পোর্ট ব্লেয়ার থেকে মায়াবন্দরে যাওয়ার পথে যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে আন্দামান সাগরে জরুরি অবতরণ পবন হংস হেলিকপ্টারের। ৭ আরোহীই নিরাপদ।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 24 February 2026 18:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিকে ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশি, আর অন্যদিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ক্রমশ নীচে নেমে আসা হেলিকপ্টার (Helicopter emergency landing)। মঙ্গলবার সকালে আন্দামান উপকূলে (Andaman Sea) আছড়ে পড়ল পবন হংস হেলিকপ্টার (Pawan Hans)। বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেল হেলিকপ্টারটি। ৫ জন আরোহী এবং ২ জন ক্রু সদস্য মিলিয়ে মোট ৭ জনকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ পোর্ট ব্লেয়ার (বর্তমান শ্রী বিজয়া পুরম) থেকে মায়াবন্দরের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছিল পবন হংসের ওই হেলিকপ্টারটি। গন্তব্য মায়াবন্দর হেলিপ্যাডের কাছাকাছি পৌঁছানোর সময়ই হঠাৎ বড়সড় প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখে পড়ে কপ্টারটি। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে পাইলটরা মাঝ সমুদ্রেই ‘নিয়ন্ত্রিত জরুরি অবতরণ’ (Controlled Emergency Landing) করানোর সিদ্ধান্ত নেন।
তীরে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, উপকূলরেখা থেকে কিছুটা দূরে হেলিকপ্টারটিকে ধীরে ধীরে জলের দিকে নেমে যেতে দেখা যায়। সেই দৃশ্য ছিল যেমন উত্তেজনার, তেমনই ভয়ের। তবে পাইলটদের দক্ষতায় শেষ পর্যন্ত বড় কোনও বিপর্যয় ঘটেনি। আরোহীদের মধ্যে একটি শিশুও ছিল। পবন হংসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজে দ্রুততা দেখানোয় কাউকেই চোট পেতে হয়নি। সকলেই নিরাপদ রয়েছেন।

আন্দামানের এই রুদ্ধশ্বাস ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দিল্লির আকাশে তৈরি হয় আরও এক আতঙ্ক। লেহ-র উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া স্পাইস জেটের ‘এসজি ১২১’ (SG121) ফ্লাইটে মাঝ আকাশে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে।
বোয়িং ৭৩৭ বিমানে প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ছিলেন। উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই পাইলট লক্ষ্য করেন বিমানের ইঞ্জিনে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিন্দুমাত্র ঝুঁকি না নিয়ে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে মাঝ আকাশ থেকেই বিমানটিকে ঘুরিয়ে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দিল্লি বিমানবন্দরে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন যাত্রীরা। সকলকেই স্বাভাবিকভাবে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কেন ইঞ্জিনে এই ত্রুটি দেখা দিল, তা খতিয়ে দেখছে কারিগরি দল।