদের ‘জঙ্গলরাজ’-এ ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা। প্রশান্তের ব্যাখ্যা, “শেষ দফার দিকে অনেকেই ভেবেছেন আমরা জিতব না। তাঁরা ভয় পেয়েছেন, আমাদের ভোট দিলে নাকি লালুর রাজ ফিরে আসতে পারে। সেই ভয়েই অনেক ভোট সরে গিয়েছে।”
সমালোচকদের কটাক্ষ নিয়েও কথা বলতে ছাড়েননি পিকে। বলেন, “যারা আজ আমার শেষ দেখছেন, তারাই অতীতে হাততালি দিয়েছে। আমি যদি সফল হই, আবার হাততালি দেবে। যারা সমালোচনা করছে, তারাই আমার বিষয়ে সবচেয়ে কৌতূহলী। তার মানে আমি এখনই শেষ হয়ে যাইনি, ‘অভি কাহানি বাকি হ্যায়’।”
নতুন দল প্রথমবার লড়েই প্রায় ভরাডুবি হয় পিকের দলের। জন সুরাজ ভোট পেয়েছে মাত্র ২–৩ শতাংশ। বেশির ভাগ প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন। তবু প্রশান্ত কিশোরের দাবি, লড়াই শেষ নয়, এই তো সবে শুরু।
পিকের আক্ষেপ, তিনি নাকি ভোটারদের বুঝিয়ে উঠতেই পারেননি কেন নতুন রাজনীতি প্রয়োজন, বা কেন তাঁদের দলকে সুযোগ দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, “ভোটারদের সঙ্গে আমাদের যে যোগাযোগ হওয়া উচিত ছিল, সে জায়গায় আমিই ব্যর্থ হয়েছি।”