ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, দুই জুনিয়র ডাক্তার ভূপেশ কুমার রাই ও অনিকেত দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও ঘুমিয়ে ছিলেন। একটি ফ্রেমে দেখা গিয়েছে, এক মহিলা কোলে বাচ্চা ও হাতে প্রেসক্রিপশন নিয়ে ডাক্তারকে জাগানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু ঘুম ভাঙছে না।
.jpeg.webp)
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 29 July 2025 12:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাসপাতালে শুয়ে কাতরাচ্ছেন পথদুর্ঘটনায় আহত এক ব্যক্তি, পা থেকে গলগল করে বেরোচ্ছে রক্ত। পাশেই কর্তব্যরত চিকিৎসক আরামে শুয়ে ঘুমোচ্ছেন, পা তুলে রেখেছেন টেবিলের উপর। ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের মীরাটের লালা লাজপত রায় মেমোরিয়াল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের। গোটা ঘটনাটি ধরা পড়েছে সিসিটিভি ক্যামেরায়, আর সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ।
মৃত ব্যক্তির নাম সুনীল। সোমবার সন্ধ্যায় পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে পুলিশ উদ্ধার করে মীরাটের ওই সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার জরুরি বিভাগে ভরতি করা হলেও, পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ রক্তাক্ত অবস্থায় স্ট্রেচারে শুয়ে কাতরাচ্ছিলেন সুনীল, চিকিৎসা তো দূর, কোনও চিকিৎসক খোঁজও নেননি।
ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, দুই জুনিয়র ডাক্তার ভূপেশ কুমার রাই ও অনিকেত দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও ঘুমিয়ে ছিলেন। একটি ফ্রেমে দেখা গিয়েছে, এক মহিলা কোলে বাচ্চা ও হাতে প্রেসক্রিপশন নিয়ে ডাক্তারকে জাগানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু ঘুম ভাঙছে না। অন্যদিকে, সুনীল তখনও রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায় পড়ে কাতরাচ্ছেন।
ঘটনার সময় ডিউটির ইন-চার্জ চিকিৎসক ডঃ শশাঙ্ক জিন্দল হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন না। তদন্তে তিনি দাবি করেন, 'আমি যখন পরিবার ও রোগীর শারীরিক অবস্থার কথা জানতে পারি, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যাই ও জরুরি চিকিৎসা শুরু করি, IV ফ্লুইড ও কাস্ট দেওয়া হয়। যদিও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।'
टेबल पर पैर फेंक डॉक्टर साहब सो रहे हैं, उधर मरीज तड़प तड़प मर गया. ये असंवेदनशीलता की पराकाष्ठा नहीं तो क्या है ?
यह इंसान डॉक्टरों के नाम पर कलंक है, घटना मेरठ के LLRM मेडिकल कॉलेज की है, जहां हादसे में घायल सुनील तड़प तड़प कर मर गया और डॉक्टर सोते रहे pic.twitter.com/kqcZMHy3Ab— Priya singh (@priyarajputlive) July 28, 2025
পরদিন সকাল ৭টা নাগাদ মৃত্যু হয় সুনীলের। পরিবার দাবি করেছে, চিকিৎসায় গাফিলতির জন্যই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে ডঃ জিন্দল জানিয়েছেন, রোগীর অবস্থা হাসপাতালে আনার আগেই অত্যন্ত সংকটজনক ছিল।
ঘটনা জানাজানি হতে পদক্ষেপ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কলেজের প্রিন্সিপাল ডঃ আর সি গুপ্ত বলেন, 'ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, এক জুনিয়র ডাক্তার রোগীর আর্তি সত্ত্বেও ঘুমিয়ে রয়েছেন। দু’জন ডাক্তারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।'
জেলা শাসককেও বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের এই গাফিলতি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে উঠেছে নিন্দার ঝড়। চিকিৎসা ব্যবস্থার মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।