ভারত, এবং আমেরিকার তদন্ত সংস্থাগুলি এখনও দুর্ঘটনার কারণ সম্পূর্ণ নিশ্চিত করতে পারেনি। ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর প্রাথমিক রিপোর্টে ককপিটে বিভ্রান্তির কথা উঠে এসেছে। তবে এফএএ প্রধান ব্রায়ান বেডফোর্ড জুলাই মাসে বলেছিলেন, ফুয়েল কন্ট্রোল সিস্টেমের যান্ত্রিক ত্রুটি বা ভুলবশত পরিচালনা দুর্ঘটনার কারণ বলে মনে হয় না।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 18 September 2025 13:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত জুন মাসে আমেদাবাদ (Ahmedabad) থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৭১ ভেঙে পড়ে (Air India Crash) ২৬০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। নিহত যাত্রীদের মধ্যে চারজনের পরিবারের সদস্যরা এবার মার্কিন আদালতে বিমান প্রস্তুতকারক সংস্থা বোয়িং (Boeing) এবং যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক হানিওয়েলের বিরুদ্ধে মামলা (Case Filed) দায়ের করলেন। অভিযোগ, অবহেলা ও ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।
ডেলাওয়্যার সুপিরিয়র কোর্টে দাখিল হওয়া মামলায় বলা হয়েছে, বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানের ককপিটে যে 'ফুয়েল সুইচ' (Fuel Switch) ব্যবহার করা হয়েছিল, তার লকিং মেকানিজম অনায়াসে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে টেক-অফের সময় হঠাৎ জ্বালানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে ইঞ্জিনের থ্রাস্ট নষ্ট হয়ে যায়।
মামলাকারীদের তরফে অভিযোগ, ২০১৮ সালে মার্কিন ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) এই ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করার পরও বোয়িং বা হানিওয়েল কেউই ব্যবস্থা নেয়নি। অভিযোগে বলা হয়েছে - থ্রাস্ট লিভারের ঠিক পেছনে সুইচ বসিয়ে বোয়িং কার্যত নিশ্চিত করেছিল যে ককপিটে স্বাভাবিক কাজের সময়ও ফুয়েল কাট-অফ হয়ে যেতে পারে। অথচ বিপর্যয় ঠেকাতে বোয়িং ও হানিওয়েল কিছুই করেনি।
এই মামলায় নিহত চার যাত্রীর পরিবার ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছে। ২২৯ যাত্রী, ১২ জন ক্রু ও যে হস্টেলে বিমান ভেঙে পড়ে সেখানের ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল দুর্ঘটনায়। কেবল একজন যাত্রী প্রাণে বেঁচে যান।
বোয়িং আপাতত এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। হানিওয়েল সংস্থাও এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ভারত, এবং আমেরিকার তদন্ত সংস্থাগুলি এখনও দুর্ঘটনার কারণ সম্পূর্ণ নিশ্চিত করতে পারেনি। ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর প্রাথমিক রিপোর্টে ককপিটে বিভ্রান্তির কথা উঠে এসেছে। তবে এফএএ প্রধান ব্রায়ান বেডফোর্ড জুলাই মাসে বলেছিলেন, ফুয়েল কন্ট্রোল সিস্টেমের যান্ত্রিক ত্রুটি বা ভুলবশত পরিচালনা দুর্ঘটনার কারণ বলে মনে হয় না।
উল্লেখ্য, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর বোয়িংকে আইনি লড়াই ও ক্ষতিপূরণ বাবদ ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ করতে হয়েছিল। এবার এই ঘটনাতেও বড়সড় আর্থিক ধাক্কা সামলাতে হবে সংস্থাকে।
যদিও এর আগে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ ইস্যুতে নিহতদের পরিবারকে ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছিল। তবে তাঁরা সেই অভিযোগ অস্বীকার করে। বলা হয়েছিল, ফর্ম ফিলাপ নিয়ে কিছু একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়ে গেছে।