নবতিপর এই বৃদ্ধের অভিযোগ, এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)-এর প্রাথমিক রিপোর্টে তাঁর ছেলেকে 'অযথা দোষারোপ' করা হয়েছে। এই রিপোর্টের কারণে সুমিতের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।

ক্ষুব্ধ মৃত পাইলটের বাবা
শেষ আপডেট: 18 September 2025 14:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মৃত পাইলট সুমিত সবরওয়ালের (Sumit Sabharwal) বাবা পুষ্করাজ সবরওয়াল। নবতিপর এই বৃদ্ধের অভিযোগ, এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)-এর প্রাথমিক রিপোর্টে তাঁর ছেলেকে 'অযথা দোষারোপ' করা হয়েছে। এই রিপোর্টের কারণে সুমিতের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তাই তিনি নতুন করে তদন্তের দাবি জানিয়ে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক ও এএআইবি-র ডিরেক্টর জেনারেলকে চিঠি লিখেছেন।
চিঠিতে পুষ্করাজ সবরওয়াল লিখেছেন, 'সংবাদমাধ্যমে রিপোর্টের কিছু অংশ দেখানো হচ্ছে। যেখানে মনে হচ্ছে সুমিতের মানসিক অবস্থা ঠিক ছিল না। এতে ছেলের নাম খারাপ হচ্ছে। আমি নিজেও মানসিক চাপের মধ্যে আছি। ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর ধারা বলছে সম্মান রক্ষা সবার অধিকার। তাই আমি নতুন তদন্ত চাই।'
গত ১২ জুন আমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে টেক অফের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মেঘানিনগরে জুনিয়র চিকিৎসকদের হস্টেলে ভেঙে পড়ে (Ahmedabad Plane Crash)। বিমানের কেবল একজন যাত্রী প্রাণে বেঁচেছিলেন। দুর্ঘটনার সময় মাটিতে থাকা বহুজনের মৃত্যু হয়। টাটা গ্রুপ মৃতদের পরিবারকে এক কোটি টাকা (প্রায় ৮৫ হাজার পাউন্ড) করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করে। এছাড়া, এয়ার ইন্ডিয়াও আরও ২৫ লক্ষ টাকা (প্রায় ২১,৫০০ পাউন্ড) আর্থিক সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেয়। জানা গেছে, ইতিমধ্যেই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক ক্ষেত্রে কারণ হিসেবে উঠে এসেছিল দুই পাইলটের গাফিলতির প্রসঙ্গ। পাইলট ইচ্ছাকৃতভাবেই ইঞ্জিন বন্ধ করেছিলেন, আমদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনায় (Air India Plane Crash) এমন আশঙ্কাই প্রকাশ করেছিলেন ভারতের অন্যতম বেসরকারি বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ক্যাপ্টেন মোহন রঙ্গনাথন (Mohan Ranganathan)। তাঁর দাবি ছিল, বিমানের জ্বালানি কন্ট্রোল সুইচ (Fuel Control Switch) দু’টি একইসঙ্গে বন্ধ হয়, যা কেবলমাত্র ম্যানুয়ালি বা হাতে করা সম্ভব। কোনও সফটওয়্যার ত্রুটি বা টার্বুলেন্সের কারণে এটা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে জানা যায়, রানওয়ে ছাড়ার পরপরই বিমানের দু’টি ইঞ্জিনের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ একসঙ্গে ‘রান’ থেকে ‘কাট অফ’ অবস্থায় ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। এই সুইচগুলি ঘোরাতে যথেষ্ট জোর প্রয়োগ করতে হয়। ক্যাপ্টেন রঙ্গনাথনের মতে, বিমানের ‘ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে’ ধরা পড়েছে, এক পাইলট বলছেন, 'তুমি এটা করলে কেন?', আরেকজন বলছেন, 'আমি করিনি।' এমন কথোপকথনের মধ্যে দিয়ে তিনি আশঙ্কা করছেন, হয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা করেই পাইলটদের একজন মানসিক চাপ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করেছেন।
এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সুমিত সবরওয়ালকে 'দোষী' বলা হচ্ছে। তা নিয়েই এবার ক্ষোভ জানালেন তাঁর বাবা এবং নতুন করে তদন্তের আবেদন করলেন।