২০২০ সালে চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুলেছিলেন শিক্ষিকা। কার্যত তার পর থেকেই হাঁটাচলা বন্ধ হয়ে যায় তাঁর। অথচ আজও প্রতিদিন প্রায় আট ঘণ্টা ধরে স্কুলে ক্লাস নেন চন্দ্রকান্তা।

চন্দ্রকান্তা জেঠওয়ানি
শেষ আপডেট: 25 July 2025 16:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শরীরে সীমাহীন যন্ত্রণা। দীর্ঘ বছর ধরে তার সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন এই শিক্ষিকা। কিন্তু এবার তিনি নিজেই রেহাই পেতে চান। তাই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে (Prez Droupadi Murmu) চিঠি লিখে স্বেচ্ছামৃত্যুর (Euthanasia) অনুমতি চেয়েছেন। কথা হচ্ছে, মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) এক সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা (Teacher) চন্দ্রকান্তা জেঠওয়ানির (৫২)।
গত চার বছর ধরে হুইলচেয়ারে জীবন কাটাচ্ছেন চন্দ্রকান্তা। দুর্লভ হাড়ের রোগ ‘অস্টিওজেনেসিস ইমপারফেক্টা’য় আক্রান্ত তিনি। পায়ের নিচ থেকে সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতগ্রস্ত। রাষ্ট্রপতিকে স্বেচ্ছামৃত্যু আবেদন করে চিঠিতে (Letter) তিনি লিখেছেন, “আমি আত্মহত্যা করব না। কারণ, আমি আমার ছাত্রছাত্রীদের সাহসের সঙ্গে বাঁচতে শেখাই। কিন্তু এখন আমার শরীর আর নিতে পারছে না। ব্যথা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। তাই আমি স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করছি, যাতে মৃত্যুর পর আমার অঙ্গগুলি অন্য কাউকে নতুন জীবন দিতে পারে।”
২০২০ সালে চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুলেছিলেন শিক্ষিকা। কার্যত তার পর থেকেই হাঁটাচলা বন্ধ হয়ে যায় তাঁর। অথচ আজও প্রতিদিন প্রায় আট ঘণ্টা ধরে স্কুলে ক্লাস নেন চন্দ্রকান্তা। তবে বেঁচে থাকার মতো শারীরিক শক্তি আর অবশিষ্ট নেই — এই কথাই রাষ্ট্রপতির কাছে তাঁর আবেদনে উঠে এসেছে।
জেঠওয়ানি একা থাকেন। পরিবারে আর কেউ নেই। নিজের জমি ছ’জন দরিদ্র পড়ুয়ার নামে লিখে দিয়েছেন। মৃত্যুর পর অঙ্গদানের জন্য অনুমতিও দিয়ে রেখেছেন ইন্দোরের এমজিএম মেডিক্যাল কলেজে। তাঁর কথায়, “আমার অঙ্গগুলি আমার কোনও কাজে আসবে না, কিন্তু যদি কারও চোখে আলো এনে দিতে পারে, তাহলে এরা হিরের থেকেও দামি।”
চন্দ্রকান্তার স্কুলের প্রধান শিক্ষক সখারাম প্রসাদ জানিয়েছেন, তাঁরা অবাক হয়েছেন। তাঁর কথায়, “চন্দ্রকান্তা ম্যাডাম অসাধারণ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। ওঁর স্বাস্থ্যগত সমস্যা জানি ঠিকই, কিন্তু স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করবেন, ভাবিনি। ওঁর বিজ্ঞান পড়ানোর ভঙ্গি ছাত্রছাত্রীদের অনুপ্রাণিত করে।”
স্বেচ্ছামৃত্যু কী?
এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে কোনও ব্যক্তি অসহনীয় ব্যথা ও দুরারোগ্য রোগে ভোগার কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যুর অনুমতি চান, যাতে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এটি এক বিতর্কিত ও আইনি ইস্যু। ভারতের মতো দেশে এখনও এর কোনও অনুমতি।