কেন্দ্রীয় বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থা AAIB-কে আইনি নোটিস পাঠিয়ে এই পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ অযৌক্তিক’ এবং ‘হয়রানিমূলক’ বলে উল্লেখ করেছে পাইলট সংগঠনটি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 15 January 2026 15:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৭১ দুর্ঘটনার (Ahmedabad Air India Plane Crash) তদন্তে প্রয়াত পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত সবরওয়ালের (Captain Sumeet Sabarwal) আত্মীয় ও এয়ার ইন্ডিয়ার কর্মরত পাইলট ক্যাপ্টেন বরুণ আনন্দকে তলব করায় তীব্র আপত্তি জানাল ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান পাইলটস (FIP)। কেন্দ্রীয় বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থা AAIB-কে আইনি নোটিস পাঠিয়ে এই পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ অযৌক্তিক’ এবং ‘হয়রানিমূলক’ বলে উল্লেখ করেছে পাইলট সংগঠনটি।
সূত্র মারফৎ জানা গেছে, ক্যাপ্টেন বরুণ আনন্দ - যিনি এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট (Air India Pilot) এবং সংগঠনের সদস্য, নিজের সংস্থার তরফে জানতে পারেন যে তাঁকে ১৫ জানুয়ারি হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। তবে ওই নোটিসে কোন আইনি ধারায়, কী উদ্দেশ্যে বা কোন ভূমিকায় তাঁকে ডাকা হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই বলেই অভিযোগ।
পাইলট সংগঠনের বক্তব্য, দুর্ঘটনার সঙ্গে কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগ না থাকা সত্ত্বেও প্রয়াত আত্মীয়ের পরিচয়ের ভিত্তিতে একজন পেশাদার পাইলটকে তলব করা মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে এটি তাঁর পেশাগত ভাবমূর্তি ও সুনামের ক্ষতি করতে পারে। সংগঠনের দাবি, এমন পরিস্থিতিতে এই ধরনের তলব অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অনভিপ্রেত।
যদিও ক্যাপ্টেন বরুণ আনন্দ জানিয়েছেন, তদন্তে সহযোগিতার স্বার্থে তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে AAIB-এর প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত।
দুর্ঘটনার পটভূমি
গত বছরের ১২ জুন লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানটি আমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়ানের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেঙে পড়ে। বিমানটি ভেঙে পড়ে মেঘানিনগরের বি জে মেডিক্যাল কলেজের একটি হোস্টেলের ওপর। দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানিও।
দুর্ঘটনার পর ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA) এয়ার ইন্ডিয়ার ড্রিমলাইনারের উপর অতিরিক্ত নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানোর নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে এয়ার ইন্ডিয়ার মালিক টাটা গোষ্ঠী নিহতদের পরিবারকে ১.২৫ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করে।
তদন্তের অগ্রগতি
AAIB-এর প্রাথমিক রিপোর্টে জানানো হয়েছিল, উড়ানের পরপরই বিমানের দুই ইঞ্জিনেই জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলেই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে সেই জ্বালানি সুইচের পরিবর্তন দুর্ঘটনাবশত নাকি ইচ্ছাকৃত - তা স্পষ্ট করা হয়নি রিপোর্টে। যদিও কিছু মহল থেকে পাইলটদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
এই আবহেই প্রয়াত পাইলটের আত্মীয়কে তলব করায় তদন্তের স্বচ্ছতা ও পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হল।