গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এই সম্ভাব্য হামলার সাঙ্কেতিক নাম রাখা হয়েছে ‘২৬-২৬’। সূত্র জানাচ্ছে, জঙ্গিরা অযোধ্যার রামমন্দির (Ram Temple in Ayodhya) এবং জম্মুর রঘুনাথ মন্দির (Raghunath Temple in Jammu) সহ একাধিক ধর্মীয় স্থান ও শহরকে নিশানা করতে পারে।

এই হামলার ছক কষা হচ্ছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর ফন্দিতে।
শেষ আপডেট: 21 January 2026 18:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৬ জানুয়ারির (Republic Day) আগে বা ওই দিনেই বড়সড় জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় বুধবার দিল্লি জুড়ে হাই অ্যালার্ট (high alert) জারি করেছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এই সম্ভাব্য হামলার সাঙ্কেতিক নাম রাখা হয়েছে ‘২৬-২৬’। সূত্র জানাচ্ছে, জঙ্গিরা অযোধ্যার রামমন্দির (Ram Temple in Ayodhya) এবং জম্মুর রঘুনাথ মন্দির (Raghunath Temple in Jammu) সহ একাধিক ধর্মীয় স্থান ও শহরকে নিশানা করতে পারে।
নিরাপত্তা সংস্থার দাবি, এই হামলার ছক কষা হচ্ছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর ফন্দিতে। জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed) এবং পাঞ্জাবভিত্তিক গ্যাংস্টারদের সাহায্য নিয়ে এই চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত নভেম্বর মাসে লালকেল্লার (Red Fort) বাইরে যে গাড়িবোমা হামলায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল, তার পিছনেও জইশ-ই-মহম্মদের হাত ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
সাধারণতন্ত্র দিবস উদ্যাপনের আগে দিল্লি ও এনসিআর (NCR)-এর বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে বাসস্ট্যান্ড ও রেল স্টেশনের মতো ঢোকা ও বেরনোর পয়েন্টে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের পোস্টার টাঙানো হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে দিল্লির চৌহান বাঙ্গের (Chauhan Banger) বাসিন্দা মহম্মদ রেহান (Mohd Rehan)। ২০১৬ সালে উত্তরপ্রদেশের সম্ভলে (Sambhal) আল কায়েদার (Al Qaeda) একটি মডিউল ধরা পড়ার পর থেকেই সে গা ঢাকা দিয়েছে। তালিকায় আরও রয়েছে মহম্মদ উমর (Mohd Umar), আবু সুফিয়ান (Abu Sufiyan), মহম্মদ শাহিদ ফয়জল (Mohd Shahid Faisal), সৈয়দ আরশিয়া (Syed Arshiya) এবং শারজিল আখতার (Sharjeel Akhtar)।
প্রতি বছরই সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে সতর্কতা জারি থাকে, তবে এ বছর গোয়েন্দা সতর্কবার্তার পর নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে খলিস্তানি জঙ্গি সংগঠনগুলির (Khalistani terrorist organisations) সম্ভাব্য হামলা এবং পাঞ্জাবের অপরাধী চক্রকে ‘ফুট সোলজার’ হিসেবে ব্যবহার করার আশঙ্কা নিয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি উদ্বিগ্ন। সাম্প্রতিক রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, কাশ্মীরভিত্তিক রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের (Resistance Front) সঙ্গে যুক্ত একটি জঙ্গি ইউনিট ‘ফ্যালকন স্কোয়াড’ (Falcon Squad)-এর হুমকিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এই সংগঠনটিকে লস্কর-ই-তোইবা (Lashkar-e-Taiba)-রই একটি শাখা বলে মনে করা হয়।
২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা (Article 370) বাতিল হওয়ার পর এই গোষ্ঠীর সক্রিয়তা বেড়েছে। গত বছরের এপ্রিলে পহলগাঁমে (Pahalgam) যে ভয়াবহ হামলায় ২৬ জন নিহত হন, তাঁদের বেশিরভাগই ছিলেন সাধারণ নাগরিক। তার পিছনেও এই গোষ্ঠীর হাত ছিল বলে জানান তদন্তকারীরা। সেই হামলার পর ভারত চালিয়েছিল সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor)।
গত সপ্তাহে লস্কর-ই-তোইবার এক শীর্ষ কমান্ডার প্রকাশ্যে ঘৃণামূলক বক্তব্য রেখে জম্মু ও কাশ্মীরে হিংসায় উসকানি দেয়। পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK)-এ হওয়া এক অনুষ্ঠানের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে আবু মুসা কাশ্মীরি (Abu Musa Kashmiri)-কে বলতে শোনা যায়, “হিন্দুদের গলা কেটে তবেই স্বাধীনতা আসবে।” গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, পহলগামে হামলার আগেও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিল এই জঙ্গি নেতা। ফলে নতুন এই ভিডিওটিকে আরও বড় কোনও জঙ্গি ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।