মঙ্গলবার, ২৭ মে যেমন ছিল বাপুজির সুযোগ্য শিষ্য এবং নয়া স্বাধীন ভারতের রূপকার জওহরলাল নেহরুর ৬১-তম মৃত্যুদিন।

মঙ্গলবার ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর ৬১-তম মৃত্যুদিবস।
শেষ আপডেট: 27 May 2025 16:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁকে কেউ বলত পণ্ডিতজি, কেউ বলত নেহরুজি। আবার কেউ ডাকতেন জওহর নামেই। কিন্তু, শুধু দেশের কেন, বিদেশের বাচ্চারাও তাঁকে চিনত চাচা নেহরু নামে। তাঁদের কাছে তিনি ছিলেন ‘চাচাজি’। সে কারণেই ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর জন্মদিনটিকে শিশুদিবস হিসেবে পালন করা হয়। ছুটিছাটা, উৎসব-আমোদ-অনুষ্ঠানের জন্য সকলের কাছে মনে থাকে জন্মদিনটি। কিন্তু, নেহরুর মৃত্যুদিনটি অনাড়ম্বরে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা, কংগ্রেস দল, তাঁর পরিবারের সদস্য সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীর কয়েক লাইনের স্মৃতিকথার বাগাড়ম্বরের ভিতর দিয়ে চলে যায়, কেউ নজরেও আনে না। মঙ্গলবার, ২৭ মে যেমন ছিল বাপুজির সুযোগ্য শিষ্য এবং নয়া স্বাধীন ভারতের রূপকার জওহরলাল নেহরুর ৬১-তম মৃত্যুদিন।
নেহরুকে নিয়ে অসংখ্য কাহিনি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে দেশে। কিছু সুনাম, অনেক দুর্নাম সবই কুড়িয়েছেন জীবিত অথবা মৃত্যুর পরেও। সেরকমই একটি হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া কাহিনি হল তাঁর শিশুপ্রেমের অনন্য নিদর্শন। সালটা ছিল ১৯৪৯। মাসটা অক্টোবর। দেশে সবে স্বাধীনতার জন্ম হয়ে ভারত হামাগুড়ি দিচ্ছে ২ বছরের শিশুর মতো। নেহরুর দফতরে একটি চিঠি এল সুদূর জাপান থেকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দগদগে ঘা তখনও মোছেনি।
মিত্রশক্তির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত, বিশেষত আমেরিকার পরমাণু বোমার হামলায় জাপান উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। জাপানের সঙ্গে তখন বন্ধুত্বের হাত বাড়ানোর অর্থ আমেরিকা সহ ইউরোপীয় দেশগুলির বিষনজরে পড়া। সেই অবস্থার মধ্যেও নেহরু চিঠি পেলেন জাপান থেকে। সেখানকার একটি স্কুলের বাচ্চারা তাঁকে চিঠি লিখেছে। জাপানি কচিকাঁচাদের আবদার চাচা নেহরুর কাছে। তাদের একটি হাতি চাই। কারণও সেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দুঃসহ হামলা।
বাচ্চারা লিখেছে, যুদ্ধের বোমায় টোকিওর উয়েনো চিড়িয়াখানার সব হাতি মরে গিয়েছে। একটাও হাতি নেই সেখানে। হাতি ছাড়া কি চিড়িয়াখানা দেখা সম্পন্ন হয়। বাচ্চাদের আশ মেটে! জাপানি বাচ্চাদের সেই আবদারে মুগ্ধ হয়ে গেলেন নেহরু। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাদের জন্য একটি হাতি বাছাই করলেন উপহার দেওয়ার জন্য। নেহরু-কন্যা ইন্দিরার নামে হাতিটির নাম। অবশেষে সাগর পেরিয়ে সেই ইন্দিরা রওনা দিল জাপানের রাজধানী টোকিওতে।
হাতি পাঠানোর সঙ্গেই ইন্দিরা শুঁড়ে করে নিয়ে গেল জওহরলাল নেহরুর লেখা একটি চিঠিও। তাতে নেহরু লিখেছিলেন, প্রিয় বাচ্চারা, তোমাদের জন্য আমাদের দেশের একটি হাতি পাঠাতে পেরে আমি খুবই খুশি। তোমরা যেমনটি চেয়েছিলে তেমনই করেছি। এটা খুবই ভাল হাতি। তোমরা একে আমার উপহার হিসেবে মনে করো না। একে ভারতের শিশুদের পাঠানো জাপানের শিশুদের পাঠানো উপহার মনে করবে।
নেহরু আরও লেখেন, গোটা দুনিয়ার শিশুরা কমবেশি একরকম। তারা প্রত্যেকে প্রত্যেককে ভালবাসে। কখনও কখনও ঝগড়াঝাঁটি হয় ঠিকই, তাতেও তাদের বন্ধুত্বে খামতি ঘটে না। আমরা সেই বিবাদের সম্পর্ক বন্ধ করতে চাই। আমার ধারণা ভারত ও জাপানের এই শিশুরা যখন বড় হয়ে উঠবে, তখন তারা কেবল তাদের দেশের জন্যই নয়, এশীয় সব দেশগুলিতে শান্তি বজায় রাখার কাজ করবে।