দুই নেতার শেষ দেখা হয়েছিল ১ সেপ্টেম্বর তিয়ানজিনে এসসিও সম্মেলনে। এ বছর মোট পাঁচ বার ফোনে কথা বলেছেন মোদী ও পুতিন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 4 December 2025 18:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে পা রাখতে চলেছেন। আর তাঁকে স্বাগত জানাতে নিজেই বিমানবন্দরে (Airport) হাজির থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। যা কূটনৈতিক মহলে বিরল ঘটনা বলাই যায়। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপ্রধানকে অভ্যর্থনা জানাতে ‘পিএম-লেভেল প্রোটোকল’-এর বিশেষ বন্দোবস্ত করা হচ্ছে বিমানবন্দরে।
দু' দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে আসছেন পুতিন। ২০২১ সালের পরে এই প্রথম তাঁর ভারত সফর এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম কোনও ভারত সফর। একই সঙ্গে এবারের বৈঠক ভারত-রাশিয়ার কৌশলগত অংশীদারত্বের ২৫ বছর এবং দুই দেশের ২৩তম বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনেরও স্মারক মুহূর্ত।
দুই নেতার শেষ দেখা হয়েছিল ১ সেপ্টেম্বর তিয়ানজিনে এসসিও সম্মেলনে। এ বছর মোট পাঁচ বার ফোনে কথা বলেছেন মোদী ও পুতিন।
পুতিনের সঙ্গে ভারতে আসছেন রুশ মন্ত্রিসভার এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল—
ডিফেন্স মিনিস্টার আন্দ্রে বেলাউসোভ, ফিনান্স মিনিস্টার আন্তন সিলুয়ানোভ, অ্যাগ্রিকালচার মিনিস্টার অক্সানা লুত, ইকনমিক ডেভেলপমেন্ট মিনিস্টার মাক্সিম রেশেতনিকভ, হেলথ মিনিস্টার মিখাইল মুরাশকো, ইন্টিরিয়র মিনিস্টার ভ্লাদিমির কোলোকোলসেভ এবং ট্রান্সপোর্ট মিনিস্টার রোমান নিকিতিন।
সফরকালে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
পুতিনের সরকারি কর্মসূচি শুরু হবে রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনার মাধ্যমে। এর পরে তিনি রাজঘাটে (Rajghat) গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর (Mahatma Gandhi) স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানাবেন - ভারত সফরে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য এটি প্রায় বাধ্যতামূলক কর্মসূচি হয়ে উঠেছে।
এর পর হায়দরাবাদ হাউসে (Hyderabad House) হবে ২৩তম ভারত–রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ বৈঠক। সেখানেই অনুষ্ঠিত হবে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং কাজের মধ্যাহ্নভোজ। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, ভূ-কৌশল—সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ আলাপ-আলোচনা হবে বলে সূত্রের খবর।
রুশ সামরিক সরঞ্জামের বকেয়া সরবরাহ দ্রুত পাওয়ার বিষয়টি ভারত বৈঠকে জোরালোভাবে তুলতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধে (Russia Ukraine War) জড়িয়ে পড়ার পর রাশিয়ার কিছু প্ল্যাটফর্মের ডেলিভারি দেরি হচ্ছে। বিশেষ করে বাকি থাকা দুইটি এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (S-400 Air Defense System) আগামী বছর মাঝামাঝি হাতে পাওয়ার বিষয়ে ভারত স্পষ্টতা চাইবে। ২০১৮ সালে ৫ বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তি করা হয়েছিল। তিনটি ইউনিট ইতিমধ্যেই এসে পৌঁছেছে এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ সফলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, বৈঠকে ভারতের সম্ভাব্য আগ্রহের বিষয় হিসেবে সুউ-৫৭ পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের কথাও উঠতে পারে। পরবর্তী প্রজন্মের ফাইটার প্ল্যাটফর্ম নিয়ে ভারত বর্তমানে সম্ভাব্য বিকল্প খতিয়ে দেখছে—তালিকায় রয়েছে রাফাল, এফ-২১, এফ/এ-১৮ ও ইউরোফাইটার টাইফুনও।
পুতিন ও মোদীর বৈঠকের পাশাপাশি দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী—রাজনাথ সিং ও আন্দ্রে বেলোসোভও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রকল্প নিয়ে পৃথক বৈঠকে বসবেন।