দিল্লির লালকেল্লা সংলগ্ন বিস্ফোরণ মামলায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। গোয়েন্দাদের দাবি, জইশ-ই-মহম্মদ যোগে গঠিত জঙ্গি চক্র ৬ ডিসেম্বর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ছক কষেছিল। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রতিশোধ নিতেই এই পরিকল্পনা বলে মনে করা হচ্ছে।

বিস্ফোরণের সময়কার ছবি
শেষ আপডেট: 13 November 2025 11:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে বিস্ফোরণের তদন্তে উঠে এল আরও ভয়ঙ্কর তথ্য। জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammad)-এর সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন জঙ্গি-মডিউল ৬ ডিসেম্বর দিল্লি ও তার আশপাশে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা করেছিল বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ওই তারিখ বেছে নেওয়ার কারণ, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ‘বদলা’ নেওয়া।
গোপন জবানবন্দিতে ধরা পড়েছে, মডিউলটি পাঁচ ধাপে গোটা হামলা চালানোর নকশা তৈরি করেছিল।
তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, মূল পরিকল্পনা ছিল অগস্ট মাসে হামলা চালানো। কিন্তু প্রস্তুতিতে দেরি হওয়ায় নতুন তারিখ ধার্য হয়, ৬ ডিসেম্বর, বাবরি মসজিদ ভাঙার বর্ষপূর্তি।
বয়সের দিক থেকে ১৬ শতকের এই মসজিদ ১৯৯২ সালে ভেঙে ফেলা হয়। পরে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে জমি হস্তান্তর হয় মন্দির ট্রাস্টের হাতে। নতুন রাম মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০২০ সালে এবং শেষ হয় গতবছর।
জইশ প্রধান মাসুদ আজহার (Masood Azhar) বহুবার তার লেখা সাপ্তাহিক কলামে ‘আযোধ্যা টার্গেট’ করার হুমকি দিয়েছিল, এটিও তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন।
এদিকে, বিস্ফোরণে সরকারি মতে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মারা গেছেন এবং জখম একাধিক। লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে সিগন্যালের ধারে থাকা গাড়িটিতেই বিস্ফোরণ হয়। সে গাড়ি চালাচ্ছিলেন কাশ্মীরি ডাক্তার উমর মহম্মদ, ওরফে উমর উন-নবি (Umar un-Nabi), ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Al Falah University) শিক্ষক।
এর আগে ফরিদাবাদে তল্লাশিতে ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক, সম্ভবত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, উদ্ধার হয় এবং গ্রেফতার হন ডাক্তার মুজাম্মিল শেখ ও শাহিন সইদ। পুলিশ দাবি করছে, এঁরা উচ্চশিক্ষিত পেশাদারদের নিয়ে নবগঠিত জইশ মডিউলের সদস্য।
তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, রাজধানীতে বিশাল আকারের হামলার প্রস্তুতি চলছিল এবং মজুত করা হচ্ছিল বিস্ফোরক ও অস্ত্র। সহযোদ্ধাদের গ্রেফতারের পর আতঙ্কে উমরই গাড়ি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে সন্দেহ। তদন্তকারীরা ডিএনএ পরীক্ষা করে জানিয়েছে, উমরের বিস্ফোরণেই মৃত্যু হয়েছে।
তদন্ত চলছে এখনও এবং গোটা নেটওয়ার্কে কারা সরাসরি যুক্ত, কারা জঙ্গি সংগঠনকে লজিস্টিক বা আর্থিকভাবে সাহায্য করেছে—সবটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।