স্বাধীন ভারতে জন্ম নেওয়া দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী মোদী। আবালবৃদ্ধবনিতার মধ্যে আপাতত সবচেয়ে জনপ্রিয় জাতীয় নেতা তিনি।

নিন্দুকরাও স্বীকার করেন যে, অক্লান্ত পরিশ্রম করতে পারেন এই ‘বৃদ্ধ রাজা’।
শেষ আপডেট: 16 September 2025 18:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের সংবিধান কার্যকর হয়েছিল ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি। সেই বছরেই কয়েক মাস পর ১৭ সেপ্টেম্বর গুজরাতের একটি ছাপোষা ঘরে জন্ম নেন নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী। বুধবার তিনি ৭৫ বছর বয়সে পা দিতে চলেছেন। তোষামোদকারী ভক্তরা সেদিনের জন্য অসংখ্য স্তুতি-স্তব গুছিয়ে রেখেছে। কিন্তু, সেসবের ঊর্ধ্বে মোদী নিজেকে এমন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন যে, যা আজকের পৃথিবীতে ভারতকে একটি বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।
স্বাধীন ভারতে জন্ম নেওয়া দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী মোদী। আবালবৃদ্ধবনিতার মধ্যে আপাতত সবচেয়ে জনপ্রিয় জাতীয় নেতা তিনি। তাঁর অতি বড় নিন্দুকরাও স্বীকার করেন যে, অক্লান্ত পরিশ্রম করতে পারেন এই ‘বৃদ্ধ রাজা’। হাতে তৈরি জিনিস থেকে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্ভর ভারত গড়ে তোলার এরকমই স্বপ্ন দেখেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। কিন্তু, তাঁর কাজের মূল সমস্যা ছিল রাজনৈতিক শক্তিশালী বিরোধী দল ও দেশের তখনও যুবক বয়সি কাঠিন্য গড়ে না ওঠা।
মোদীর ক্ষেত্রে এটা সাবলীল করে দিয়েছে তাঁর যাত্রাপথ। তিনি যখন দেশের দায়িত্ব হাতে নিয়েছেন, তখন ভারত একটি পরিণত ও আর্থিক দিক থেকে মজবুত দেশে রূপ নিয়েছে। কোভিডের সময় মোদীর বিদেশে টিকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত বিরোধী মহলে সমালোচিত হলেও তা তাঁকে বিশ্বস্তরের আনুকূল্য কুড়িয়ে নিতে সাহায্য করেছে।
হার্ভার্ডের অধ্যাপিকা-গবেষক লিন্ডা হিলের কথা অনুযায়ী, নেতৃত্ব হল একটি ধারাবাহিক যাত্রাপথ। যেখানে নিজেকে মেলে ধরতে হয় এবং আত্মশুদ্ধি করে নিতে হয়। একজন প্রকৃত নেতাই কখনও খুশি থাকেন না, আত্মবিরুদ্ধতায় ভোগেন। প্রকৃত নেতাই হেরে গেলেও শক্তিশালী ঘুরে দাঁড়াতে পারেন। যে গুণগুলি মোদীর মধ্যে রয়েছে। ভারতের অন্যতম রাজনৈতিক ও ভোটতাত্ত্বিক চাণক্য-র মতে, একজন রাজাকে প্রথমেই প্রজার আস্থা-ভরসা আদায় করে নিতে হয়। রাজা কখনও কোনও সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাগ্রস্ত হন না, দেরি করেন না। সমস্যার মুখে ভেঙে পড়েন না রাজা। ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বিশ্বের অন্যান্য শক্তিধর দেশের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার রাজনীতিতে মোদী সেই মান রক্ষা করেছেন।
কারও কারও মতে, একজন ক্রিকেটার যেমন কঠিন সময়ে দলকে টেনে তুলে আনেন, মোদীর আজীবনের রাজনীতিও অনুরূপ। ২০১৪ সালে তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী হন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে অসংখ্য দুর্নীতি, হিন্দুত্ব ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির তকমা। কিন্তু, ১১ বছরের ভিতরে সেই ভারতই বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পৌঁছেছে। একইসঙ্গে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র ও প্রভাবের দিক থেকে বিশ্বসভায় সমীহ আদায় করেছে।
ইতিহাস দুধরনের নেতাকে মনে রাখে। প্রথম জাতের হলেন যাঁরা যুদ্ধজয় করেন। আর দ্বিতীয় হলেন যাঁরা সমৃদ্ধি নিয়ে আসেন। মোদী দুটিই করে দেখিয়েছেন। কোনও সময় কোনও মুহূর্তে মোদী সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করেননি। যখন যেটা মনে হয়েছে করা উচিত তা করেছেন। সমালোচনা, নিন্দা, আইনি ঝামেলা, পরচর্চা, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়বে সে চিন্তা করেননি।
যুদ্ধের প্রসঙ্গে বলা যায়, প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ১৯৬২ সালে চিনের কাছে হেরে গিয়ে ভেঙে পড়েছিলেন। ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭১ সালে দৃঢ়তার সঙ্গে যুদ্ধ জিতেও ভোটব্যাঙ্কের খাতিরে পাকিস্তানের সঙ্গে সমঝোতা করে বসেন। ২০০৮ সালে মনমোহন সিং মুম্বই হামলার পরেও জঙ্গিদের মদতকারী দেশকে শাস্তি দিতে পারেননি। উল্টোদিকে, মোদী সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক এবং অবশেষে অপারেশন সিঁদুর করে পাকিস্তানি জঙ্গিদের সমুচিত শিক্ষা দিয়েছেন। আর তাতেই দেশের একটা বিরাট অংশের বাহবা কুড়িয়েছেন। বিশেষত দেশের সেনাবাহিনীর মর্যাদারক্ষা করেছেন।
ক্ষমতায় বসেই মোদী ঘোষণা করেছিলেন, না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা। না শোউঙ্গা, না শোনে দুঙ্গা। অর্থাৎ লাল ফিতের ফাঁসে বন্দি আমলাতন্ত্রকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, সংস্কার, কর্মদক্ষতা ও পরিবর্তন আনতে হবে সরকারে। প্রতিবছরের মতো এবারেও ভারতীয় জনতা পার্টি দেশব্যাপী মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে পক্ষকালব্যাপী সেবা পাখওয়ারা চালু করবে। অতীতের মতো এই দিনটাতে মোদী বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ঘোষণা করবেন। বুধবার তাঁর বিহার যাওয়ার কথা রয়েছে। এইদিন তিনি পিতৃপক্ষ উপলক্ষে গয়ার বিশাল মেলায় যেতে পারেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জন্মদিন থেকে স্বাস্থ নারী, সশক্ত পরিবার অভিযান ও পোষণ মাহ-এর অষ্টম দফার প্রকল্প ঘোষণা করবেন বলে ঠিক আছে। প্রকল্পগুলি দেশের মহিলাদের স্বাস্থ্য পরিষেবা ও পুষ্টি নিবারণ, বয়োসন্ধিকালের মেয়েদের ও শিশুদের জন্য উৎসর্গ করা হবে।