বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন অর্থাৎ ৬ ডিসেম্বর বড়সড় নাশকতার ছক কষেছিল পুলওয়ামার চিকিৎসক উমর। দিল্লির বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে এমনই তথ্য এল গোয়েন্দাদের হাতে।

উমর
শেষ আপডেট: 12 November 2025 22:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাল কেল্লার কাছে বিস্ফোরণের ঘটনায় গোয়েন্দাদের হাতে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণঘটিত গাড়ি চালাচ্ছিল পুলওয়ামার বাসিন্দা চিকিৎসক ডাঃ উমর নবিই। সূত্রের দাবি, ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বার্ষিকী ঘিরে এক বড়সড় বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা করেছিল এই চিকিৎসক। তবে তার আগেই সহযোগীর গ্রেফতারির ঘটনায় পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
ভারতের এক জাতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফরিদাবাদ-কেন্দ্রিক আন্তঃরাজ্য “হোয়াইট কলার” জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) মডিউলের আটজন সদস্যকে জেরা করে এই তথ্য পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। ধৃতদের পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদের সঙ্গেও কথা বলে এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
পুলওয়ামার বাসিন্দা ২৮ বছরের চিকিৎসক উমর নবি, যে ফরিদাবাদের আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যুক্ত ছিল, লাল কেল্লার বিস্ফোরণে নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সোমবারের ওই বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় ১২ জনের। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, উমর এই সন্ত্রাসচক্রের অন্যতম মূল চক্রী।
আধিকারিকরা জানাচ্ছেন ওই চিকিৎসকের সহযোগী ডাঃ মুজাম্মিল শাকিলের গ্রেফতারির পরই ভেঙে পড়ে উমর, পরিকল্পনা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। ফরিদাবাদ পুলিশ সম্প্রতি তাঁর বাড়ি থেকে ৩৬০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার করে। এরপর উমর আতঙ্কিত হয়ে সোমবার দিল্লির লাল কেল্লার কাছে হুন্ডাই i20 গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটায়।
অফিসারদের দাবি, উমর মেধাবী কিন্তু অন্তর্মুখী। ২০২১ সালে ডাঃ শাকিলের সঙ্গে তুরস্ক সফরের পর তার মানসিকতা বদলাতে শুরু করে। মনে করা হচ্ছে, ওই সফরেই তারা নিষিদ্ধ জইশ-ই-মহম্মদের ওভারগ্রাউন্ড কর্মীদের সংস্পর্শে আসে।
ভারতে ফিরে উমর ধীরে ধীরে বিস্ফোরক তৈরির সামগ্রী সংগ্রহ শুরু করে, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, পটাসিয়াম নাইট্রেট, সালফার প্রভৃতি। এগুলি আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের আশপাশে মজুত করে রাখা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, অনলাইনে পাওয়া খোলা উৎসের সার্কিট ও ডিজাইন ব্যবহার করে সে একটি “ভেহিকল-বোর্ন ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস” (VBIED) তৈরি করে।
১০ নভেম্বর ফরিদাবাদ পুলিশ যখন ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করে, যার মধ্যে ৩৬০ কেজি পাওয়া যায় ডাঃ শাকিলের নেটওয়ার্ক থেকে, তখনই আতঙ্কে পড়ে উমর। তদন্তকারীদের মতে, সে দিল্লির পুরনো শহরের এক মসজিদে আশ্রয় নেয় এবং কয়েক ঘণ্টা পরে গাড়ি নিয়ে বেরোয়। অসম্পূর্ণ VBIED-টি চলার সময়েই অকাল বিস্ফোরণ ঘটে, যেখানে সে নিহত হয় বলে অনুমান।
এ পর্যন্ত আটক আটজনের মধ্যে সাতজন কাশ্মীরের — আরিফ নিসার দার ওরফে সাহিল, ইয়াসির-উল-আশরাফ, মাকসুদ আহমদ দার ওরফে শাহিদ (নওগাঁও, শ্রীনগর), মৌলভি ইরফান আহমদ (শোপিয়ান), জামির আহমদ আহঙ্গর ওরফে মুতলাশা (গান্দেরবল), ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল (পুলওয়ামা) এবং ডাঃ আদিল (কুলগাম)। অষ্টম অভিযুক্ত ডাঃ শাহিদ সইদ উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের বাসিন্দা।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, উমর ২৬ অক্টোবর কাশ্মীরে গিয়েছিল। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করে জানায়, “আগামী তিন মাস যোগাযোগ করা যাবে না।” সেই বক্তব্যের ভিত্তিতেই ধারণা, বিস্ফোরণের পর গা-ঢাকা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার।
তদন্ত শুরু হয় শ্রীনগরে ১৯ অক্টোবর, যখন শহরের বিভিন্ন স্থানে জইশ সমর্থিত পোস্টার দেখা যায়। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে গ্রেফতার হয় ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল, যার সূত্র ধরেই উন্মোচিত হয় এই গোটা “হোয়াইট কলার” সন্ত্রাস মডিউল।