Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

আমেরিকায় পালক পনির নিয়ে প্রতিবাদী ঢেউ ঊর্মি ভট্টাচার্যর, আদায় ১.৮ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের মামলা জিতে প্রায় ১.৮ কোটি টাকা (২ লক্ষ ডলার) ক্ষতিপূরণ পেলেন আদিত্য প্রকাশ ও ঊর্মি ভট্টাচার্য নামে দুই ভারতীয় পিএইচডি পড়ুয়া।

আমেরিকায় পালক পনির নিয়ে প্রতিবাদী ঢেউ ঊর্মি ভট্টাচার্যর, আদায় ১.৮ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ

আদিত্য প্রকাশ ও ঊর্মি ভট্টাচার্য নামে দুই ভারতীয় পিএইচডি পড়ুয়া।

শুভেন্দু ঘোষ

শেষ আপডেট: 14 January 2026 16:55

দ্য ওয়াল ব্যুরো: খাবারের ‘সুগন্ধ’ বনাম বর্ণবিদ্বেষ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের মামলা জিতে প্রায় ১.৮ কোটি টাকা (২ লক্ষ ডলার) ক্ষতিপূরণ পেলেন আদিত্য প্রকাশ ও ঊর্মি ভট্টাচার্য নামে দুই ভারতীয় পিএইচডি পড়ুয়া। পাশাপাশি ফিরে পেলেন তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সম্মানও।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালে। কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ববিদ্যা বিভাগে গবেষণা করছিলেন আদিত্য প্রকাশ (বর্তমানে বয়স ৩৪)। ৫ সেপ্টেম্বর২০২৩ সালে আদিত্য নৃতত্ত্ব বিভাগের সকলের ব্যবহারযোগ্য মাইক্রোওভেনে নিজের দুপুরের খাবার পালক (পালং) পনির গরম করছিলেন। সেই সময় এক মহিলা কর্মী এসে খাবারের ‘গন্ধ’ নিয়ে আপত্তি তোলেন এবং আদিত্যকে মাইক্রোওভেন ব্যবহার না করতে বলেন।

আদিত্য জানানওই কর্মী খাবারের গন্ধকে “অসহ্য” বলে মন্তব্য করেন। আদিত্য পাল্টা যুক্তি দেন— এটি একটি কমন স্পেসতাই সেখানে তাঁরও সমান অধিকার রয়েছে। তিনি বলেন, আমার খাবার আমার দেশের গর্ব। কোন গন্ধ ভালো বা খারাপ— এটা নিজ নিজ কালচারের বিষয়। তাঁর দাবিএক ফেসিলিটি স্টাফ আরও বলেনব্রকোলি গরম করাও নাকি নিষিদ্ধকারণ তারও তীব্র গন্ধ আছে। আদিত্য তখন প্রশ্ন তোলেন— কতজন মানুষকে চেনেন, যাঁরা ব্রকোলি খাওয়ার জন্য বর্ণবিদ্বেষের শিকার হন?

এই ঘটনার পর পরিস্থিতি দ্রুত ঘোরাল হয়। আদিত্যের সঙ্গী উর্মি ভট্টাচার্য (৩৫) তাঁর পাশে দাঁড়ান। অভিযোগকিচেন বিতর্কের পর থেকেই দু’জনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু হয়। আদিত্যের দাবিতাঁকে বারবার সিনিয়র ফ্যাকাল্টিদের বৈঠকে ডাকা হয় এবং বলা হয়— তিনি নাকি ওই মহিলা কর্মীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন, যাতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

ঊর্মি ভট্টাচার্য জানানআদিত্যকে সমর্থন করার কারণে তাঁকে কোনও ব্যাখ্যা ছাড়াই টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়। শুধু তাই নয়, দু’জনেরই অভিযোগপিএইচডির পথে যে মাস্টার্স ডিগ্রি দেওয়ার নিয়ম রয়েছেবিশ্ববিদ্যালয় তা ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে দেয়। সেখান থেকেই আইনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।

কলোরাডো জেলার মার্কিন জেলা আদালতে দায়ের করা মামলায় আদিত্য ও ঊর্মি অভিযোগ করেন, কিচেনের ঘটনার পর তাঁদের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক-বিদ্বেষপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা হয়যা তাঁদের পড়াশোনায় মারাত্মক প্রভাব ফেলে। মামলায় বলা হয়ভারতীয় খাবারকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিক্রিয়া আসলে আন্তর্জাতিক পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে গভীর বিদ্বেষী পক্ষপাতেরই প্রতিফলন।

অবশেষে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মামলা মিটমাটে সম্মত হয় কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়। আদিত্য প্রকাশ ও ঊর্মি ভট্টাচার্যকে দেওয়া হয় ২ লক্ষ ডলার ক্ষতিপূরণ এবং তাঁদের মাস্টার্স ডিগ্রিও প্রদান করা হয়। তবে শর্ত হিসেবে ভবিষ্যতে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁদের আর পড়াশোনা বা চাকরির সুযোগ থাকবে না। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট করে ঊর্মি ভট্টাচার্য এই আইনি জয়ের কথা প্রকাশ্যে জানান। তিনি লেখেন, এই বছর আমি লড়েছি—নিজের খাবার খাওয়ার স্বাধীনতার জন্য, প্রতিবাদের অধিকারের জন্য। আমার গায়ের রংজাতিগত পরিচয় বা ভারতীয় উচ্চারণ— কোনও কিছুর তোয়াক্কা না করেই। পোস্টে তিনি আরও লেখেনএই লড়াইয়ে তাঁকে মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়তে হয়েছে। আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাসে আঘাত এসেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর ঘোষণা— আমি অন্যায়ের কাছে মাথা নোয়াব না। আমি চুপ থাকব না।


```