জনস্বার্থ মামলায় বলা হয়েছে, রিপোর্টে ফুয়েল-সুইচ ত্রুটি, বৈদ্যুতিক গোলযোগের মতো সিস্টেমিক সমস্যাগুলিকে আড়াল করে পাইলটের ভুলের দিকে আঙুল তোলা হয়েছে।

এয়ার ইন্ডিয়া ১৭১ বিমানের বিধ্বংসী দুর্ঘটনা এবং দুই পাইলট
শেষ আপডেট: 22 September 2025 13:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এয়ার ইন্ডিয়া ১৭১ বিমানের বিধ্বংসী দুর্ঘটনার (Ahmedabad Air India plane crash) তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে। পাইলটের ‘ফুয়েল কাট-অফ’কে (fuel cut off) কেন্দ্র করে ওঠা জল্পনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট (supreme court)। শীর্ষ আদালত কেন্দ্রীয় সরকার ও ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA)-এর কাছে এই মর্মে একটি জনস্বার্থ মামলার (PIL) জবাব চেয়েছে, যেখানে স্বাধীন তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে।
এছাড়াও আদালত বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (AAIB)-র কাছ থেকেও জবাব তলব করেছে। গত জুলাইয়ে AAIB যে প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ করে, সেখানে উল্লেখ ছিল ক্যাপ্টেন সুমিত সাবরওয়াল ও ফার্স্ট অফিসার ক্লাইভ কুন্দরের কথোপকথনের। রিপোর্টে বলা হয়, ককপিট অডিও-তে ধরা পড়েছে - এক পাইলট জিজ্ঞাসা করছেন, “Why did you cut off?” (ফুয়েল কাট-অফ করলে কেন?) অন্যজন উত্তর দিয়েছেন, “I didn’t.” (আমি করিনি)। এই বক্তব্য থেকেই জল্পনা শুরু হয় যে, ভয়াবহ ওই বিপর্যয়ে পাইলটের ভুল থাকতে পারে।
অ্যাভিয়েশন সেফটি সংস্থা সেফটি ম্যাটার্স ফাউন্ডেশন একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছে। তাদের অভিযোগ, প্রাথমিক রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছে এবং নাগরিকদের জীবন, সমতা ও সত্য তথ্য জানার মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন করেছে।
ওই জনস্বার্থ মামলায় বলা হয়েছে, রিপোর্টে ফুয়েল-সুইচ ত্রুটি, বৈদ্যুতিক গোলযোগের মতো সিস্টেমিক সমস্যাগুলিকে আড়াল করে পাইলটের ভুলের দিকে আঙুল তোলা হয়েছে।
পিটিশনারের আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট প্রশান্ত ভূষণ বলেন, “ঘটনার ১০০ দিনেরও বেশি পেরিয়ে গেল, অথচ এখনও কেবল প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে। তাতে স্পষ্টভাবে বলা নেই কী ঘটতে পারে এবং ভবিষ্যতে কী সাবধানতা নেওয়া উচিত। ফলে, এখনও বোয়িং বিমানে যাত্রীদের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।”
ভূষণ আরও দাবি করেন, দুর্ঘটনা তদন্তের জন্য গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটির মধ্যে তিনজনই DGCA-র বর্তমান কর্মী, যা ‘গুরুতর স্বার্থের সংঘাত’ তৈরি করছে। তাঁর প্রশ্ন, “যে সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, তার কর্মীরাই তদন্ত করবে কীভাবে?”
বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি এন কোটিস্বর সিং-এর বেঞ্চ জানায়, ন্যায্য তদন্তের দাবি যৌক্তিক হলেও সব তথ্য প্রকাশ্যে আনলে তদন্ত ব্যাহত হতে পারে। বিচারপতি কান্ত বলেন, “ধরা যাক, রিপোর্টে বলা হল পাইলট ‘A’ দায়ী। তাহলে তাঁর পরিবারের উপর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।”
ভূষণ উল্লেখ করেন, “রিপোর্ট সরকারকে দেওয়ার আগেই ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল লিখেছিল যে পাইলটদের দোষারোপ করা হবে। এই ফাঁসের পরেই সবাই বলতে শুরু করল, পাইলটের ভুলেই দুর্ঘটনা। অথচ তাঁরা ছিলেন অভিজ্ঞ পাইলট। বলা হচ্ছিল, তাঁরা ইচ্ছে করে ইঞ্জিনের ফুয়েল বন্ধ করেছিলেন।”
এর জবাবে বিচারপতি কান্ত মন্তব্য করেন, “এগুলি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য।” তিনি যোগ করেন, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে গোপনীয়তা অপরিহার্য।
২০২৫ সালের ১২ জুন দুপুরে আমদাবাদ থেকে লন্ডন গ্যাটউইকের উদ্দেশে রওনা হওয়া এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৭১ টেকঅফের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভেঙে পড়ে। বিমানের ১২ ক্রু-সহ ২৩০ যাত্রীর মধ্যে ২২৯ জনই মারা যান। প্লেনটি কাছের একটি মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে আছড়ে পড়ে, তাতে আরও ১৯ জনের মৃত্যু হয়। কেবল একজন যাত্রী অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান।