শিবু সোরেনের মৃত্যু সংবাদ জানান তাঁর পুত্র ও ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। তিনি এক্সে লেখেন, 'শ্রদ্ধেয় দিশোম গুরুজি আমাদের সকলকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন। আজ আমি শূন্য হয়ে গেলাম।'

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 4 August 2025 15:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নয়াদিল্লির গঙ্গারাম হাসপাতালে গিয়ে ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠাতা শিবু সোরেনকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার সকালে হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান এই জননেতা। বয়স হয়েছিল ৮১।
দীর্ঘ দিন ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন শিবু সোরেন। জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে চিকিৎসাধীন ছিলেন দিল্লির ওই হাসপাতালে। মাসখানেক আগে স্ট্রোক হওয়ার পর তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। রাখা হয়েছিল ভেন্টিলেশনে। সোমবার সকাল ৮টা ৫৬ মিনিটে মৃত্যু হয়।
শিবু সোরেনের মৃত্যু সংবাদ জানান তাঁর পুত্র ও ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। তিনি এক্সে লেখেন, 'শ্রদ্ধেয় দিশোম গুরুজি আমাদের সকলকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন। আজ আমি শূন্য হয়ে গেলাম।'
এরপরই হাসপাতাল পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। শিবু সোরেনকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। দেখা করেন হেমন্ত ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। পরে এক্সে ছবি শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, 'গঙ্গারাম হাসপাতালে গিয়ে শ্রী শিবু সোরেনজিকে শ্রদ্ধা জানালাম। হেমন্তজিও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। তাঁদের প্রতি রইল আমার গভীর সমবেদনা।'
এর আগে শিবু সোরেনের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করে মোদী টুইটে লিখেছিলেন, 'মাটির মানুষ, যিনি জনজীবনের নানা স্তর পেরিয়ে নেতৃত্বে উঠে এসেছিলেন। জনজাতি, দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের কল্যাণের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। এমন নেতার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। হেমন্তজির সঙ্গে কথা হয়েছে। ওঁ শান্তি।'
শিবু সোরেনের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন নানা লড়াই-সংগ্রামে ভরা। তিনি তিনবার ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, ২০০৫, ২০০৮-০৯ ও ২০০৯-১০ সময়কালে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে একবারও পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। ২০০৫ সালে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েও মাত্র ৯ দিনেই তাঁকে ইস্তফা দিতে হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় কয়লা মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলেছেন তিনবার (২০০৪ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত)। লোকসভায় নির্বাচিত হয়েছেন ছ'বার। ১৯৮০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত একাধিক মেয়াদে সাংসদ ছিলেন। রাজ্যসভাতেও ছিলেন তিনবার।
সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর শিবু সোরেন ছিলেন ঝাড়খণ্ড রাজ্যের জন্য পৃথক রাজ্যের দাবি নিয়ে চলা আন্দোলনের অন্যতম মুখ। ১৯৭২ সালে বামপন্থী শ্রমিক নেতা এ কে রায় ও বিনোদ বিহারী মাহাতর সঙ্গে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা গঠন করেন। পরে তাঁর নেতৃত্বে আন্দোলনের জোরে তৈরি হয় পৃথক ঝাড়খণ্ড রাজ্য। তাঁর মৃত্যু এক অধ্যায়ের সমাপ্তি।