“আব কি বার মোদী সরকার” স্লোগানের স্রষ্টা ও বিজ্ঞাপন জগতের কিংবদন্তি পীযূষ পাণ্ডে প্রয়াত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও শিল্পপতি গৌতম আদানি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

ছবি - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 24 October 2025 15:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৭০-এ প্রয়াত বিজ্ঞাপন জগতের নক্ষত্র পীযূষ পাণ্ডে (Piyush Pandey)। দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন সংক্রমণে। ওগিলভি-র এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ও গ্লোবাল চিফ ক্রিয়েটিভ অফিসার হিসেবে চার দশকের কর্মজীবনে রেখে গেছেন অসংখ্য স্মরণীয় বিজ্ঞাপন। ফেভিকল, ক্যাডবেরি, পন্ডস, এশিয়ান পেইন্টস, পোলিও অভিযান, আরও কত নাম যে এই তালিকায় আছে!
এর মধ্যে বর্তমানে অন্যতম উল্লেখযোগ্য 'আব কি বার মোদী সরকার' (এই বার মোদী সরকার) ট্যাগলাইন ও তা থেকে হওয়া ক্যাম্পেন। যা দেশে ঝড়ে গতিতে ছড়িয়ে পড়েছিল একসময়, চলছে এখনও। যার হাত ধরে তাঁর নামে ক্যম্পেন এত জনপ্রিয়তা পায়, তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন নরেন্দ্র মোদী।
এক্স হ্যান্ডেলে লিখলেন, 'পীযূষ পাণ্ডেজি তাঁর সৃজনশীলতার জন্য প্রশংসিত হয়েছেন বহুবার। বিজ্ঞাপন ও যোগাযোগের জগতে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তাঁর সঙ্গে আমার আলাপচারিতা ও কথোপকথন মনে রাখব। প্রয়াণে দুঃখিত। পরিবার ও অনুরাগীদের প্রতি সমবেদনা রইল। ওম শান্তি।'
পাণ্ডে ১৯৮২ সালে ওগিলভিতে যোগ দেন এবং তাঁর প্রথম বিজ্ঞাপন লিখেন 'সানলাইট ডিটার্জেন্ট'-এর জন্য। পরবর্তীতে ফেভিকল, ক্যাডবেরি, পন্ডস, ভোডাফোন, এশিয়ান পেন্টস-সহ বহু বিখ্যাত ব্র্যান্ডকে ও তার ট্যাগলাইনকে মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।
স্রষ্টার প্রতিভা শুধু বিজ্ঞাপনে সীমাবদ্ধ ছিল না। ২০১৩ সালে তিনি জন আব্রাহাম অভিনীত 'মাদ্রাস ক্যাফে'তে অভিনয় করেন। এছাড়া ICICI ব্যাঙ্কের 'ম্যাজিক পেনসিল প্রজেক্ট' ভিডিওতে অংশ নেন। পাণ্ডে 'মিলে সুর মেরা তুমহারা' গানের কথাও লিখেছেন, যা ভারতের সংহতি ও বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে। তিনি 'ভোপাল এক্সপ্রেস' ছবির চিত্রনাট্যেও সহলিখক ছিলেন।
বিজ্ঞাপন জগতে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৬ সালে তাঁকে 'পদ্মশ্রী' সম্মানে ভূষিত করা হয়।
তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন শিল্পপতি গৌতম আদানি। লেখেন, 'পীযূষ পাণ্ডে কেবল একজন বিজ্ঞাপনী কিংবদন্তি ছিলেন না। তিনি সেই কণ্ঠস্বর যিনি ভারতকে নিজের গল্পের উপর বিশ্বাস করতে শেখান। ভারতীয় বিজ্ঞাপনকে আত্মবিশ্বাস, প্রাণ এবং স্বদেশি সোয়্য়াগার দিয়েছিলেন এবং তিনি খুবই ভাল বন্ধু ছিলেন! একজন মাস্টার ব্যাটসম্যানের মতো, প্রতিটি স্ট্রোক হৃদয় দিয়ে খেলতেন। আজ, ভারত একটি সত্যিকারের সন্তানকে হারালো।'