ঘটনাটি ঘটে সোমবার সকালে, যখন এক প্রবীণ আইনজীবী আদালতের শুনানির সময় প্রধান বিচারপতির দিকে জুতো ছুড়ে মারেন। যদিও জুতোটি বেঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছয়নি।

নরেন্দ্র মোদী এবং বি আর গাভাই
শেষ আপডেট: 6 October 2025 23:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের (CJI BR Gavai) উপর হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। এও জানান, তিনি প্রধান বিচারপতিকে বিষয়টি নিয়ে ফোনও করেছিলেন।
সোমবার সন্ধেয় মোদী বি আর গাভাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং জানান, “এই ঘটনার জন্য প্রতিটি ভারতীয় ক্ষুব্ধ। সমাজে এমন নিন্দনীয় আচরণের কোনও স্থান নেই।”
মোদীর বক্তব্য, “আজ সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি গাভাইয়ের উপর হামলার ঘটনা আমাদের সকলকেই ক্ষুব্ধ করেছে। এমন ঘটনা সম্পূর্ণরূপে নিন্দনীয়। বিচারপতি গাভাই যেভাবে শান্ত ও সংযতভাবে পরিস্থিতি সামলেছেন, তা ন্যায়ের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাকেই প্রতিফলিত করে।”
ঘটনাটি ঘটে সোমবার সকালে, যখন এক প্রবীণ আইনজীবী (Lawyer) আদালতের শুনানির সময় প্রধান বিচারপতির দিকে জুতো ছুড়ে মারেন। যদিও জুতোটি বেঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছয়নি। আদালতে উপস্থিত নিরাপত্তারক্ষীরা সঙ্গে সঙ্গেই ওই ব্যক্তিকে আটক করে বাইরে বের করে দেন।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সময় প্রধান বিচারপতি গাভাই ও বিচারপতি কে. ভিনোদ চন্দ্রন শুনানি করছিলেন। শান্তভাবে বিচারপতি গাভাই বলেন, “এই সব দেখে বিচলিত হবেন না। মনোযোগ হারাবেন না।” এরপরও তিনি শুনানি চালিয়ে যান।
পরবর্তীতে ওই আইনজীবীর পরিচয় জানা যায় — রাকেশ কিশোর, যিনি দিল্লি বার কাউন্সিলে নাম নথিভুক্ত এক অ্যাডভোকেট। তাঁকে আদালতের নিরাপত্তাকর্মীরা তিন ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং পরে সতর্কবাণী দিয়ে ছেড়ে দেন। সূত্রের খবর, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি ‘সনাতন ধর্মের অপমান বরদাস্ত করা হবে না’ বলে চিৎকার করছিলেন।
ঘটনার পরপরই বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া কড়া পদক্ষেপ নেয়। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, “এই আচরণ আদালতের মর্যাদার পরিপন্থী। তাঁকে সাসপেন্ড করা হচ্ছে।” বার কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাকেশ কিশোরকে আপাতত ভারতের কোনও আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষের সামনে উপস্থিত হয়ে মামলা লড়ার অধিকার থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁকে ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কেন এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হবে না।
এই ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন বিচারপতি গাভাই সম্প্রতি খাজুরাহোর একটি বিষ্ণু মূর্তি পুনঃস্থাপন সংক্রান্ত মামলায় মন্তব্য করে সংবাদ শিরোনামে এসেছিলেন। সেই মামলাটি তিনি ‘জনস্বার্থ নয়, প্রচারের জন্য মামলা’ বলে খারিজ করেন।