সরকারি সূত্র বলেছে, কেন্দ্র পাঞ্জাবকে এই দুর্যোগে একা ছাড়বে না। প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখবেন। গ্রাম প্লাবিত হওয়া, ফসলের ধ্বংস, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা-সেতু ইত্যাদি।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 7 September 2025 13:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী সপ্তাহেই পাঞ্জাবের (Punjab Visit) বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও কৃষকদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের কথা শুনবেন। পাশাপাশি পুনর্বাসন ও ত্রাণকাজের অবস্থা খতিয়ে দেখবেন, এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সূত্র।
বিজেপি পাঞ্জাবের (BJP Punjab) এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছে, 'প্রধানমন্ত্রী ৯ সেপ্টেম্বর গুরদাসপুরে আসছেন, তিনি বন্যা-প্রভাবিত ভাই-বোন ও কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে তাঁদের কথা শোনার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার সবরকম পদক্ষেপ নেবেন।
সরকারি সূত্র বলেছে, কেন্দ্র পাঞ্জাবকে এই দুর্যোগে একা ছাড়বে না। প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখবেন। গ্রাম প্লাবিত হওয়া, ফসলের ধ্বংস, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা-সেতু ইত্যাদি। একইসঙ্গে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর মৃত পশুদের নিরাপদ নিষ্পত্তি-সহ তৎকালীন ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনমূলক কাজ কীভাবে করা হবে, তা তিনি পর্যবেক্ষণ করবেন।
সূত্র আরও বলেছে, প্রধানমন্ত্রী শুধু ত্রাণই নয়, দূরদর্শী পদক্ষেপেও গুরুত্ব দেবেন। তিনি সুত্রজল, বীস, রবি ও ঘাগর নদীর তীর বরাবর বাঁধ-প্রতিরক্ষা জোরদার করার জরুরি প্রসঙ্গ তুলে ধরতে পারেন, কারণ অবৈধ খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব বাঁধ অনেকখানি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এসব উদ্যোগ একটি বিস্তৃত বন্যা নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনার অংশ হিসাবে সাজানো হবে, এতে পুরনো সময়ে নেয়া বাজপেয়ি–বাদল যুগের পদক্ষেপগুলোর ওপর ভিত্তি রেখে মোদীর নতুন উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
কেন্দ্রীয় সূত্র জানিয়েছে, পাঞ্জাবের কৃষকদের স্বায়ত্তশাসন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার শর্ট-টর্ম, মিডিয়াম-টর্ম ও লং-টার্ম—তিন স্তরের পদক্ষেপ নেবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত চাষভূমি পুনরুদ্ধার, জীবিকা ফিরে আনা ও ভবিষ্যৎ বন্যার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
পাঞ্জাব সাম্প্রতিক মাছিম-বর্ষায় ভেঙে পড়েছে—২৩টি জেলায় ১ হাজার ৯০০-রও বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। রাজ্য সরকার বলছে, অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ১.৭১ লক্ষ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। বহু ক্ষেত এখনও জলে ডুবে আছে; নদীগুলো সতর্কতামূলক স্তরের ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে এবং ভূমিধস ও প্লাবনের কারণে অনেক হাইওয়ে অবরুদ্ধ।
সূত্র বলছে, মোদী পাঞ্জাবের পর উত্তর ভারতের অন্যান্য বন্যাপীড়িত রাজ্যগুলিতেও পরিদর্শন করবেন এবং সেখানে চলমান ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাজের খতিয়ান নেবেন।
উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ্য, বন্যায় গুরুতরভাবে প্রভাবিত হিমাচল প্রদেশে ২০ জুন থেকে প্রবল বর্ষণের পর ৯৫টি ফ্ল্যাশ ফ্লাড, ৪৫টি ক্লাউডবাস্ট ও ১৩২টি বড় ভূমিধস রিপোর্ট করা হয়েছে। সেখানে অন্তত ৩৫৫ জন মানুষ বর্ষাজনিত দুর্ঘটনা ও রাস্তা দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, আর ৪৯ জন অনুপস্থিত আছে। রাজ্যে প্রায় ৩ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা ক্ষতি অনুমান করা হয়েছে ও ১ হাজার ২১৭ রাস্তা এখনও বন্ধ আছে, এর মধ্যে মান্ডি, শিমলা, কুলু ও চাম্বা জেলাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ রুটও অন্তর্ভুক্ত।
উত্তরাঞ্চলের কাশ্মীর উপত্যকাও অব্যাহত বর্ষণের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে; জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় ঐতিহাসিক মহাসড়কসহ বেশ কিছু মূল রুট ধ্বসে বন্ধ আছে। জয়ী কাশ্মীর-রাজৌরি-পুঞ্চ ও বাটোটা-ডোডা-কিশ্তওয়ার মতো অন্য বড় হাইওয়েও ক্ষতিগ্রস্ত ও অচল।