বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কাজান সম্মেলনে যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল, তা বর্তমানে বাস্তবায়নের পথে। ২৩তম আলোচনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। এবার ২৪তম বিশেষ প্রতিনিধি বৈঠকে সীমান্তে শান্তি রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

চিনের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক মোদীর
শেষ আপডেট: 20 August 2025 07:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত ও চিনের (India-China) সম্পর্কের 'উন্নতি'তে এক বড় পদক্ষেপ! মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ও চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই (Chinese Foreign Minister Wang Yi) মুখোমুখি বৈঠকে বসেন। সেখানে সীমান্ত সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়।
ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সীমান্ত-বিরোধ মেটাতে উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষা করে একটি ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই সমাধান খোঁজা হবে। সেই লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হবে। তারা সীমান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কাজান সম্মেলনে যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল, তা বর্তমানে বাস্তবায়নের পথে। ২৩তম আলোচনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। এবার ২৪তম বিশেষ প্রতিনিধি বৈঠকে সীমান্তে শান্তি রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ২০০৫ সালের সীমান্ত চুক্তির ভিত্তিতেই ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধানের খসড়া তৈরি হবে।
এই বৈঠক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ভারত-চিন সম্পর্ক (India-China Relation) ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে এবং তার মূল কারণ পারস্পরিক শ্রদ্ধা। ওয়াং ই-ও একই বার্তা দেন, যা দুই দেশের মধ্যে নতুন আস্থার সঞ্চার করেছে।
ভারতের জারি করা বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুই দেশ খুব শীঘ্রই সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু করবে। পাশাপাশি কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার পরিধি বাড়ানো হবে, যাতে আরও বেশি ভারতীয় তীর্থযাত্রী সহজে যেতে পারেন। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সীমান্ত বাণিজ্যও ফের শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লিপুলেখ পাস, শিপকিলা এবং নাথুলা, এই তিনটি নির্দিষ্ট রুট দিয়ে আবারও সীমান্ত বাণিজ্য শুরু হবে।
এই বৈঠকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। আগামী সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণপত্র প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন চিনের বিদেশমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন মোদী।
তিন বছর পর ভারতে সফরে এসেছেন চিনের বিদেশমন্ত্রী। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গালওয়ান সংঘর্ষ-পরবর্তী বরফ গলতে শুরু করেছে। আগামী ৩১ অগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী মোদী চিন সফরে যাবেন। মনে করা হচ্ছে, এই দ্বিপাক্ষিক সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন দিশা দেখাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গালওয়ান সংঘর্ষ-পরবর্তী দীর্ঘ উত্তেজনার পর ভারত-চিন সম্পর্কের বরফ গলছে। সীমান্ত বিরোধ, তীর্থযাত্রা, বিমান যোগাযোগ, বাণিজ্য থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ—সব ক্ষেত্রেই নতুন দিগন্ত খুলছে দুই দেশের সম্পর্কে।