বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে শুরু হওয়া পাকিস্তানের সেই নারী নির্যাতন এখনও সেদেশে সংখ্যালঘুদের উপর চলছে বলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাবি করল নয়াদিল্লি।

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মহিলাদের উপর যৌন অপরাধ চলছে।
শেষ আপডেট: 20 August 2025 12:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে মুক্ত বিতর্কসভায় ১৯৭১ সাল থেকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মদতে যৌন হিংসার বিবরণ তুলে ধরল ভারত। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে শুরু হওয়া পাকিস্তানের সেই নারী নির্যাতন এখনও সেদেশে সংখ্যালঘুদের উপর চলছে বলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাবি করল নয়াদিল্লি। রাষ্ট্রসঙ্ঘে নিযুক্ত ভারতের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স এল্ডোজ ম্যাথু পুন্নুস পাকিস্তানের নারী নির্যাতনের ইতিহাস তুলে ধরেন মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়)।
প্রতিবেশী দেশকে অভিযোগের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে পুন্নুস বলেন, পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মহিলাদের উপর যৌন অপরাধ চলছে। এই নির্যাতনের কাজকারবার উদ্বেগজনক অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। বিশ্বসভায় ভারত বলেছে, পাকিস্তান নিজেকে মানবাধিকারের সর্বোচ্চ ধারক-বাহক বলে প্রচার করে থাকে। কিন্তু, তাদের নিজেরই অত্যন্ত নিন্দনীয়, লজ্জাজনক অতীত রয়েছে। ’৭১-এর বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে মহিলাদের উপর যৌন নির্যাতনের যে ঘৃণ্য-জঘন্য অপরাধ সেদেশের সেনাবাহিনী করেছিল, আজও তা কোনও শাস্তিবিধান ছাড়াই চলছে।
’কনফ্লিক্ট রিলেটেড সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স’ শীর্ষক একটি খোলা আলোচনায় পাকিস্তানের মানবাধিকার সম্পর্কে দুমুখো নীতির কথাও তুলে ধরেন পুন্নুস। তিনি বলেন, নির্বিচারে অপহরণ, নারী পাচার, ছোট ছোট মেয়েদের জোর করে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে দেওয়া ও ঘরে দাসীর মতো খাটানো, যৌন হিংসা চলছে সেদেশে। ধর্ম ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিকেশ করে ফেলতে মহিলা ও নাবালিকাদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে পাকিস্তান। এটা শুধু কথার কথা বা দাবি নয়, এগুলি সংবাদে রয়েছে, তথ্য রয়েছে এমনকী সাম্প্রতিক OHCHR-এর রিপোর্টও তাই বলছে।
পুন্নুসের দাবি, পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থাও মহিলাদের উপর এ ধরনের অপরাধকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। তিনি বলেন, এটা আশ্চর্যে যারা নিজের দেশে এরকম ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে, তারাই হাটের মাঝে বুক বাজিয়ে মানবাধিকার রক্ষা ও সুবিচারের বড়াই করে বেড়াচ্ছে। পাকিস্তানের এই দুমুখো নীতি ও ভন্ডামি এখন সুস্পষ্টভাবে ধরা পড়ে গিয়েছে, বলেন পুন্নুস। তিনি আরও বলেন, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যৌন হিংসার ঘটনা কেবলমাত্র ব্যক্তিগত জীবন ও সম্মানহানি করে তাই নয়, গোটা সমাজের ভিতর একটা আতঙ্ক তৈরি করে। যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলতে থাকে। এর থেকে উদ্ধারের উপায় বাতলে তিনি বলেন, নির্যাতিতাকে সামাজিক সুরক্ষা দিতে হবে এবং অপরাধীকে চরম থেকে চরমতম শাস্তি দেওয়াই বিধান হোক।