জন সুরাজের জাতীয় সভাপতি উদয় সিংয়ের অভিযোগ, “এই ভোট পুরোপুরি কেনা হয়েছে। ২১ জুন থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে ম্যান্ডেট নিশ্চিত করতে।

প্রশান্ত কিশোর
শেষ আপডেট: 16 November 2025 15:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহার ভোটে (Bihar Election Result) মহিলাদের ব্যাংক-হিসেবে সরাসরি নগদ পৌঁছে দিতে বিশ্ব ব্যাঙ্কের (World Bank) প্রকল্প-নির্ধারিত বিপুল অর্থ ব্যবহার হয়েছে— এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলল প্রশান্ত কিশোরের (Prashant Kishor) দল ‘জন সুরাজ’ (Jan Suraj)। দলের দাবি, ১৪ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নমূলক ঋণ সরিয়ে ১.২৫ কোটি মহিলা ভোটারের অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছে নির্বাচনের ঠিক আগেই। তাদের কথায়, এটি “জনতার টাকা ভেবে-চিন্তে ভোট কেনার স্পষ্ট উদাহরণ।”
জন সুরাজের জাতীয় সভাপতি উদয় সিংয়ের অভিযোগ, “এই ভোট পুরোপুরি কেনা হয়েছে। ২১ জুন থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে ম্যান্ডেট নিশ্চিত করতে। ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের টাকাও সেই খাতে গেছে বলে তথ্য আমাদের কাছে আছে।”
দলের মুখপাত্র পবন বর্মার আরও দাবি, আচরণবিধি জারি হওয়ার ঠিক এক ঘণ্টা আগে ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের জন্য নির্দিষ্ট প্রকল্প-তহবিল থেকে ১৪ হাজার কোটি তুলে দেওয়া হয়। তাঁর প্রশ্ন, “আইনগত ফাঁকফোকর থাকতে পারে, কিন্তু নৈতিকতার প্রশ্নটা কোথায়? আগামী দিনে বাংলায়, তামিলনাড়ুতে বা অন্য বিজেপি-শাসিত রাজ্যে কি একই নজির তৈরি হবে?”
জন সুরাজের মতে, এই বিপুল ব্যয়ের পরে বিহারের ভাঁড়ার কার্যত শূন্য। বর্মার ভাষায়, “রাজ্যের ঋণ এখন ৪.০৬ লক্ষ কোটি। দিনে ৬৩ কোটি শুধু সুদ যায়। খরচ করার মতো টাকা নেই বললেই চলে।”
প্রশান্ত কিশোরের দল এ বার প্রথম বিধানসভায় পা রেখেও একটিও আসন পায়নি। মোট ২৩৮টি আসনে লড়েও সম্পূর্ণ ভরাডুবি। অন্যদিকে, এনডিএ পেয়েছে ২০২টি আসন, যার মধ্যে বিজেপি ৮৯, জেডিইউ ৮৫। লোজপা (রামবিলাস)-সহ সঙ্গী দলগুলিও ভাল ফল করেছে। ফলে ফের একবার দৃঢ় হয়েছে নীতীশ কুমার–নরেন্দ্র মোদী জোটের দাপট।
বিপরীতে, মহাগঠবন্ধন কার্যত বিপর্যস্ত— আরজেডি মাত্র ২৫ আসনে, কংগ্রেস পেয়েছে ৬টি। জন সুরাজ এই অর্থস্থানান্তর নিয়ে স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছে। সরকারের তরফে অবশ্য এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া আসেনি।
এনডিএ-র (NDA) ঝড়ে রীতিমতো উড়ে গিয়েছে বিরোধীরা। বিজেপি এক লাফে ৭৪ থেকে ৮৯— অন্যদিকে নীতীশ কুমারের জেডিইউ ৪৩ থেকে সরাসরি ৮৫-এ। ২৪৩ সদস্যের বিধানসভায় দুই সঙ্গীর প্রায় ৮৫ শতাংশ স্ট্রাইক রেট এনডিএ-কে দিয়েছে স্বচ্ছ, শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা।
বিরোধী শিবিরে একমাত্র স্বস্তির হাওয়া তেজস্বী যাদবের আসন রাঘোপুরে। মহাগঠবন্ধনের মুখ্যমন্ত্রী মুখ হিসেবে লড়াই করা তেজস্বী প্রায় ১৪ হাজার ৫৩২ ভোটে হারিয়েছেন বিজেপির সতীশ কুমারকে।
ভোট শেয়ারে অবশ্য আরজেডি এগিয়ে। বিজেপি, জেডিইউ-র যেখানে ২০.৯০ এবং ১৮.৯২ শতাংশ। সেখানে আরজেডি-র ২২.৭৬ শতাংশ।
ফলাফলকে “অন্যায্য নির্বাচনের” প্রতিফলন বলে দাবি করেছেন তেজস্বীর সঙ্গী রাহুল গান্ধী। এক্স-এ তিনি লিখেছেন, “বিহারের কোটি কোটি ভোটারকে ধন্যবাদ। এই ফল বিস্ময়কর। শুরু থেকেই নির্বাচন ছিল অন্যায্য।” এর পরদিনই দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, রাহুল, জয়ারাম রমেশ, অজয় মাকেন-সহ শীর্ষ নেতৃত্ব বৈঠকে বসে কঠোর পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০১০-এর পর এটিই বিহারে কংগ্রেসের দ্বিতীয় সবচেয়ে খারাপ ফল।